EEE Electrical & Electronic Engineering

14/02/2018

আর্থিং করার উদ্দেশ্য কি?
আর্থিং কখনো নিউট্রাল হতে পারে?

বিদ্যুৎ নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:i) বিদ্যুৎ প্রায় আলোর বেগে গমন করে, যা সেকেন্ডে প্রায় ১৮৬,০০০ মাইল প্রতি সেকেন্ডে...
10/07/2017

বিদ্যুৎ নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

i) বিদ্যুৎ প্রায় আলোর বেগে গমন করে, যা সেকেন্ডে প্রায় ১৮৬,০০০ মাইল প্রতি সেকেন্ডে।

ii) বিদ্যুৎ এর তারে পাখি বসলেও তার শক লাগে না কারন গ্রাউন্ড কানেকশন পায়না। এটা কেবল মাত্র কম ভোল্টেজের লাইনেই দেখা যায়। আপনি কখোনো ৩৩,০০০ ভোল্টের লাইনে পাখি বসতে দেখেছেন কী?

ট্রান্সফরমার অয়েল কি জিনিষ ? এটি কেন ব্যবহার করা হয় ?ইলেক্ট্রিক্যাল পাওয়ার ট্রান্সফরমার ইন্সুলেশন এর জন্য যে তেল ব্যবহার...
06/07/2017

ট্রান্সফরমার অয়েল কি জিনিষ ? এটি কেন ব্যবহার করা হয় ?

ইলেক্ট্রিক্যাল পাওয়ার ট্রান্সফরমার ইন্সুলেশন এর জন্য যে তেল ব্যবহার করা হয় তাকে ট্রান্সফরমার অয়েল বা ইন্সুলেটিং অয়েল বলা হয় । অশোধিত পেট্রোলিয়ামকে আংশিক পাতন এর মাধ্যমে এই তেল পাওয়া যায় । ট্রান্সফরমার এ এই ইন্সুলেশন অয়েল ব্যবহার করার মূল কারণ দুইটি ।

১ । ট্রান্সফরমার এর কোর (Core) এবং ওয়াইন্দিংকে (Winding) সুরক্ষা করে । এছাড়া ইন্সুলেশন হিসেবে কাজ করে যাতে বায়ুমণ্ডল এর অক্সিজেন এর সাথে সরাসরি কন্টাক্ট এসে winding এ জারন বিক্রিয়া (Oxidation) না হয় ।

২। অতিরিক্ত তাপ শোষণ করে ট্রান্সফরমারকে ঠাণ্ডা রাখে ।

সাধারণত দুই ধরণের ট্রান্সফরমার অয়েল ব্যবহার করা হয় । এই গুলো হল

১ । প্যারাফিন বেসড ট্রান্সফরমার অয়েল
২ । নেপথা বেসড ট্রান্সফরমার অয়েল

পাওয়ার ট্রান্সফরমার ছাড়াও হাই ভোল্টেজ ক্যাপাসিটর , হাই ভোল্টেজ সুইচ এবং সার্কিট ব্রেকার এ এই অয়েল ব্যবহার করা হয়ে থাকে ।

ক্যাপাসিটর কি?ক্যাপাসিটর (capacitor) একটি ইংরেজী শব্দ এর বাংলা অর্থ ধারক।এর কাজ হচ্ছে চার্জ বা আধান ধরে রাখা।একে অনেকটা ...
13/05/2016

ক্যাপাসিটর কি?

ক্যাপাসিটর (capacitor) একটি ইংরেজী শব্দ এর বাংলা অর্থ ধারক।এর কাজ হচ্ছে চার্জ বা আধান ধরে রাখা।একে অনেকটা রিচার্জেবল ব্যাটারির সাথে তুলনা করা যায়। এর চার্জ ধরে রাখার ক্ষমতা অনেক কম।ব্যাটারি আর ক্যাপাসিটরের মধ্যে পার্থক্য হল ব্যাটারিতে চার্জ সংরক্ষিত থাকে রাসায়নিক পদার্থের মধ্যে।ক্যাপাসিটরের এই চার্জ ধরে রাখার ধর্মকে ক্যাপাসিট্যান্স বলে।এর আর একটি অতিপরিচিত নাম হলো কনডেনসার।ক্যাপাসিটরে ভোল্টেজ অ্যাপ্লাই করা হলে ডাইইলেক্ট্রিকের মধ্যে একটি ইলেক্ট্রিক ফিল্ড তৈরি হয়। অর্থাৎ ডাইইলেক্ট্রিক পদার্থের দু প্রান্তে ভোল্টেজ দেয়া হলে এর ভিতরে ইলেক্ট্রন আর হোল আলাদা হয়ে গিয়ে দু ভাগে ভাগ হয়ে যায় । ইলেক্ট্রন আর হোল আলাদা হয়ে যাওয়ার ফলে ক্যাপাসিটর এর দু প্রান্তে পজিটিভ আর নেগেটিভ চার্জ জমা হয়। এভাবেই ক্যাপাসিটর শক্তি সঞ্চয় করে রাখে । ক্যাপাসিটর এ চার্জ জমা থাকা অবস্থায় যদি একে বর্তনী থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয় তবে ক্যাপাসিটর ঐ চার্জ ধরে থাকবে। পরবর্তীতে যখন এটাকে সার্কিটে সংযুক্ত করা হয় সার্কিটের মধ্যে দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়ে ধনাত্বক চার্জ ঋনাত্বক চার্জ একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়।তবে ক্যাপাসিটরকে মূহুর্তের মধ্যে ফুল চার্জড করা যায় না।তেমনি হঠাৎ করে ডিসচার্জড ও করা যায় না। অর্থাৎ ক্যাপাসিটর ধীরে ধীরে ডিসচার্জড হয়।

ক্যাপাসিটেন্স পরিমাপের একক ফ্যারাড। তবে এটা খুব বড় একক হওয়ায় ব্যাবহারিক কাজে সাধারনত মাইক্রোফ্যারাড(µF), ন্যানোফ্যারাড(nF), পিকোফ্যারাডে(pF) ধারকত্ব মাপা হয়।
সিরামিক, মাইলার, মাইকা, ইলেক্ট্রলাইটিক, পেপার, সারফেস মাউন্ট, টানটালাম ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের ক্যাপাসিটর পাওয়া যায়। ইলেক্ট্রলাইটিক, টানটালাম ক্যাপাসিটরগুলোতে পোলারিটি আছে। এগুলোর ধনাত্বক- ঋনাত্বক প্রান্ত নির্দিষ্ট।

রিলে ও সার্কিট ব্রেকার কি?রিলে::-রিলে বলতে আমরা বুঝি কোন কিছু এমপ্লিফাই করা বা বৃদ্ধি করা।এখন তবে রিলে সুইচের একটা অর্থ ...
12/05/2016

রিলে ও সার্কিট ব্রেকার কি?

রিলে::-

রিলে বলতে আমরা বুঝি কোন কিছু এমপ্লিফাই করা বা বৃদ্ধি করা।
এখন তবে রিলে সুইচের একটা অর্থ দাড়ায়, এটা নিশ্চয়ই কোন কিছু বিবর্ধিত করে।

বিদ্যুৎ পরিচালনার ক্ষেএে রিলে হলো একটা ম্যাকানিকাল সুইচ। এটা রিলে কয়েল এবং আর্মেচার এর উপর নিভরশীল ।কয়েলটা হলো একটা তড়িৎ চুম্বক, যখন এর মধ্য দিয়ে কারেন্ট প্রবাহ (flow) করে তখন এটি আকর্ষন করে আর্মেচারকে।

সার্কিট ব্রেকার::-

সার্কিট ব্রেকার হলো একটি বৈদ্যুতিক সুইচ যা অটোমেটিক ভাবে চলে।ওভার লোড বা সর্ট সাকিট এর কারনে ইলেকট্রিকাল সার্কিট নষ্ট হয়ে যায় এটাকে প্রতিরোধ করার জন্য সার্কিট ব্রেকার ব্যাবহার করা হয়।এটার বেসিক ফাংশন হলো এটা ফল্টকে সনাক্ত করতে পারবে এবং বতমান কারেন্ট এর প্রবাহকে ছিন্ন করে দিবে ।

06/02/2016

আইপি এস এবং ইউপিএস এর মধ্যে পার্থক্য-@@@

আই পি এস এবং ইউ পি এস এর মধ্যে পার্থক্য কি এই প্রশ্ন আমাদের সবার মধ্যেই কম বেশি আছে বিশেষ করে সবার মধ্যেই এই প্রশ্ন জাগে যে ইউপিএস দিয়ে ফ্যান, লাইট জালানো যাবে কি না। কিছু ধারনা আছে এই ব্যাপারে সেটা আপনাদের সাথে শেয়ার করার চেষ্টা করব।
১. সময়ের পার্থক্য: আইপিএস এবং ইউপিএস মধ্যে একটা কমন পার্থক্য হল সময়ের পার্থক্য। সাধারনত ইউপিএস এ মেইন থেকে ব্যাটারী বা ব্যাটারী থেকে মেইনে পাওয়ার যেতে সময় লাগে ৩ থেকে ৮ মিলি সেকেন্ড। এটা খুবই অল্পা সময় এবং এই সময় ব্যবহৃত সামগ্রীতে কোন প্রতিক্রিয়া ফেলতে পারে না। কিন্তু আইপিএস এ লেগে যায় প্রায় ৫০০ মিলি সেকেন্ড।
২. ইউ পিএস এর পাওয়ার সাধারনত হয় সর্বোচ্চ ২ কেভিএ, কিন্তু আইপিএস এর পাওয়ার হয় প্রায় ১৬ কেভিএ এবং এটি ৩ ফেস হয়।
৩. ইউপিএস এ অটোমেটেড ভোল্টেজ রেগুলেশন হয় এবং এটা সাধারনত ২২০ এ সেট করা থাকে। কিন্তু আই পি এস এ মেইন ভোল্টেজ এর সমান ভোল্টেজ পাওয়া য়ায়।
৪. এটাই হল ইউপিএস এবং আই পিএস এর প্রধান পার্থক্য। ইউপিএস এ সাধারনত প্রথমে মেইন থেকে সরাসরি ইউপিএস এ কারেন্ট সাপ্লাই হয়। এই কারেন্ট এসি থেকে ডিসি তে কনভাট হয় এবং ধারাবাহিকভাবে ব্যাটারীকে চাজ করে। চাজিত ব্যাটারী থেকে পাওয়ার যায় সাইন ওয়েভ ইনভাটারে যেখানে ডিসি কনভাট হয়ে আবার এসি পাওয়া যায়। এই এসি থেকেই আমরা পিসি তে পাওয়ার পাই। আউটপুট পাওয়ার সম্পুন ডিসি থেকে আসে বলে এর সময় পার্থক্য কখনো পরিবর্তন হয় না। তাই সব সময় ফ্রিকোয়েন্সী অপরিবর্তিত থাকে। অন্যদিকে আইপিএস এ সরাসরি ইনভাটারে মেইন সাপ্লাই কারেন্ট যায়। এই মেইন সাপ্লাই একই সময়ে আউটপুটেও যায়। অর্থাত একই সময়ে মেইন সাপ্লাই ব্যাটারী চাজ করে এবং আউটপুটে পাওয়ার দেয়। আইপিএস এ একটি সেন্সর এবং রিলে মেকানিজম থাকে যেটি কিনা সব সময়ই চেক করে যে মেইন সাপ্লাই থেকে পাওয়ার আসছে কিনা। যখনই মেইন এ পাওয়ার অফ হয়ে যায় তখনই এটি ট্রিগার করে ব্যাটারী থেকে চার্জ নেয়া শুরু করে।
৫. সাধারনত মেইন সাপ্লাই কারেন্ট হয় একশত ভাগ সাইন ওয়েভ। কিন্তু ইউপিএস এর আউটপুট দেখতে কিছুটি স্কয়ার ওয়েভের মত। অন্যদিকে আইপিএস এর আউটপুট দেখতে অনেকটা স্টেপ ওয়েভ এর মত। কোনটিরই পিওর সাইন ওয়েভ পাওয়া যায় না বলেই আইপিএস এ ইন্ডাক্টিভ লোডের ক্ষতি হয়। এই কারনে যারা আই পিএস চালান তাদের ঘন ঘন রেগুলেটর নষ্ট হয় বলে শোনা যায়।
৬. ইউ পিএস এর মেকানিজম আইপিএম এর চেয়ে অনেক ব্যয় বহুল এবং জটিল।

08/09/2015

নবায়ন যোগ্য শক্তি( Renewable Energy)

বতর্মানে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলেও বাংলাদেশে তেলের দাম কমেনি।কিছুদিন পরে হয়তো আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও বাড়বে কারন চাহিদা বাড়ছে, কিন্তু ফুরিয়ে আসছে প্রচলিত শক্তির উৎস যেমন তেল ,গ্যাস, কয়লা।বিজ্ঞানীরা ধারনা করেন এই জ্বালানী তৈরী হয়েছিল কোটি কোটি বছর আগে উদ্ভিদ এবং জীবজন্তুর দেহাবশেষের পচন এবং ভুগর্ভের তাপে ও চাপে। ২০০৭ সালের হিসেব অনুসারে পৃথিবীর শক্তি চাহিদার ৮৬.৪ভাগ আসে জীবাশ্ম জ্বালানী থেকে (পেট্রোলিয়াম ৩৬%, কয়লা ২৭.৪, গ্যাস ২৩%), জীবাশ্মের বাইরের শক্তির উৎস এখন জলবিদ্যুৎ হল ৬.৩ ভাগ, পারমানবিক ৮. ৫ ভাগ এবং অনান্য (জিওথার্মাল, সুর্যরশ্মি, জোয়ার ভাটা, বায়ু, কাঠ, বায়োমাস ) 0.৯ (২০০৬ সাল) শক্তি ছাড়া পৃথিবী অচল, সভ্যতা অচল, কল কারখানা , যানবাহন সবখানেই চাই শক্তি।

পৃথিবীতে শক্তির চাহিদা বাড়ছে গড়ে প্রতিবছর ২. ৩ %ভাগ হারে। এই মুহুর্তে পৃথিবীতে জীবাশ্ম জ্বালানী উৎসের প্রমানিত মজুদের পরিমান হল – কয়লা - ৯০৫ বিলিয়ন মেট্রিক টন, তেল- ১, ১১৯ থেকে ১,৩১৭ বিলিয়ন ব্যারেল, এবং গ্যাস ১৭৫-১৮১ ট্রিলিয়ন ঘন মিটার। জীবাশ্ম জ্বালানী সহজে পাওয়া গেলেও তা কিন্তু নবায়নযোগ্য নয়, কারন হল এদের তৈরী হতে লাগে অনেক অনেক বছর। জীবাশ্ম জ্বালানী সম্পর্কে খুব আশাবাদী হিসাব করলেও তেল চলবে ৪৩ বছর, কয়লা চলবে ৪১৭ বছর এবং গ্যাস চলবে ১৬৭ বছর ।জীবাশ্ম জ্বালানী শুধু যে ফুরিয়ে আসছে তাই নয় এ থেকে তৈরী হচ্ছে কার্বন মনোক্সাইড, কার্বনডাই অক্সাইড, ইত্যাদি গ্রীনহাউস গ্যাসের , পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে (গ্লোবাল ওয়ার্মিং) , সৃস্টি হচ্ছে জলবায়ুর পরিবর্তন, বন্যা, খরা, সূনামী,পরিবেশ বিপর্যয় ইত্যাদি। পৃথিবীতে প্রতিবছর ২১.৩ বিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড তৈরী হচ্ছে জীবাশ্ম জ্বালানী পোড়ার ফলে , কিন্তু পৃথিবীর কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস শূষে নেওয়ার ক্ষমতা এর অর্ধেক।গত ১০০ বছরে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা বেড়েছে ১.৪ ডিগ্রী ফারেনহাইট যার দুই তৃতীয়াংশ বেড়েছে বিগত তিন দশকে।খুব কম করে ধরলেও এই একবিংশ শতাব্দীতে তাপমাত্রা বেড়ে যাবে আরো ২ থেকে ৫.২ ডিগ্রী ফারেনহাইট।

শিল্পায়ন যে আশির্বাদ বয়ে এনেছে সেটাই আজ আবার দেখা দিচ্ছে অভিশাপ হিসেবে। জীবাশ্ম জ্বালানী পোড়ানোর ফলে তৈরী হচ্ছে গ্রীন হাউজ গ্যাস , ফলে পৃথিবীর অস্তিত্ব চলে যাচ্ছে হুমকির মুখে। আর জীবাশ্ম জ্বালানী নয়, চাই নবায়নযোগ্য শক্তি। নবায়নযোগ্য শক্তি বলতে আমরা বুঝি প্রকৃতিগতভাবেই যে শক্তি প্রতিনিয়ত তৈরী হচ্ছে যেমন সুর্যরশ্মি, জোয়ার ভাটা, ভুগর্ভস্থ তাপ, বায়োমাস ইত্যাদি। নবায়নযোগ্য শক্তি যেহেতু পরিবেশের ক্ষতি করে না তাই ক্লীন এনার্জী, যেহেতু জীবাশ্ম জ্বালানীর মত তা শেষ হয়ে যাবে না তাই এটা হল সাস্টেনেবল এনার্জী।
এই মুহুর্তে পৃথিবীতে মোট ব্যবহৃত শক্তির ১৬% আসে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস থেকে- প্রচলিত নবায়নযোগ্য শক্তি যা প্রধানত ব্যবহৃত হয় গরম করতে যেমন কাঠ ইত্যাদি থেকে আসে ১০%, জলবিদ্যুৎ থেকে আসে ৩.৪% ভাগ এবং নতুন নবায়নযোগ্য শক্তি যেমন সুর্য্য শক্তি, বায়োমাস, বায়ুশক্তি, ইত্যাদি থেকে আসে আরো ২.৮%(২০১১) বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য শক্তির অবদান ১৯% , জলবিদ্যুত থেকে আসে ১৬% এবং নতুন নবায়নযোগ্য শক্তি থেকে আসে ৩%।

নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস হল সুর্য এবং ভূগর্ভস্থ তাপ। সুর্য রশ্মির আলো ও তাপ থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে,, পানি গরম হচ্ছে, গাছ সুর্যরশ্মির শক্তিকে নিয়ে বেড়ে উঠছে আর গাছ থেকে আসছে বায়োমাস বা বায়োফুয়েল, সুর্যের কারনেই বায়ুপ্রবাহ, সুর্যের কারনে সাগর মহাসাগরের জোয়ার ভাটা , পানি থেকে জলীয়বাস্প হয়ে বৃস্টিপাত ইত্যাদি।
নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে বি্দ্যুত উৎপাদনে, যানবাহনে, পানি বা ঘর গরম করতে, এবং গ্রাম্য এলাকায়।

সূর্যরশ্মি গরম পানি বা সোলার হট ওয়াটারঃ- প্রধানত বাড়ি ঘর দোরে গরম পানি সরবরাহে ব্যবহৃত হচ্ছে । এই সোলার হিটিং সিস্টেমের ফলে সম্ভব হচ্ছে সারাবছর গরম পানি সরবরাহে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে উল্ল্যেখযোগ্য পরিমান শক্তি উৎপাদন করছে চীন, ভারত, ইজরায়েল, এবং ইউরোপীয়ান দেশ গুলো। মুশকিল হল শীতকালে যখন রোদ কমে যায় তখন এই সিস্টেম কাজ করে না
বিদ্যুৎ উৎপাদনঃ- নবায়নযোগ্য শক্তি থেকে আসছে পৃথিবীর ১৯% ভাগ বিদ্যুৎ, অধিকাংশ জলবিদ্যুত থেকে, নবায়নযোগ্য শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে শীর্ষে রয়েছে আইসল্যান্ড এবং প্যারাগুয়ে। ব্রাজিল,নরওয়ে, অস্ট্রিয়া ইত্যাদি দেশগুলোতেও বিদ্যুতের একটা বড় অংশ আসছে নবায়ন যোগ্য শক্তি উৎস থেকে। ডেনমার্ক তার মোট বিদ্যুতের ২০% উৎপাদন করে বায়ুশক্তি থেকে।

যানবাহনের জ্বালানীঃ- বায়োইথানল এবং বায়োডিজেল যানবাহনে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বায়োফুয়েলঃ- পৃথিবীতে প্রানের অস্তিত্ব কার্বনকে ঘিরে। গাছপালা বায়ুমন্ডল থেকে কার্বন-ডাই অক্সাইড শুষে নিয়ে, পানির সাথে মিশিয়ে সুর্যের আলো থেকে শক্তি নিয়ে আলোক সংশ্লেষন বা ফটোসিন্থেসিসের মাধ্যমে তৈরি করে বিভিন্ন পদার্থ যা শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে হাজার হাজার বছর ধরে। এই শক্তির উৎস যখন কঠিন পদার্থ তা হল বায়োমাস, যখন তা তরল তা হল বায়োফুয়েল, আর যখন তা গ্যাস, তা হল বায়োগ্যাস। এই মহুর্তে গাছপালা বা ঘাসের সেলুলোজকে শক্তি উৎপাদনে ব্যবহার করা সম্ভব না হলেও বিজ্ঞানীরা আশা বাদী যে অদুর ভবিষ্যতে তা সম্ভব হবে।
বায়ো ইথানলঃ- শর্করা চিনি বা স্টার্চ থেকে তৈরী হচ্ছে ইথানল। বায়োইথানলে ব্যবহৃত হচ্ছে ভুট্টা আখ ইত্যাদি শষ্য। যুক্তরাস্ট্র এবং ব্রাজিল বায়োইথানল উৎপাদনে রয়েছে শীর্ষে,

বায়োডিজেলঃ- ভেজিটেবল অয়েল বা প্রানী’র চর্বি থেকে তৈরী করা হয়ে থাকে বায়োডিজেল।
বায়োডিজেল বা বায়োইথানল জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার উপযোগী হলেও তা সাধারনতঃ গ্যাসোলিনের সাথে মিশিয়ে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ২০১০ সালে বায়োফুয়েল উৎপাদিত হয়েছে ২৮ বিলিয়ন গ্যালন, ২০০৯ সালের চেয়ে যা ১৭% ভাগ বেশী। ব্রাজিল এবং আমেরিকা পৃথিবীর ৯০% ভাগের ও বেশী বায়োফুয়েল উৎপাদন করে। ব্রাজিলে ২৫% ভাগ এবং আমেরিকাতে ১০% বায়োইথানল পেট্রোলের সাথে মেশানো হয়ে থাকে যানবাহনের জ্বালানী হিসেবে। এখন সারা পৃথিবীর যানবাহনের জ্বালানীর ২.৭ ভাগ আসছে বায়োফুয়েল থেকে এবং ২০৫০ সাল নাগাদ তা যানবাহনের ২৫% ভাগের ও বেশী জ্বালানী চাহিদা মেটাবে। পৃথিবীর ৩১ টা দেশে এখন পেট্রোলের সাথে বায়োফুয়েল মিশিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বায়ুশক্তিঃ- বাতাসের বেগকে কাজে লাগানো হচ্ছে অতি প্রাচীন কাল থেকেই। পাল তোলা জাহাজ, চাল,গম বা ডাল ভাঙ্গানো, সেচকাজে পাম্প হিসেবে বায়ু শক্তির ব্যবহার হাজার বছরের পুরোন, ডন কুইক্সোটের উইন্ডমিলের গল্প সকলেরই জানা। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে সুর্য রশ্মির পরিমান বিভিন্ন, মেরুপ্রদেশে সারাবছরই বরফ আবার বিষুবরেখা অঞ্চলে সারাবছরই কড়া রোদ। তাপমাত্রার পার্থক্যের কারনেই তৈরী হয় বায়ুপ্রবাহের। গরম বাতাস হাল্কা হওয়ার কারনে উপরে উঠে যায় আর সেই স্থান পুরন করে আশেপাশ থেকে ঠান্ডা বাতাস, ফলে সৃস্টি হয় বায়ুপ্রবাহের। আর এই প্রবাহ দিয়েই ঘুরানো হয় টারবাইন, তৈরী হয় বিদ্যুৎ , ব্যবহার করা হয় যান্ত্রিক শক্তি হিসেবে।বায়ুশক্তির অসুবিধা হল বাতাসে যথেস্ট গতি থাকতে হবে। উপকুলীয় এলাকা, বা পাহাড় পর্বতের উচু যায়গায় যেখানে বায়ু প্রবাহের বেগ বেশী সেখানেই বায়ুশক্তির ব্যবহার করা সম্ভব।
বায়ুপ্রবাহ কাজে লাগিয়ে এই মুহুর্তে পৃথিবীতে তৈরী হচ্ছে ১৯৭ গিগাওয়াট বিদ্যুতের। বিভিন্ন দেশে দ্রুতগতিতে বাড়ছে বায়ুশক্তির ব্যবহার, পৃথিবীর ৮৩ টি দেশ বানিজ্যিক ভিত্তিতে বায়ুশক্তি থেকে বিদ্যুৎ তৈরী করছে। ইউরোপের অনেক দেশ যেমন ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ড, স্পেন, জার্মানী তাদের বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ -২১% বিদ্যুৎ তৈরী করছে বায়ুশক্তি থেকে।

সুর্যশক্তি বা সোলার পাওয়ারঃ- সুর্য্য রশ্মির আলো এবং তাপকে কাজে লাগানো হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে।সুর্য্যরশ্মির ফটোইলেক্ট্রিক ইফেক্টকে কাজে লাগিয়ে ফটোভোল্টাইক কোষের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন কৌশল উদ্ভাবিত হয়েছিল গত শতাব্দীতে ।১৯৮০ সালের দিকে প্রথম উদ্ভাবিত হয় সুর্যরশ্মির তাপকে কনসেন্ট্রেটেড সোলার পাওয়ার হিসেবে ব্যবহার করে তা দিয়ে পানিকে বাস্প এবং বাস্প দিয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন কৌশল।
ফটোভোল্টাইক কোষের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২০০০ সাল থেকে বাড়ছে প্রতিবছর ২০% হারে। ২০১০ সালে পৃথিবীতে ফটোভোল্টাইক বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছিল সর্বমোট ৩৯.৮ গিগাওয়াট। পৃথিবীর সবচে বড় ফটোভোল্টাইক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র হল কানাডার সার্নিয়া ফটোভোল্টাইক কেন্দ্র (ঊৎপাদন ক্ষমতা ৯৭ মেগাওয়াট)।

সোলার থার্মাল পাওয়ার স্টেশান বা বিদ্যুৎ কেন্দ্র অপেক্ষাকৃত নতুন। এই ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে স্পেন এবং যুক্তরাস্ট্র। পৃথিবীর বৃহত্তম সোলার থার্মাল পাওয়ার স্টেশান হল ক্যালিফোর্নিয়ার মোজেভ মরুভুমিতে(উৎপাদন ক্ষমতা ৩৫৪ মেগাওয়াট)।

সুর্যশক্তিকে কাজে লাগিয়ে অল্প পরিমান বিদ্যুৎ ব্যবহার করাহচ্ছে ঘড়িতে তে বা মোবাইলের চার্জারে অনেকদিন হল। বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল দিয়ে গৃহস্থালী প্রয়োজনের বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে । কিন্তু সুর্যরশ্মি কে ব্যবহার করে বানিজ্যিক ভিত্তিতে বেশী পরিমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র তৈরী বেশ ব্যায়বহুল।
সোলার বিদ্যুতের অসুবিধা হল যে এখান থেকে খুব বেশী পরিমান বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না।

পানিশক্তিঃ- পানি প্রবাহের শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে বেশ অনেকদিন। নবায়নযোগ্য শক্তির সবচে বেশী পরিমান হল পানিশক্তি। পৃথিবীতে ২০১০ সালে পানিবিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছিল ১০১০ গিগাওয়াট যা নবায়নযোগ্য শক্তির বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৭৬% এবং মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ১৬% আমাদের দেশের কর্নফুলি পানিবিদ্যুত কেন্দ্র ১৯৬২ সালে স্থাপন করা হয়েছিল যা এই মুহুর্তে ৫০ মেগাওয়াট বিদুৎ উৎপাদন করছে এবং তা বাড়িয়ে ১০০০মেগাওয়াট পর্যন্ত করা সম্ভব। সাধারনতঃ বাধ দিয়ে পানিপ্রবাহের গতিপথকে পরিবর্তন করা হয়ে থাকে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে। পৃথিবীর সবচে বড় জল বিদ্যুৎ উতপাদন কেন্দ্র হল আমেরিকার ওয়াশিঙ্গটনের গ্রান্ড কুলি বাধ উৎপাদন ক্ষমতা ৬,০৮৯ মেগাওয়াট, এবং ঘানার ওসাকাম্বো বাধ(১০০০মেগাওয়াট) বাধ দেওয়া ছাড়াও জোয়ার ভাটার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।

জিওথার্মালঃ- ভুগর্ভের তাপমাত্রা ব্যাবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে পৃথিবীতে অনেক দেশ। আগ্নেয়গিরি, উষ্ণ ঝর্না ইত্যাদিকে কাজে লাগানো হয় এ ক্ষেত্রে। পৃথিবীতে এই মহুর্তে উৎপাদিত হচ্ছে ৮,০০০ মেগাওয়াটে বিদ্যুৎ এই জিওথার্মাল শক্তি থেকে। আইসল্যান্ড ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে ভূগর্ভস্থ তাপ থেকে যা দিয়ে তারা গৃহস্থালী প্রয়োজনের ৮৬ % ভাগ মেটাচ্ছে।
নবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদন বাড়ছে , সাথে সাথে উদ্ভাবন হচ্ছে উন্নততর প্রযুক্তির। জীবাশ্ম জ্বালানী’র দাম বাড়ছে ফলে বিকল্পের সন্ধানে নেমেছে সবাই। নবায়নযোগ্য শক্তির আরো সুবিধা হল এর জ্বালানী খরচ নেই। প্রথম খরচ করে কেন্দ্র স্থাপন করলেই তা শক্তি যুগিয়ে যাবে অনন্ত কাল।

How 3-Phase Works
02/09/2015

How 3-Phase Works

ট্রান্সফরমার কি এবং কিভাবে কাজ করেট্রান্সফরমার একটি ইলেক্ট্রিক্যাল যন্ত্র যা পরিবর্তনশীল বিদ্যুতকে (Alternating current)...
01/09/2015

ট্রান্সফরমার কি এবং কিভাবে কাজ করে

ট্রান্সফরমার একটি ইলেক্ট্রিক্যাল যন্ত্র যা পরিবর্তনশীল বিদ্যুতকে (Alternating current) এক ভোল্টেজ থেকে অন্য ভোল্টেজে রূপান্তরিত করে। ট্রান্সফরমার ‘উচ্চ-ধাপী’ (স্টেপ আপ) অথবা ‘নিম্ন-ধাপী’(স্টেপ ডাউন) দুই ধরনের হয়ে থাকে এবং এটি ম্যাগনেটিক ইণ্ডাকশন (Magnetic induction) নীতি অনুসারে কাজ করে। ট্রান্সফরমারে কোন চলমান/ঘূর্ণায়মান অংশ থাকে না, এটি সম্পূর্ণ স্থির ডিভাইস। এটির গঠন খুবই সাধারন, দুই বা ততোধিক অন্তরীত তামার তার একটি অন্তরীত ইস্পাতের অথবা লোহার কোরের (laminated steel/Iron core) গায়ে প্যাঁচানো থাকে। ট্রান্সফরমারে দুটি উইন্ডিং থাকে, প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি উইন্ডিং । প্রাইমারি উইন্ডিয়ে ভোল্টেজ প্রদান করলে ম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরি হয় এবং ম্যাগনেটিক ফ্লাক্স আইরন কোরের মধ্য দিয়ে সেকেন্ডারি উইন্ডিয়ে যায় এবং সেখানে ম্যাগনেটিক ফিল্ড তৈরি হয়। যার ফলশ্রুতিতে সেকেন্ডারি কয়েলে ভোল্টেজ পাওয়া যায়। ট্রান্সফরমারের ভোল্টেজ পরিবর্তনের হার প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি কয়েলের প্যাঁচ সংখ্যার হারের উপর নির্ভর করে।

২. ট্যাপ (Tap) কি এবং কখন ব্যাবহার করা হয়?

উচ্চ বা নিম্ন ভোল্টেজ অবস্থার সংশোধন করতে এবং সেকেন্ডারি টার্মিনালে নির্ধারিত ভোল্টেজ আউটপুট দিতে, উচ্চ ভোল্টেজের কিছু ট্রান্সফরমারে ট্যাপ(Tap) প্রদান করা হয়। উচ্চ অথবা নিম্ন ভোল্টেজ, উভয় অবস্থায় সাধারণত দুই এবং একের অর্ধেক এবং নির্ধারিত প্রাইমারি ভোল্টেজ থেকে পাঁচ শতাংশ উপরে অথবা নিচে বিবেচনা করে ট্যাপ সেট করা হয়। উদাহরণস্বরূপঃ যদি কোন ট্রান্সফরমারের প্রাইমারিতে নির্ধারিত ভোল্টেজ ৪৮০ভোল্ট হয় এবং এটি লাইন ভোল্টেজ ৫০৪ ভোল্টে চলে তাহলে প্রাইমারিতে ট্যাপ স্বাভাবিকের থেকে ৫% উপরে দিতে হবে যাতে করে সেকেন্ডারিতে সঠিক ভোল্টেজ রেটিং বজায় রাখা যায়।

৩. Insultaing, Isolating এবং Shielded Winding ট্রান্সফরমারের মধ্যে পার্থক্য কি?

ইনস্যুলেটিং (Insultaing) এবং আইসোলেটিং (Isolating) ট্রান্সফরমার একই। মূলত ট্রান্সফরমারের প্রাইমারী এবং সেকেন্ডারি উইন্ডিয়ের বিচ্ছিন্নতার (Isolation) অথবা দুটির অন্তরকের (Insultaing) বর্ণনার উদ্দেশ্যে এই শব্দ দুটি ব্যবহার করা হয়। Shielded Winding ট্রান্সফরমার ডিজাইন করা হয় প্রাইমারী এবং সেকেন্ডারি উইন্ডিং-এর মাঝে metallic shield (ধাতব ঢাল) দেয়া থাকে, যাতে করে এর নয়েজ হ্রাস পায়। সব দুই, তিন এবং চার উইন্ডিং বিশিষ্ট ট্রান্সফরমার ইনস্যুলেটিং বা আইসোলেটিং ধরনের হয়ে থাকে। শুধু অটো-ট্রান্সফরমারের প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি উইন্ডিং একে অপরের সাথে ইলেক্ট্রিক্যালি যুক্ত থাকে, এতে কোন ইনস্যুলেটর বা আইসোলেটর থাকে না।

৪. একটি ট্রান্সফরমারের নেমপ্লেটে প্রদত্ত ভোল্টেজ ব্যতীত অন্য কোন ভোল্টেজে কি ট্রান্সফরমার চালানো যেতে পারে?

কিছু কিছু ক্ষেত্রে ট্রান্সফরমার নেমপ্লেটে প্রদত্ত ভোল্টেজ অপেক্ষা কম ভোল্টেজে চালান যেতে পারে। যদি ট্যাপ প্রদান করা না হয়ে থাকে তাহলে ট্রান্সফরমার নেমপ্লেটে প্রদত্ত ভোল্টেজ অপেক্ষা বেশি ভোল্টেজে চালান উচিত নয়। যদি নির্ধারিত ভোল্টেজ অপেক্ষা কম ভোল্টেজে ট্রান্সফরমার চালান হয়, তাহলে এর KVA রেটিংও ক্রমান্বয়ে কমে যাবে। উদাহরণস্বরূপঃ যদি কোন ট্রান্সফরমারের প্রাইমারি ভোল্টেজ ৪৮০ ভোল্ট ও সেকেন্ডারি ভোল্টেজ ২৪০ ভোল্ট হয়ে থাকে এবং এটি যদি ২৪০ ভোল্টে অপারেট করা হয় তাহলে সেকেন্ডারি ভোল্টেজ হ্রাস পেয়ে হবে ১২০ ভোল্ট। যদি ট্রান্সফরমারটির রেটিং ১০KVA হয়ে থাকে তাহলে সেটি হয়ে যাবে ৫ KVA অথবা প্রদত্ত ভোল্টেজের সমানুপাতিক হবে।

৫. ট্রান্সফরমারের কর্মদক্ষতা বেশি হয়ে থাকে কেন?

ট্রান্সফরমার একটি স্ট্যাটিক ডিভাইস অর্থাৎ স্থির যন্ত্র। এতে কোন ঘূর্ণায়মান অংশ নেই, ফলে ঘর্ষণজনিত কোন ক্ষয় এতে নেই। অন্যান্য ঘূর্ণায়মান যন্ত্রের তুলনায় ট্রান্সফরমারে লস অনেক কম। তাই ট্রান্সফরমারের কর্মদক্ষতা সবচাইতে বেশি। ট্রান্সফরমারের কর্মদক্ষতা ৯৫%-৯৮% পর্যন্ত হয়ে থাকে।

৬. ট্রান্সফরমার কি সমান্তরালে(parallel) সংযোগ দেয়া যেতে পারে?

সিঙ্গেল ফেজ ট্রান্সফরমার সমান্তরালে ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে তাদের ইম্পিড্যান্স এবং ভোল্টেজ সমান হতে হবে। যদি দুটি ট্রান্সফরমারের ভোল্টেজ সমান না হয়, তাহলে দুটি ট্রান্সফরমারের ক্লোজ নেটওয়ার্কে থাকা সার্কুলেটিং কারেন্টের কারনে মাত্রাতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন হবে এবং ট্রান্সফরমারের জীবদ্দশা হ্রাস পাবে। এছাড়াও প্রত্যেক ট্রান্সফরমারের ইম্পিড্যান্স অবশ্যই ৭.৫% এর মধ্যে থাকতে হবে। উদাহরণস্বরূপঃ যদি ট্রান্সফরমার ‘A’-এর ইম্পিড্যান্স ৪% হয়ে থাকে এবং ট্রান্সফরমার ‘B’-কে সমান্তরালে সংযোগ দিতে B-এর ইম্পিড্যান্স ৩.৫% অথবা ৪% এর মধ্যে থাকতে হবে। থ্রি ফেজ ট্রান্সফরমার সমান্তরাল সংযোগের ক্ষেত্রে একই ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সেই সাথে দুটি ট্রান্সফরমারের ফেজ এবং ফেজ এঙ্গেলও সমান থাকতে হবে।

থ্রি-ফেজ ট্রান্সমিশন লাইন কি ?থ্রি-ফেজ বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা বা তিন-ফেজ বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা পরিবর্তী বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন, স...
01/09/2015

থ্রি-ফেজ ট্রান্সমিশন লাইন কি ?

থ্রি-ফেজ বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা বা তিন-ফেজ বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা পরিবর্তী বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন, সঞ্চারণ এবং বিতরণের কাজে ব্যবহৃত একটি সাধারণ এবং জনপ্রিয় ব্যবস্থা। এটি বিদ্যুৎ শক্তি সরবরাহের কাজে সারা পৃথিবী জুড়ে সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত ব্যবস্থা। পৃথিবীর প্রায় সকল দেশ তাদের বিদ্যুৎ বিতরণের জাতীয় গ্রীডে থ্রি-ফেজ ব্যবস্থা ব্যবহার করে। বিশাল বিশাল বৈদ্যুতিক মোটর এবং অনুরূপ অনেক ভারী বৈদ্যুতিক লোডে বিদ্যুৎ শক্তি সরবরাহ করতেও এই ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। থ্রি-ফেজ ব্যবস্থা অন্যান্য সমতুল্য ব্যবস্থার (যেমন দুই ফেজ বা এক ফেজ ব্যবস্থা) থেকে বেশী সাশ্রয়ী কারণ সমান ভোল্টের বিদ্যুৎ শক্তি সঞ্চারণের জন্য এই ব্যবস্থায় কমপরিবাহকের প্রয়োজন হয়। নিকোলা টেসলা ১৮৮৭ সালে থ্রি-ফেজ বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার সূচনা করেন এবং ১৮৮৮ সালে এর স্বত্ব লাভ করেন।
থ্রি-ফেজ ব্যবস্থায় তিনটি পরিবাহীর (ফেজ) মধ্য দিয়ে একই কম্পাঙ্কের এমন তিনটি পরিবর্তী বিদ্যুৎ প্রবাহ প্রবাহিত করা হয় যাদের যে কোন এক মূহুর্তের তড়িৎ প্রবাহের মান এক সমান থাকে না। একটি পরিবাহীর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তড়িৎপ্রবাহকে মানদন্ড হিসেবে বিবেচনা করে বাকী দুটি তড়িৎ প্রবাহকে একটি পূর্ন তড়িৎ প্রবাহ চক্রের (cycle) যথাক্রমে এক-তৃতীয়াংশ ও দুই তৃতীয়াংশ পিছিয়ে (delay) দেয়া হয়। তিনটি ফেজের মধ্যে এই চক্র পার্থক্যের কারনে একটি পূর্ণ তড়িৎ চক্রে সঞ্চারিত তড়িৎ শক্তি সবসময় সমান থাকে এবং এই চক্র পার্থক্যই বৈদ্যুতিক মোটরের মধ্যে পরিবর্তী চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরী করে।
আবাসিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং আবাসিক বৈদ্যুতিক লোড প্রধানতঃ এক-ফেজের হয়ে থাকে। তাই থ্রী-ফেজ ব্যবস্থা থেকে সরাসরি আবাসিক ভবনে সংযোগ দেয়া হয় না। যদি কোন স্থানে দেয়া হয়ও, তাহলে তিনটি ফেজকে প্রধান বিদ্যুৎ ডিস্ট্রিবিউশন বোর্ড থেকেই আলাদা করে দেয়া হয় এবং পৃথক পৃথক লোডগুলো যে কোন একটি ফেজ থেকে সংযোগ পায়।

থ্রী-ফেজ ব্যবস্থার কিছু বিশেষ সুবিধা আছে যার ফলে এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় ও পরিচিত বৈদ্যুতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় রূপ নিয়েছেঃ

তিন ফেজের বিদ্যুৎ প্রবাহ একে অন্যকে বিয়োগ করে দেয় এবং লিনিয়ার ব্যালেন্সড লোডের ক্ষেত্র যোগফল শূন্য হয়ে যায়। ফলে নিউট্রাল পরিবাহী ব্যবহার না করলেও চলে অথবা এর আকার অনেক কমিয়ে ফেলা যায়।

লিনিয়ার ব্যালেন্সড লোডে শক্তি সরবরাহ সবসময় সমান থাকে, ফলে বৈদ্যুতিক জেনারেটর বা বৈদ্যুতিক মোটরকে নির্বিঘ্নে চলতে এবং কম্পন (vibration) কমাতে সাহায্য করে।

থ্রি-ফেজ ব্যবস্থা নির্দিষ্ট দিকে ঘূর্নায়মান চৌম্বক ক্ষেত্র উৎপাদন করতে পারে, ফলে বৈদ্যুতিক মোটর নকশা ও তৈরী করা খুব সহজ হয়ে যায়।

বৈদ্যুতিক পাওয়ার প্ল্যান্ট এ টারবাইন কীভাবে কাজ করে?হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার প্ল্যান্টে (যেমনঃ আমাদের কাপ্তাই) পানির বি...
01/09/2015

বৈদ্যুতিক পাওয়ার প্ল্যান্ট এ টারবাইন কীভাবে কাজ করে?

হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার প্ল্যান্টে (যেমনঃ আমাদের কাপ্তাই) পানির বিভব শক্তিকে কাজে লাগিয়ে টারবাইন চালানো হয়। সহজ ভাষায় বলতে গেলে একটা উঁচু জায়গায় (টারবাইনের সাপেক্ষে) পানিকে আটকানো হয়।বাধ দিয়ে এই কাজটা করা হয়। ঐ উঁচু স্থানের পানিকে যখন নিচের দিকে পড়তে দেয়া হয় তা প্রচন্ড বেগ নিয়ে পড়ে। এই পানি ফ্লো করে টারবাইনের চাকাকে ঘোরায়। টারবাইনটা তখন ঘোরা শুরু করে এবং টারবাইনের শ্যাফটের সাথে কানেক্টেড করা থাকে জেনারেটরের শ্যাফট। তাই জেনারেটরটাও ঘুরতে থাকে এবং কারেন্ট তৈরি হয়।

চিত্রঃ একটি হাইড্রোলিক পাওয়ার প্ল্যান্ট লে - আউট।

থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টে একটা বয়লার থাকে যাতে পানিকে বাষ্পে পরিণত করা হয়। এই বাষ্পকে প্রবাহিত করা হয় উচ্চ বেগে টারবাইনের দিকে। এই বাষ্পই টারবাইনকে ঘোরায় আর টারবাইন ঘোরায় জেনারেটরকে। এভাবেই কারেন্ট তৈরি হয়।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টে বয়লারের জায়গায় নিউক্লিয়ার রিএক্টর থাকে। এই রিএক্টরে নিউক্লিয়ার ফিশন রিএকশন হয়। ফলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। এই তাপকে কাজে লাগিয়ে পানিকে বাষ্পে পরিণত করা হয়। ঐ বাষ্প প্রবাহিত করে টারবাইন ঘোরানো হয়।

01/09/2015

জেনারেটর কি? টারবাইন কি? বয়লার কি? কনডেন্সার কি?

জেনারেটর কি?

জেনারেটর এমন একটা যন্ত্র বা মেশিন, যার সাহায্যে যান্ত্রিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপন্ন করা হয় । আর এই বিদ্যুৎ শক্তি উৎপন্ন জন্য একটি চুম্বক-ক্ষেত্র এবং একটি আর্মেচার যার উপরি ভাগে তারের কয়েল প্যাচনো থাকে এবং যাকে যান্ত্রিক শক্তির মাধ্যমে চুম্বক-ক্ষেত্রে ঘুরানো হয়। আর যে যন্ত্রে মাধ্যমে একে ঘুরানো হয় তাকে প্রাইম মুভার বলে ,যেমন টারবাইন ।এই প্রাইম মুভার স্টিম , ডিজেল , পেট্রোল এমন কি বিদ্যুতিক মোটর হতে পারে ।

টারবাইন কি?

টারবাইন এমন একটা প্রাইম মুভার বা মেশিন যাতে প্রবাহীর ক্রমাগত ভরবেগের পরিবর্তন দিয়ে ঘূর্ণন গতি পাওয়া যায় । অনেক ধরনের টারবাইন পাওয়া যায় , যেমনঃ স্টিম টারবাইন , ওয়াটার টারবাইন , গ্যাস টারবাইন ইত্যাদি । এর মধ্যে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনে ৬ ইউনিট এ স্টিম টারবাইন এবং বাকী ২ টিতে গ্যাস টারবাইন ব্যবহার করা হয় । স্টিম টারবাইন টারবাইন একটা আদর্শ প্রাইম মুভার এবং এর বহুবিধি ব্যবহার ও দেখা যায় । বড় বড় স্টিম টারবাইন গুলো পাওয়ার প্লান্টে জেনারেটর পরিচালনার জন্য ব্যবহার করা হয় এবং ছোট ছোট টারবাইন গুলো দিয়ে পাম্প , ফ্যান চালানো যায়। স্টিম টারবাইন ০.৫ হতে ২০০০০০ পযর্ন্ত HP বা হর্স পাওয়ার হতে পারে ।

বয়লার কি?

নিরাপত্তার ব্যবস্থা সহ যে আবদ্ধ পাত্রের ভেতর পানি রেখে তাতে তাপ প্রয়োগ করে স্টিম উৎপাদন করা হয় তাকে বয়লার বলা হয় । বয়লার সাধারনত ২ ধরনের হয়ে থাকে , যথা (ক) ফায়ার টিউব বয়লার এবং (খ) ওয়াটার টিউব বয়লার । ফায়ার টিউব বয়লার গঠন প্রানালী জটিল এবং ব্যয়বহুল , খুব কম গতিতে স্টিম উৎপাদন এছাড়া এটা বিস্ফরন হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান বেশি তাই বাংলাদেশে ওয়াটার টিউব বয়লার ব্যবহার করা হয় । ওয়াটার টিউব বয়লারের আগুন বাহিয়ে থাকে এবং পানি টিউব এর ভিতর থাকে আর ফায়ার টিউব বয়লারে আগুন টিউব এর ভিতর এবং পানি টিউব এর বাহিরে থাকে ।

কনডেন্সার কি?

স্টিম টারবাইন কে ঘুরিয়ে যখন বেড় হয় , তখন এই এগজস্ট স্টিমকে ঠান্ডা করার কাজে কনডেন্সার ব্যবহার করা হয় । এটি মাধ্যমে ঠান্ডা পানি স্টিম এর সংস্পর্শে ঘনীভূত হয়ে করে পানিতে পরিনত করা হয়।অর্থাৎ স্টিম কে পানি করে পুনরায় ফিড ওয়াটার হিসাবে বয়লারে সরবারহ করা হয় । একে আমরা হীট একচেঞ্জার ও বলে থাকি । দু ধরনের কন্ডেন্সার বেশি দেখা যায় , ১) জেট কনডেন্সার ২) সারফেস কনডেন্সার । তবে বর্তমানে সারফেস কনডেন্সার বেশি জনপ্রিয় তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুলোতে ।

Address

Dhaka
1207

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when EEE posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to EEE:

Share