23/08/2026
সবাই বলে গাঁথুনীর জয়েন্টে ১০–১২ মিমি মসলা (cement-sand mortar) ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু কেন?
❓এর থেকে বেশি দিলে কি সমস্যা?
❓এর থেকে কম দিলে কি সমস্যা?
চলুন আজকে এই বিষয়ে হালকা আলোকপাত করি।
----------------------------------------------------------
সঠিক জয়েন্ট (১০–১২ মিমি) ব্যবহারের কারণ:
✅সমতল ও সোজা গাঁথুনি: কাজের ফিনিশিং উন্নত হয় এবং পরবর্তীতে প্লাস্টার/ফিনিশিং ভালো হয়।
✅পর্যাপ্ত বন্ধন: ইটের সাথে শক্তভাবে আটকে স্ট্রাকচারের সমন্বয় তৈরি করে।
✅লোড ডিস্ট্রিবিউশন: মসলা চাপ সমানভাবে ছড়িয়ে দেয়, ফলে দেয়ালের শক্তি বৃদ্ধি পায়।
✅শিয়ার ও কম্প্রেশন: সঠিক পুরুত্ব দেয়ালের শিয়ার ও কম্প্রেশন সহনশীলতা নিশ্চিত করে।
✅টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী: সঠিক জয়েন্টে পানি প্রবেশের সুযোগ কম থাকে, ফলে স্থায়িত্ব বাড়ে।
----------------------------------------------------------
📌এর বেশি (১২ মিমির বেশি) হলে অসুবিধা:
----------------------------------------------------------
⚠️শক্তি কমে যায়: বেশি মোটা জয়েন্ট শুকানোর সময় সংকোচন হয়ে ক্র্যাক হয়, ফলে বন্ধন দুর্বল হয়।
⚠️সেটেলমেন্টের ঝুঁকি: বেশি মসলা বসে যায়, ফলে দেয়ালে অসমানতা ও দুর্বলতা দেখা দেয়।
⚠️পানির ঝুঁকি বৃদ্ধি: মোটা জয়েন্টে পানি ধরে রাখার প্রবণতা বেশি, ফলে ড্যাম্প ও স্যাঁতসেঁতে সমস্যা হয়।
⚠️উপকরণের অপচয়: অপ্রয়োজনীয় মসলা ব্যবহারে খরচ বাড়ায় এবং কাজের গুণগতমান কমায়।
⚠️দেয়ালের লোড বহন ক্ষমতা কমে যায়: বেশি মোটা জয়েন্টে লোড সঠিকভাবে বহন করতে পারে না।
----------------------------------------------------------
📌 এর কম (১০ মিমির কম) হলে অসুবিধা:
----------------------------------------------------------
⚠️পর্যাপ্ত বন্ধন হয় না: ইটের সাথে ভালোভাবে আটকে না, ফলে জয়েন্ট দুর্বল হয়।
⚠️অসম্পূর্ণ ফিলিং: মসলা পুরো জয়েন্ট ফিল না হলে ফাঁকা থেকে যায়, যা দেয়ালের শক্তি কমায়।
⚠️ক্র্যাক ও ডিফেক্ট: পাতলা জয়েন্টে খালি স্পেসগুলো সমানভাবে না পেয়ে ফাটল ধরতে পারে।
⚠️পানির প্রবেশ সহজ হয়: ফাঁকা জয়েন্ট দিয়ে পানি ঢুকে ভেতরের ইট ও মসলা ক্ষতিগ্রস্ত করে।
⚠️কাজের মান খারাপ: দেয়াল সোজা ও সমতল হয় না, পরবর্তীতে প্লাস্টার/ফিনিশিং সমস্যা হয়।
----------------------------------------------------------
💡 সারাংশ:
গাঁথুনীর জয়েন্টে ১০–১২ মিমি মসলা ব্যবহার করা ইট ও মর্টারের মধ্যে সর্বোচ্চ বন্ধন, শক্তি, স্থায়িত্ব এবং লোড বিতরণের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে। এর বেশি বা কম হলে দেয়ালের স্ট্রাকচারাল ইন্টিগ্রিটি ও স্থায়িত্ব উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সহজ ভাবে বললে মসলা কখনো ইটের মত চাপশক্তি বহন করতে পারেনা, মসলার পুরুত্ব যত বেশি হবে গাঁথুনী তত দুর্বল।