22/04/2025
প্রাইভেট সেক্টরে একটি ভালো চাকরি পাওয়া যেনো আজকাল এক অলীক স্বপ্ন। বিশেষ করে যারা একেবারে নতুন-ফ্রেশার, তাদের জন্য এটি শুধু কঠিন নয়, অনেক সময় প্রায় অসম্ভব।
একটি আসন পাবার জন্য হাজারো প্রার্থী লাইন দিয়ে থাকে, আর যে জায়গা পায়, তার শুরুটা হয় ন্যূনতম বেতনে।
চোখে স্বপ্ন থাকলেও, হাতে থাকে শুধু কাজের বোঝা।
পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, নিজের শখ, সব কিছু পেছনে ফেলে শুধুই একটা লক্ষ্য নিয়ে ছুটে চলা: "এবারের মতো স্থির হই, একটু দাঁড়াই।"
কিন্তু দিনশেষে দেখা যায়, এই ছুটে চলার গন্তব্যটাই অনিশ্চিত।
যখন কেউ নিজের ক্যারিয়ারে ৭-৮ বছর দিয়ে কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করে, মিড লেভেলে উঠে আসে, তখনই শুরু হয় আসল খেলা- অফিস পলিটিক্স, গ্রুপিং, পেছনে কথা, গুটিবাজি।
আর যদি এমন সময় কোনো কারণে চাকরিটা চলে যায়- হয় হঠাৎ করে কোম্পানি বন্ধ, না হয় নতুন ম্যানেজমেন্টের গেম প্ল্যান- তখন শুরু হয় জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়।
এই বয়সে এসে, এই অভিজ্ঞতা নিয়ে, এই অবস্থানে দাঁড়িয়ে আবার নতুন চাকরি খোঁজা মানে পাহাড় ডিঙানোর চেয়েও কঠিন একটা যুদ্ধ।
যেখানে একসময় পরিবার গর্ব করত, এখন তারা চায় নিশ্চয়তা।আত্মীয়-স্বজনের চোখে একজন "অসফল মানুষ", সমাজে মানসিক চাপ আর ব্যক্তিগত জীবনে হতাশা- নিজের আয়নায় একটা ক্লান্ত, হতাশ, পরিশ্রান্ত মুখ।
মাস ছয়েক বা কখনো কখনো বছর দেড়েক ঘুরে যদি পুনরায় একটা জব মেলে তাহলে জবলেস থাকা অবস্থায় আর্থিকভাবে যে একটা গ্যাপ তৈরি হয় সেটা কাটিয়ে উঠতেই বহু সময় লেগে যায়।
এ যেনো এক নীরব যুদ্ধ।প্রতিদিন নিজেকে প্রমাণ করার লড়াই।
প্রায়ই দেখা যায় এখানে সাফল্য মানে চুপচাপ থাকা, আর ব্যর্থতা মানে একদিনেই সবাই ভুলে যাওয়া।
তবুও আমরা প্রতিদিন ঘড়ির কাঁটা ধরে অফিসে যাই, মুখে হাসি রেখে মিটিং করি, মনের গভীরে হাজারটা দুশ্চিন্তা লুকিয়ে রাখি।
কারণ আমরা জানি, স্বপ্ন দেখা থামিয়ে দিলে বাঁচাটাই দুর্বিষহ হয়ে যাবে।
আর এই কঠিন বাস্তবতায়ও আমরা আশা করি- একদিন না একদিন, আমাদের পরিশ্রম সার্থক হবে।