26/06/2025
এডেনিয়াম সম্পর্কে কিছু তথ্য
গ্রুপে এমন অনেকেই আছেন যারা এডেনিয়াম নামটাই শুনছেন গ্রুপে এড হয়ে। আজকে আপনাদের জন্যই এই কন্টেন্ট।
Adenium/Desert rose/মরু গোলাপ হল Apocynaceae পরিবারের ফুলের উদ্ভিদের একটি প্রজাতি। যা প্রথম 1819 সালে একটি বংশ হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছিল। এটি আফ্রিকা এবং আরব উপদ্বীপের উদ্ভিদ। প্রাকৃতিকভাবে সবচেয়ে বেশি আফ্রিকার দেশগুলোতেই বিস্তৃত। বলা চলে মরুভূমির উদ্ভিদ।
এটির জনপ্রিয়তা এর ফুলের বৈচিত্র ও কডেক্স(কান্ড) এর ন্যাচারাল বনসাই শেপের জন্য।
এর মাল্টিপেটাল ফুল দেখতে অনেকটা গোলাপের মত হওয়ায় এর নাম মরু গোলাপ দেয়া হয়েছে।
প্রজাতি-
অ্যাডেনিয়াম প্রজাতিকে বারোটির মতো প্রজাতি ধারণ করা হয়েছে। এগুলিকে অন্যান্যরা উপ-প্রজাতি বা জাত বলে মনে করেন । প্লাজিয়ারের 20 শতকের শেষের দিকের একটি শ্রেণীবিভাগ পাঁচটি প্রজাতিকে স্বীকৃতি দেয়।
১.অ্যারাবিকাম ( কডেক্স বেশ হয় যার জন্যই এর সুনাম)
২.অ্যাডেনিয়াম বোহেমিয়ানাম
৩.অ্যাডেনিয়াম মাল্টিফ্লোরাম ক্লটসচ
৪.Adenium obesum
৫.Adenium oleifolium
৬.অ্যাডেনিয়াম সোয়াজিকাম
৭. সোমালেন্স
৮. সোকোট্রেনাম
আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি চাষ হয় অবেসাম। এছাড়াও অ্যারাবিকাম, সোয়াজিকাম, সোমালেন্স সহ অন্যান্য গুলোও কিছু কিছু বাগানীদের বাগানে সোভা পাচ্ছে।
ফুল-
এটি শীতের ২/৩ মাস বাদে সারাবছরই গাছ ভরে ফুল দেয়। প্রজাতি ভেদে কোনো কোনো গাছে প্রায় সারাবছরও ফুল থাকে।
এডেনিয়াম ফুল এটা পাপড়ীর লেয়ার এর সংখ্যার উপর প্রধানত ২ ভাগে ভাগ করা যায়।
১. সিঙ্গেল পেটাল
২. মাল্টি পেটাল
এছাড়া ডাবল পেটাল, ট্রিপল পেটালও পাওয়া যায়। এদেরও কেউ কেউ মাল্টিপেটাল হিসেবেই বলে।
এর ফুলের ধরনের শেষ নেই। সঠিক সংখ্যা কেউ বলতে পারবে কিনা জানা নাই। কারন এর বীজের গাছের চারা মাতৃগাছের বৈশিষ্ট্য সম্পুর্ণভাবে বহন করে না। (গোলাপি গাছের বীজ থেকে সাদা ফুলের গাছও জন্ম হয়।) প্রতিনিয়ত বাগানীদের কাছে তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন ভ্যারাইটি। এত মিউটেশন অন্য কোনো গাছে হয় বলে জানা নাই। অনেক নামকরা ভ্যারাইটি আছে যা হাইব্রিড করে বানানো হয়েছে। যাদের আইডি আছে। (মায়া,জলি,শেরবেট,সাকুরা,এন্জেলা,প্রিন্সেস,ম্যাপল,মোয়ানা,ক্যারামেল ইত্যাদি)
আইডি ওয়ালা ভ্যারাইটি নির্দিষ্ট সংখ্যক। তবে এর সংখ্যাও অনেক অনেক বেশি।
বংশবিস্তার:
১.বীজ
বীজের মাধ্যমে সাধারণত কমন ভ্যারাইটির বংশবিস্তার হয়। এর বীজ প্রাকৃতিক ভাবে পাওয়া যায়। আবার হাত দিয়ে পরাগায়ন ঘটিয়েও বীজ আনা যায়। হ্যান্ড পলিনেশন সাধারণ আনকমন ভ্যারাইটি তে করে বাগানীরা। কারন তাতে সহজে বীজ আসে না। আনকমন গুলোর বীজ থেকে তৈরী হয় আরো আনকমন প্রজাতি।
২.গ্রাফ্টিং-
বীজ থেকে তো মাতৃগাছের মত ফুল পাওয়া যায় না।তাহলে কি উপায়ে একটি নির্দিষ্ট ভ্যারাইটির চারা করা যায়? উত্তর বুঝতে পেরেছেন এতক্ষণে।
গ্রাফ্টিং এর মাধ্যমে এডেনিয়াম এর সেম ভ্যারাইটির গাছ করা হয়। কেউ কেউ এক গাছে কয়েক ভ্যারাইটির গ্রাফ্ট করে যেটাকে বলে মাল্টি গ্রাফ্টিং।
সোজা কথায় গ্রাফ্টিং এ, একটি কমন কম দামী ভ্যারাইটির চারা গাছের উপর পছন্দমতো গাছের ডাল বসানো হয়।
গ্র্যাফ্টিং এর সবচেয়ে সিম্পল পদ্ধতি হলো V ভি গ্রাফ্টিং। সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বহুল চর্চিত ট্যাবলেট গ্রাফ্টিং। এছাড়াও কেউ কেউ বিশেষ প্রয়োজনে সুপারগ্লু দিয়েও গ্রাফ্ট করে থাকে।
কাটিং-
কাটিং করেও চারা করা যায় কিন্তু এতে কডেক্স মোটা হয় না। গাছের শেপ সুন্দর হয় না।
যত্ন:
এডেনিয়াম গাছ অযত্নেও ফুল দিতে কার্পন্য করে না। আবার যত্ন করলে যত্নেরও শেষ নেই। পানি ছাড়াও অনেকদিন বাঁচে আবার বেড়ে উঠতেও পানির প্রয়োজন অপরিসীম। বছরে একবার /দুবার রিপটিং দরকার। মিডিয়া হওয়া চাই সুন্দর পানি নিষ্কাশন ক্ষমতা সম্পন্ন। কারন পানি জমে থাকলে এ গাছ বাচবে না।
এ গাছে ফাংগাসের আক্রমণ হয়। তাই ফাংগিসাইড এর পরম বন্ধু৷ এটি ছাড়া এডেনিয়াম বাগান করা বুদ্ধিমানের কাজ না। শীতকাল এর ঘুমানোর সময়। ফুল কম আসে বা আসেই না।
শীতের শেষে বা গরমের শুরুতে রিপটিং এর সময় গাছ মাটি থেকে তুলে ছায়ায় ঝুলিয়ে শুকাতে হয়৷ এতে গাছ ডিহাইড্রেটেড হয়, কোনো ফাংগাস বাসা বেধে থাকলেও মারা যায়। গাছের সাইজ অনুযায়ী ৩ দিন থেকে -৬ মাসও গাছ ঝুলিয়ে রেখে দেয়া যায়।গাছ মরবে না। এটা এডেনিয়াম এর ইউনিকনেস।
আপনি ৩০ দিনের জন্য বাইরে গেলেন। গাছ তুলে ঝুলিয়ে রাখুন। গাছ মরবে না।
সঠিক পরিচর্যা করতে পারলে এই গাছ সারাজীবন সাথে রাখতে পারবেন। এর ফুল কডেক্সের সৌন্দর্য আপনাকে হতাশ করবে না। ফুল বাদ দিয়ে এর বনসাই শেপই যথেষ্ট এতে মুগ্ধ হতে।
কিছুদিন এর পিছনে লাগুন। গ্রুপগুলোতে ঘুরুন। তবে সুন্দর ফুল দেখে প্রথমেই দামী গাছ কিনতে যাবেন না। আগে কমন ভ্যারাইটি কিনে অভস্ত হোন।
হ্যাপি এডেনিয়ামিং💗
(কিছু তথ্য উইকিপিডিয়া থেকে নেওয়া)
(ছবি Sumona Rashid আপুর)
©Abir Hasan Sajid