16/10/2025
অশ্লীল চিন্তা আসলে করণীয়ঃ
আমাদের বেশিরভাগ বদ আমল বা গুনাহের কাজ শুরু
করি অসৎ চিন্তা দিয়ে।
এর জন্য কি কোন টিপস আছে?
যা আমাদের অশ্লীল চিন্তা মুক্ত রাখতে সহায়তা হবে?
প্রথম কথা হলো এটা অন্ততরের যিনা,যা কবিরা গুনাহ বলে বিবেচিত।।
আমরা সচরাচর খারাপ চিন্তা থেকে অসৎ কাজে লিপ্ত হই।
যেমন নির্জনে গিয়ে পর্ণ দেখা,হস্তমৈথুন করা,এর চেয়ে
আরো জঘন্য কাজে লিপ্ত হওয়া।
এসব কিছুর মূলে হলো অসৎ চিন্তা। আপনি যখন একা
হলেন তখন শয়তান আপনাকে বলবে;
এই যে তোমার আশেপাশে তো কেউ নেই, কিছু একটা
করো। এখন তো কেউ দেখবেনা।
তখন আপনি নিজের এই বলে শান্তনা দিলেন,যাক আজ
একটু করে করি বা দেখি,এর পরেই পুরোপুরি ভালো হয়ে
যাবো।এইতো সামনে রমজান আসতেছে,তখন একেবারে
সবকিছু ছেড়ে দিবো।
এভাবে আপনি বারবার শয়তানকে সুযোগ করে দিচ্ছেন
আপনার অন্তরে বাসা তৈরী করার জন্য।
কিছু পয়েন্ট আকারে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করলে হয়ত বুঝতে সহজ হবে ।
অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করুন-
আপনার কাজিন,গার্লফ্রেন্ড,ক্লাসমেট,সমবয়সী, বয়সে বড়
কেউ হতে পারে।
যাদের চরিত্র ভালো নয় তাদের ত্যাগ করুন এককথায়।
আপনি ভালো কিন্তু আপনার বন্ধু খারাপ, তাই আপনি মনে করছেন আপনি খারাপ হবেননা।এটা ভুল ধারণা আসলে। যখন আপনার বন্ধু আপনার সাথে তার গফ বা আরো অশ্লীল কথাবার্তা বলবে তখন আপনার একদিন বা দুদিন পর এই কথা গুলো আপনারাও ভালো লাগতে শুরু করবে। আপনি হয়ত জানেন নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কথার মধ্যে গোপন আনন্দ পাওয়া যায়।তাই যখন তারা আপনার
সামনে নারী চরিত্র বা আরো কিছু নিয়ে কথা বলবে তখন
তা আপনার মাথায় সেট হয়ে যাবে।।
যখন আপনি একাকিত্ব থাকবেন, তখন এই কথা গুলো
আপনার মাথায় কাজ করবে।তখন আপনি যেকোনো ঘটনা সংগঠিত করতে পারেন।
হয়ত আপনি উত্তেজিত হয়ে পর্ণ দেখার আগ্রহ পোষণ
করবেন বা হস্তমৈথুন করার জন্য চেষ্টা করবেন।
দেখুন এই কাজ গুলোর শুরু কিন্তু অসৎ সঙ্গ এর পর অসৎ চিন্তা।
তাই আল্লাহ হারাম করছেন হারাম পথে যাওয়ার কারণ সহ।
রোগি দেখতে যান -
আরো গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো রোগি দেখতে যাওয়া।এতে
আপনার অন্তরে পরকালের প্রতি তৈরী হবে।অশ্লীল চিন্তা
থেকে নিজেকে বাঁচাতে সহায়ক হবে আশা করি।
কবর যিয়ারত করুন-
পরকালের প্রতি ভয় মানুষকে গুনাহ থেকে বাঁচাতে পারে।
এই জন্য বেশি বেশি কবর যিয়ারত করুন। এতে আপনার
অন্তরে কবর জীবনের কথা স্বরণ হবে আশা করি।কবর
হলো পরকালের প্রথম কাউন্টার।।
কোরআন অধ্যায়ন করুন-
নিয়মিত কোরআন নিয়ে গবেষণা করুন, ব্যাখ্যা সহ পড়ুন।
নিয়মিত একটা করে আমল বৃদ্ধি করুন, নিয়মিত একটি
বদ অভ্যাস ত্যাগ করুন।
অশ্লীল মন্দ কাজের জন্য নিজে শাস্তি দেয়ার ব্যবস্থা করুন। এটা আর্থিক হতে পারে বা পারিশ্রমিক হতে পারে।
শরীয় পর্দা মেনে চলুন-
চোখে দৃষ্টি হেফাজত করুন।
ফ্রেন্ড লিস্টে গার্লফ্রেন্ড,ইসলামীক গার্লফেন্ড,ক্লাসমেট সহ
সকল সমবয়সী নারী মুক্ত রাখুন।
অনেকে বলেন লিস্টে মেয়ে রাখলে সমস্যা কি?আমি তার
সাথে কথা বলছিনা,দেখাও করিনা।
আবার অনেক ইসলামীস্ট আছেন নিয়মিত কমেন্ট বক্সে
মেয়েদের সাথে চ্যাট করে।না আমার পর্দা নষ্ট হচ্ছে না ৷
আপনি যখন কোন মেয়ের সাথে সরাসরি, মেসেঞ্জারে বা
কমেন্ট বক্সে কথা বলে গোপন আনন্দ উপভোগ করেন
তাহলে এটাই গুনাহ। আপনি সুরা নিসার ১৪ জন নিয়ে
যে আয়াত আছে তার তাফসীর পড়ুন।সবকিছু সহজেই
বুঝবেন।
যেখানে নির্জনে সাক্ষাৎ নাজায়েজ সেখানে ফেসবুকে চ্যাট
বা কমেন্ট বক্সে কথা কেমনে জায়েজ করে নিবেন?
কোরআনকে নিজের মতো করে ব্যাখ্যা করতে যাবেন
না,তাহলে বিপদে পড়ার সম্ভাবনা আছে।
তাওবা করুন-
নিয়মিত তৌওবা করুন, রাসূলুল্লাহ সাঃ নিয়মিত সত্তব বার
তৌওবা করার শিক্ষা দিয়েছেন, সেটা আমল করুন।
নিয়মিত আয়ুজুবিলল্লাহ পড়ুন।এটা আপনাকে অসৎ চিন্তা
থেকে রক্ষা করবে ইনশাআল্লাহ।
সর্বশেষ যে কথা বলে শেষ করবো,গুনাহকে গুনাহ হিসাবে
বিশ্বাস করুন, সেটা ছোট বড় যাই হোক ।
ধর্মের ফরজ বিধান গুলো মেনে চলুন।
আধুনিকতার দোহাই দিয়ে নিজেকে পাশ্চাত্যে ডুবিয়ে
দিবেন না।