08/03/2026
আমরা অনেক সময় বলে থাকি যে, আমাদের দেশের মানুষের ধর্মীয় আবেগ অনেক বেশি, কিন্তু ধর্মীয় জ্ঞান তুলনামূলকভাবে কম। তাই মাঝে মাঝে অবাক লাগে, যখন কেউ কেউ আলেমদেরকেই ভদ্রতা ও সৌজন্যতা শেখাতে চেষ্টা করেন।
Abdur Razzaq bin Yusuf (হাফিযাহুল্লাহ) এমন একজন আলেম, যিনি শিরক ও বিদআতের বিষয়ে কখনো আপোষ করেন না। ইসলামী শরীয়তে কারো সম্মানে দাঁড়ানো বাধ্যতামূলক নয়; বরং এমনও হাদিস রয়েছে যেখানে এ ধরনের বিষয় থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
এখানে আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে—আমাদের ধর্ম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা জরুরি। আমরা সবাই জানি, শেষ যামানায় ঈমান ধরে রাখা কঠিন হবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা অনেকেই সেই বিষয়গুলো শেখার চেষ্টা করি না, যেগুলোর কারণে ঈমান নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
এ প্রসঙ্গে মু‘আবিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
> مَنْ أَحَبَّ أَنْ يَّتَمَثَّلَ لَهُ النَّاسُ قِيَامًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ.
“যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে, মানুষ তাকে দেখলে তার সম্মানে দাঁড়িয়ে যাক, সে যেন জাহান্নামে তার আসন প্রস্তুত করে নেয়।”
— (আদাবুল মুফরাদ: ৯৭৭; Sunan Abu Dawud ৫২২৯; Jami' at-Tirmidhi; Ahmad ibn Hanbal এর মুসনাদ)
আরেকটি বর্ণনায় আনাস (রাঃ) বলেন—
“দুনিয়াতে সাহাবাদের কাছে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর চেয়ে প্রিয় কেউ ছিলেন না। তবুও তাঁরা যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে দেখলে, তাঁর সম্মানে দাঁড়াতেন না; কারণ তাঁরা জানতেন, তিনি তা পছন্দ করতেন না।”
— (আদাবুল মুফরাদ: ৯৪৬; তিরমিযী; মুসনাদ আহমাদ)
তাই আমাদের উচিত হলো—ধর্মীয় বিষয়ে মন্তব্য করার আগে কুরআন-সুন্নাহ থেকে জ্ঞান অর্জন করা এবং আলেমদের প্রতি সম্মান বজায় রাখা।