11/09/2026
আমরা মামুনুর রশিদ কাসেমীর অনেক সমালোচনা করি।
কিন্তু তার কাজের নিয়ত ও লক্ষ্য সম্পর্কে কখনো জানার চেষ্টা করেছি?
করিনি।
আমরা যতটুকু জানি বা আমাদের কাছে পৌঁছে,তা হলো ,তিনি একাধিক বিবাহ নিয়ে কাজ করছেন।
আর আমরা সমালোচনা করি এই বলে, একাধিক বিবাহ করা কি ফরজ?
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একাধিক বিবাহ কি চলে?
কিন্তু মামুনুর রশিদ কাসেমী কি শুধুই একাধিক বিবাহ নিয়ে কাজ করেন?
একদম না। তিনি যে কাজগুলো করেন তার একটি মাত্র অংশ একাধিক বিবাহ।
অর্থাৎ যাদের স্ত্রী আছে, এরপরও বিবাহ করতে ইচ্ছুক তাদের তিনি উদ্বুদ্ধ করেন। এটা তাঁর কাজের একটা মাত্র অংশ।
কিছু পয়েন্ট উল্লেখ করি-
(১)
আমাদের সমাজে এমন অনেক নারী আছে,যাদের অল্প বয়সে স্বামী মারা যায়। যদি স্বামী মারা যাওয়ার আগে তাদের ছেলে সন্তান হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে 95 শতাংশ এই মহিলারা সামাজিক রীতি-নীতির কারণে পরবর্তীতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে না।
অথচ, তাদের শারীরিক ও যৌবিক চাহিদা অক্ষুন্ন থাকে।
আমি ব্যক্তিগতভাবে এ ধরণের মহিলাদের পরবর্তীতে বিবাহ দেওয়ার পক্ষে। যদি কোথাও এমন প্রেক্ষাপট তৈরি হয় এবং আমার পরামর্শ চায়, আমি সরাসরি বিবাহের পরামর্শ দিয়ে থাকি।
তবে এই ধরণের মহিলাদের বিবাহ দেয়ার জন্য আমার কোন ভীষণ মিশন নেই।
এই কাজটি করছেন মুফতি মামুনুর রশিদ কাসেমী।
(২)
সাধারণত ৪০ থেকে ৫০ বছর পর্যন্তও মহিলাদের স্বাভাবিক যৌ/ন চাহিদা থাকে।
২৫ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত কোন মেয়ের ছেলে সন্তান থাকার পরে স্বামী মারা গেলে, আমাদের সমাজে তাদের বিবাহ দেওয়ার জন্য কোন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয় না।
কিন্তু তাদের যৌবিক চাহিদা অক্ষুন্ন থাকে।এটা সমাজের সবাই জানে। আর জানে জন্যই তাদের ভোগ করার জন্য নীরবে প্রস্তাব দিয়ে যায়।
তাদের বিবাহ করবে না, বিবাহও দিবে না। কিন্তু তাদের ফুসলিয়ে ভোগ করার ব্যবস্থা করবে।
(৩)
মুফতি মামুনুর রশিদ কাসেমী একটা কথা বলেছেন, একটা সাক্ষাৎকারে। কথাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং বাস্তবসম্মত।
তিনি বলেছেন-
বাঙালি পুরুষ এক স্ত্রীতে আটকায়, এক নারীতে না।
অর্থাৎ শুরুতেই এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছি। আমরা সমালোচনা করি একাধিক বিবাহ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চলে না এটা বলে যে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দ্বিতীয় বিবাহ করা অসম্ভব।
আর এই অজুহাতেই 99 শতাংশ মানুষ দ্বিতীয় বিবাহ করার সাহস পায় না। অর্থাৎ এক স্ত্রীতেই আটকে থাকে। তবে এক নারীতে না।
তার মানে হলো-
বিবাহ বহির্ভূত একাধিক নারীর সাথে শারীরিক সম্পর্কে জড়ায়।
(৪)
মুফতি মামুনুর রশিদ কাসেমী সেই সাক্ষাৎকারে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা উল্লেখ করেছেন।
৬০- ৬৫ বছরের বৃদ্ধদের বিবাহ নিয়ে কাজ করেন।
অর্থাৎ এই বয়সে যাদের স্ত্রী মারা গেছে, তাদের বিবাহর বন্দোবস্ত করেন।
কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বেশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু শরীয়ত সমর্থিত দিক।
তিনি উল্লেখ করেছেন-
একটা পুরুষ মানুষের এই বয়সে স্ত্রীর এজন্য প্রয়োজন যে, তাকে এই বয়সে দেখাশোনা করবে।
তার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব গ্রহণ করবে।
যেমন, চুল কাটা, বগলের লোম কাটা, নাভির নিচের পশম কাটাসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো একমাত্র স্ত্রী দ্বারাই করা সম্ভব।
আমাদের সমাজে স্ত্রী না থাকলে এই কাজগুলো যারা করেন।
তারা হলো- হাসপাতাল থেকে নার্সরা এসে এই কাজগুলো করে দিয়ে যায়।
অনেক ক্ষেত্রে, নিজের মেয়ে, নিজের ছেলের স্ত্রী এগুলো কাজ করে থাকে।
এতে করে হুরমতে মুসাহারাত সাব্যস্ত হওয়া সংখ্যা থাকে 90%।
কারণ, যদি মেয়ে তার বাবার শরীরের কোথাও স্পর্শ করে, আর এতে করে মেয়ে অথবা তার পিতা যে কারো মধ্যে যদি সামান্যতম উত্তে*জনা কাজ করে সাথে সাথে হুরমতে মুসাহারাত সাব্যস্ত হয়ে যাবে এবং তার মেয়ের মা স্বামীর জন্য(তার পিতার জন্য) সারা জীবনের জন্য হারাম হয়ে যাবে।
এই কাজটা যদি নিজের ছেলের স্ত্রী, অর্থাৎ বৌমাকে দিয়ে করায়। সেক্ষেত্রে দুইজনের যে কারো মধ্যে শরীরে স্পর্শ করার কারণে উত্তে/জনা কাজ করলে, ছেলের স্ত্রী ছেলের সারা জীবনের জন্য হারাম হয়ে যাবে।
এখানে উল্লেখ্য:-
আমাদের সমাজের অনেক বাবা এবং তার প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে, মা ও তার প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে একসাথে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারে চলাচল করে এবং একজনের শরীর আরেকজনের সাথে স্পর্শ করে।
এ সময় যদি বাবা মেয়ে অথবা ছেলে ও মার যে কারো মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে সামান্যতম উত্তেজনা চলে আসে তাহলে, বাবার ক্ষেত্রে নিজের স্ত্রী চির জীবনের জন্য এবং মায়ের ক্ষেত্রে মা বাবার চিরজীবনের জন্য হারাম হয়ে যাবে।
শরীয়তের পরিভাষা এটাকে হুরমতে মুসাহারাত বলে।
এজন্য দশ বছর বয়সে ছেলে মেয়ের বিছানা আলাদা করে দেওয়া পিতা-মাতার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
সংগৃহীত
(চলবে...)