Electric Force BD

Electric Force BD Electric Force, we provide all types of Electrical service/repair/setup in our Electrical experts at a reasonable cost.

আমরা জরুরি প্রয়োজনে ২৪/৭ কাস্টমার সার্ভিস দিয়ে থাকি।

Important info.....
24/04/2023

Important info.....

21/05/2022

সকলে উপকৃত হবেন আশা করি

বৈদ্যুতিক পাখা আস্তে চালালে বিদ্যুৎ খরচ কম আর বেশি জোরে চালালে কি বেশি খরচ হয়?এই প্রশ্নটির উত্তর দেওয়ার জন্য প্রথমেই আমা...
13/05/2022

বৈদ্যুতিক পাখা আস্তে চালালে বিদ্যুৎ খরচ কম আর বেশি জোরে চালালে কি বেশি খরচ হয়?
এই প্রশ্নটির উত্তর দেওয়ার জন্য প্রথমেই আমাদের বৈদ্যুতিক পাখার কার্যপ্রণালী সম্পর্কে কিছুটা জেনে নিতে হবে।
• সর্বাগ্রে দেখা যাক বৈদ্যুতিক পাখা ঘোরে কীভাবে:
একটি পাখায় একটি বৈদ্যুতিক মোটর এবং কয়েকটি ধাতব ব্লেড (সাধারণত ৩টি), সংযুক্ত থাকে। যখন আমরা একটি পাখার সুইচ অন করি, তখন ভোল্টেজের পার্থক্যের জন্য মোটরটির মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ যায় এবং তার ফলাফল হিসাবেই পাখাটি ঘুরতে থাকে। নিয়ন্ত্রক বা রেগুলেটর মোটরের ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ করে এবং মোটরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বিদ্যুতের পরিমাণ কমিয়ে বা বাড়িয়ে দেয়।
সুতরাং, একটি পাখার ভোল্টেজর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণরূপে তার নিয়ন্ত্রক বা রেগুলেটরের ওপর নির্ভরশীল। আর একটি পাখার ভোল্টেজের পরিমাণ তার ঘূর্ণন গতির সমানুপাতী, অর্থাৎ ভোল্টেজ যত বাড়বে, পাখার গতিও ততটাই বাড়বে।
• এখন, বিভিন্ন রেগুলেটর ও তাদের কর্মপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা যাক:
এই মুহূর্তে, বাজারে মোটামুটি ২ ধরনের রেগুলেটর পাওয়া যায় —
1. ইলেক্ট্রিক রেগুলেটর (Electric Regulator): এই রেগুলেটরগুলিতে পাখার ভোল্টেজ হ্রাস করার জন্য রোধ বসানো থাকে। যখন পাখার ভোল্টেজ কমানো হয় তখন রোধটি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আর বিদ্যুৎ সরবরাহ কমার কারণে পাখার গতিও কমে যায়। কিন্তু এর ফলে পাখার ভোল্টেজ তথা গতি কমিয়ে যে বিদ্যুৎ বাঁঁচানো হয়, সেই বিদ্যুৎ এই রোধ-মধ্যস্থ তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে যায়। অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত, এই রেগুলেটরের মাধ্যমে পাখার গতি কমিয়ে বিদ্যুৎ খরচ বিশেষ কমে না বললেই চলে।
2. ইলেকট্রনিক রেগুলেটর (Electronic Regulator): এই রেগুলেটরগুলিতে পাখার ভোল্টেজ হ্রাস করার জন্য মূলতঃ ট্রায়াক থাকে যার গেটে ট্রিগার নিয়ন্ত্রণ করে ফ্যানের ভোল্টেজের সাইন ওয়েভকে নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং ভোল্টেজের আরএমএস ভ্যালুকে পরিবর্তণ করে ফ্যানের গতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এইগুলি কখনই গরম হয়ে ওঠে না, ফলে পাখা যখন কম গতিতে চলে তখন যথেষ্ট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। সাধারণত ইলেকট্রনিক রেগুলেটরগুলি ইলেক্ট্রিক রেগুলেটরগুলির থেকে প্রায় ৪০ শতাংশ বেশী বিদ্যুতসাশ্রয়ী।
তাই পরিশেষে বলা যেতে পারে, বৈদ্যুতিক পাখা কম গতিতে চালালে বিদ্যুৎ খরচ তখনই কম হবে যখন ইলেক্ট্রিক রেগুলেটরের পরিবর্তে ইলেকট্রনিক রেগুলেটর ব্যবহৃত হবে।

বাংলাদেশে একটি ১.৫ টনের এসি মোটামুটি (ধরুন দৈনিক পাঁচ ঘন্টা) ব্যবহারে মাসিক কী পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হবে?প্রথম কথা হলো এসিত...
09/05/2022

বাংলাদেশে একটি ১.৫ টনের এসি মোটামুটি (ধরুন দৈনিক পাঁচ ঘন্টা) ব্যবহারে মাসিক কী পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হবে?

প্রথম কথা হলো এসিতে থার্মোস্টাট থাকে যা নির্দিষ্ট সেট করা টেম্পারেচারে গেলে কম্প্রেশার বন্ধ করে দেয়। এখন ১ টনে হয় ৩.৫ কিলোওয়াটের মতন (গুগল সোর্স)।
আপনার পাঁচ ঘন্টায় এসি কোনোভাবেই সবসময় চলবে না। রুম কত বড় কজন আছে। দরজা কবার খুলছেন বাইরে হতে কি বাতাস আসছে এগুলোর উপর নির্ভর করে অনেক কিছু।
এখন ধরেন ১ ঘন্টা চললো তখন আপনি সেট করা টেম্পারেচারে চলে এসেছে এতে খরচ হবে 3.5 unit সাথে ফ্যানের জন্যে ৪০-৫০ ওয়াট যোগ হবে বাকি আরো চার ঘন্টায়ও। তবে এগুলো আপনি কত টেম্পারেচার সেট করেছেন তার ওপর নির্ভর করে কমবে বারবে।

একটা ১.৫ টন এসি কী পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে সেটা কিভাবে হিসাব করবে?বিদ্যুৎ বিল হিসাব হয় কতটুকু energy আপনি খরচ করছেন ত...
06/05/2022

একটা ১.৫ টন এসি কী পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে সেটা কিভাবে হিসাব করবে?

বিদ্যুৎ বিল হিসাব হয় কতটুকু energy আপনি খরচ করছেন তার উপর। Energy(unit)=Power(watt)×Time(hour)÷1000

এই সূত্র ব্যবহার করে আপনি সহজেই হিসাবটি করে ফেলতে পারবেন।

বাংলাদেশের হিসাবে ইউনিট প্রতি ৬ টাকার কিছু কম পড়ে। আমি ৬ টাকাই ধরে নিচ্ছি। তাও কত টাকা পড়বে সেটা ওয়েবসাইট এ যেয়ে মিলিয়ে নিন। কারণ অনেক বেশি ব্যবহার করলে সেটা ৬ টাকা থেকে বাড়তে থাকবে ১ টা নির্দিষ্ট লেভেল অনুসারে।

ধরে নিচ্ছি, আপনি১ টি Inverter technology এর ১.৫ টনের LG AC একটানা ৮ ঘণ্টা ব্যবহার করবেন।

Inverter 1.5 ton LG AC 80% energy consume option এ প্রথম ১ ঘণ্টা ৭০০ ওয়াট এর মত বিদ্যুৎ খরচ করে। এরপর ৪ ঘণ্টা ৫০০ ওয়াটের মত বিদ্যুৎ খরচ করে। এরপর ৩ ঘণ্টা ২০০ ওয়াটের মত বিদ্যুৎ খরচ করে। তবে এটা বাহিরের তাপমাত্রার উপর নির্ভর করে। এটা এভারেজ হিসাব।

তাহলে ৮ ঘণ্টা পর 1.5 Ton LG Inverter এর খরচ দাঁড়ায় ৩.৩ ইউনিট যার খরচ ১৯.৮ টাকা।

আমি Latest Technology এর দামী Ac এর হিসাব দিলাম। তাই কম মনে হতে পারে। কিন্তু পুরাতন AC গুলো ২০০০-২৫০০ ওয়াট বিদ্যুৎ লাগে। তাই অগুলো কেনা দাম কম এবং বিদ্যুৎ খরচ অনেক বেশি পড়বে। তো ৮ ঘণ্টা টানা চালালে খরচ হচ্ছে ২০ ইউনিট বা ১২০ টাকা।

এখন আপনি হিসাব করেন কত ঘণ্টা চালাবেন। ১ টি এসি ৯-১০ বছর চলে। inverter নিলে ৫০-৬০ হাজার বেশি খরচ করতে হবে কিন্তু ওদিকে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। সে হিসাবে দেখুন inverter নিলে আপনার লাভ হচ্ছে নাকি ক্ষতি হচ্ছে। অর্থাৎ ১০ বছরে ৬০ হাজার টাকার বেশি সাশ্রয় হচ্ছে কিনা।

29/03/2022
25/03/2022

২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সবাইকে Electric Force BD পরিবার এর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা।

আপনার স্মার্টফোন একবার চার্জ করতে কত টাকার বিদ্যুৎ খরচ হয় ?চলুন আজ আমরা ছোট্ট একটা পরীক্ষা করে দেখি। দিনরাত চার্জারে স্ম...
18/02/2022

আপনার স্মার্টফোন একবার চার্জ করতে কত টাকার বিদ্যুৎ খরচ হয় ?

চলুন আজ আমরা ছোট্ট একটা পরীক্ষা করে দেখি। দিনরাত চার্জারে স্মার্টফোন লাগিয়ে রাখায় যে ‘কোটি কোটি টাকা’ আপনার পকেট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে, তার একটা হিসাব কষার চেষ্টা করি। চাইলে আপনারাও খাতা-কলম নিয়ে বসে যেতে পারেন।

আমাদের লক্ষ্য হলো, স্মার্টফোন একবার শূন্য থেকে পূর্ণ চার্জ করতে কত টাকার বিদ্যুৎ খরচ হয়, তা বের করা। আর সে জন্য, আপনার স্মার্টফোন এবং যে চার্জার দিয়ে চার্জ করেন, সে সম্পর্কে গোটা কয়েক তথ্য দরকার। যেমন স্মার্টফোনের ব্যাটারিটি কত মিলিঅ্যাম্পিয়ারের, চার্জারটি কত ওয়াটের এবং ওই চার্জার দিয়ে শূন্য থেকে শতভাগ চার্জ হতে কতক্ষণ সময় লাগছে।

স্মার্টফোনের মোড়কে কিংবা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে ব্যাটারির মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার (এমএএইচ) সম্পর্কে তথ্য পাবেন। আর চার্জারের গায়ে সচরাচর ওয়াট সম্পর্কে তথ্য লেখা থাকে। এবার স্মার্টফোনের ব্যাটারির চার্জ কোনোভাবে শূন্য করে ফেলুন। ভিডিও দেখুন, ইন্টারনেট ব্রাউজ করুন, গেম খেলুন। চার্জশূন্য হয়ে বন্ধ হয়ে গেলে এবার চার্জিং কেব্‌ল যুক্ত করুন। দেখুন শতভাগ চার্জ পূর্ণ হতে ঠিক কত সময় লাগে।

এবার খাতা-কলমে একটু হিসাব কষলেই উত্তর পেয়ে যাবেন। মনে করুন, ৪০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারির একটি স্মার্টফোন ৫ ওয়াট চার্জার দিয়ে শতভাগ চার্জ করতে সময় লাগে ৩ ঘণ্টা। এবার ওয়াট আর ঘণ্টা গুণ করুন। আমাদের উদাহরণে সেটি হবে ১৫ ওয়াট। তবে বিদ্যুৎ বিলের হিসাব হয় কিলোওয়াট ঘণ্টায়। আর এক কিলোওয়াটে ১০০০ ওয়াট। অর্থাৎ ১৫ ওয়াট মানে ০.০১৫ কিলোওয়াট।

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ওয়েবসাইটে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের ২০২০ সালের ১ মার্চ থেকে কার্যকরী বিদ্যুতের মূল্যহার দেওয়া আছে। আমরা এখানে দ্বিতীয় শ্রেণির আবাসিক গ্রাহকের মূল্যহার বিবেচনায় নিচ্ছি। এই শ্রেণির গ্রাহকদের প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় বিদ্যুৎ বিলের খরচ ৫ টাকা ৭২ পয়সা। তাহলে ০.০১৫ কিলোওয়াট বিদ্যুতের খরচ হবে ০.০৮৫৮ টাকা।

খরচটা খুব বেশি নয়
খরচটা খুব বেশি নয়ফ্রিপিক

অর্থাৎ আমরা বলতে পারি, ৪০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারির একটি স্মার্টফোন ৫ ওয়াট চার্জার দিয়ে চার্জ করতে যদি ৩ ঘণ্টা লাগে, তবে মোট বিদ্যুৎ খরচ হবে ৯ পয়সার মতো। আপনি যদি প্রতিদিন একবার করে বছরে ৩৬৫ বার চার্জ করেন, তবে মোট খরচ হবে ৩২ টাকার কম। এর সঙ্গে অবশ্য বিদ্যুতের অপচয় থাকতে পারে, বিদ্যুতের বিলের সঙ্গে অতিরিক্ত খরচ থাকতে পারে। আবার সব সময় যে শতভাগ চার্জ হলেই আমরা চার্জারের সঙ্গে স্মার্টফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করি, তা-ও তো নয়। তবু সব মিলিয়ে খরচটা নগণ্যই বলতে হয়।

স্মার্টফোনে বুঁদ হয়ে থেকে আপনি ‘অসামাজিক’ হয়ে পড়ছেন কি না, তা নিয়ে ভাবতে পারেন। তবে দিনমান সেটি চার্জ করতে গিয়ে ফতুর হবেন কি না, তা না ভাবলেও চলবে।

পালস অক্সিমিটার কীভাবে কাজ করে?বেঁচে থাকার জন্য আমাদের অক্সিজেনের দরকার হয়। সুস্থ শরীর বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করতে পা...
11/02/2022

পালস অক্সিমিটার কীভাবে কাজ করে?

বেঁচে থাকার জন্য আমাদের অক্সিজেনের দরকার হয়। সুস্থ শরীর বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে, এবং সেই অক্সিজেন রক্তের মাধ্যমে শরীরের প্রত্যেকটি কোষে পাঠায়।

শরীরে অক্সিজেন কেন দরকার হয়? অক্সিজেনের সরবরাহ না থাকলে, বা প্রয়োজনের চেয়ে কমে গেলে আমাদের কী অসুবিধা হয়? আমাদের শরীরের জীববৈজ্ঞানিক মৌলিক উপাদান হলো—কোষ। আমাদের শরীরের সবকিছু এই কোষ দ্বারা গঠিত। আমাদের শরীরে গড়ে প্রায় ৭৫ ট্রিলিয়ন বা ৭৫ লক্ষ কোটি কোষ আছে। এক ফোঁটা রক্তেই আছে প্রায় ৫০ লক্ষ লাল রক্ত কোষ। সামগ্রিকভাবে বলা চলে আমাদের শরীরের সমস্ত কাজ নিয়ন্ত্রিত হয় এই কোষগুলির সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে। শরীরের প্রত্যেকটি কোষ সক্রিয় থাকার জন্য যে শক্তি লাগে তা নিজেরাই তৈরি করে। কোষ সক্রিয় থাকার অর্থ হলো শরীরে তার যে ভূমিকা তা সঠিকভাবে পালন করা এবং নির্দিষ্ট সময় পর পর কোষ বিভাজনের মাধ্যমে নতুন কোষ তৈরি করা। নতুন কোষ তৈরি হতে না পারলে আমরা দ্রুত মারা যাবো—কারণ স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিদিন প্রায় ৭০ হাজার কোটি কোষের মৃত্যু হয় আমাদের শরীরে। নতুন কোষ এই মৃতকোষগুলির দায়িত্ব পালন করে। কোষের কাজ চলার জন্য যে শক্তি লাগে সেই শক্তি উৎপন্ন হবার জন্য দরকার হয় অক্সিজেনের। বেশ কয়েকটি ধাপে এই শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়া সংঘটিত হয়। আমরা যে খাবার খাই, সেগুলোর রাসায়নিক উপাদানের সাথে অক্সিজেনের বিক্রিয়ায় শক্তি উৎপন্ন হয়। যেমন গ্লুকোজ অণুর সাথে অক্সিজেন অণুর বিক্রিয়ার ফলে যে তাপ উৎপন্ন হয়, সেটাই কোষের কাজকর্ম করার শক্তি যোগায়। তার সাথে তৈরি হয় পানি এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড। এই পানিও শরীরের অনেক কাজে লাগে। আর কার্বন-ডাই-অক্সাইড আমরা শরীর থেকে বের করে দিই।

কোষ তার দরকারি অক্সিজেন পায় রক্ত থেকে। আমাদের শরীরের রক্তসংবহনতন্ত্রে দুই ধরনের রক্তনালিকা আছে। এক ধরনের রক্তনালিকা অক্সিজেনযুক্ত রক্ত সরবরাহ করে—তাদেরকে আমরা বলি ধমনী বা আর্টারি। আরেক ধরনের রক্তনালিকা কার্বন-ডাই-অক্সাইডযুক্ত রক্ত বহন করে—তাদেরকে আমরা বলি শিরা বা ভেইন। ধমনী কোষের মধ্যে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। আর কোষে যে কার্বন-ডাই-অক্সাইড তৈরি হয় শিরা সেগুলো নিয়ে আসে ফুসফুসে। ফুসফুস রক্ত থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড আলাদা করে ফেলে। আমরা নিশ্বাসের মাধ্যমে সেই কার্বন-ডাই-অক্সাইড শরীর থেকে বের করে দিই। সুস্থ থাকার জন্য আমাদের রক্তে প্রয়োজনীয় পরিমাণে অক্সিজেন থাকতে হয়। রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ মাপা হয় ধমনীর রক্ত পরীক্ষা করে। আর্টারিয়াল ব্লাড গ্যাস বা এবিজি পরীক্ষার মাধ্যমে সঠিকভাবে মাপা যায় রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ। কিন্তু সেই পদ্ধতিটি খুব সহজ নয়। ধমনী থেকে রক্ত নিয়ে তা পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করতে হয়। এর চেয়ে অনেক সহজ পদ্ধতি হলো খুবই ছোট্ট একটা যন্ত্র—পালস অক্সিমিটারের সাহায্যে রক্তের অক্সিজেনের পরিমাণ মেপে দেখা। এই যন্ত্রটি আঙুলে লাগিয়ে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ এবং হার্টবিট মাপা যায়। এর জন্য শরীর থেকে রক্ত নেয়ারও দরকার হয় না, কোনো পরীক্ষাগারেরও দরকার হয় না। বিদ্যুৎচুম্বক তরঙ্গের সাধারণ ধর্মকে কাজে লাগিয়ে রক্তে অক্সিজেন সম্পৃক্তি বা ব্লাড অক্সিজেন স্যাচুরেশান পরিমাপ করা হয়। জাপানী ইঞ্জিনিয়ার তাকুও আওইয়েগি (Takuo Aoyagi) ১৯৭৪ সালে আধুনিক পালস অক্সিমিটার উদ্ভাবন করেন।

রক্তের হিমোগ্লোবিনই মূলত অক্সিজেন বহন করে। তবে সব হিমোগ্লোবিন যৌগেই অক্সিজেন থাকবে এমন কোন কথা নেই। হিমোগ্লোবিনে যদি অক্সিজেন থাকে—তাদেরকে বলা হয় অক্সিজেনেটেড বা অক্সিজেনযুক্ত হিমোগ্লোবিন। আর যেসব হিমোগ্লোবিনে অক্সিজেন থাকে না, তাদের বলা হয় ডি-অক্সিজেনেটেড বা অক্সিজেনমুক্ত হিমোগ্লোবিন। অক্সিজেন স্যাচুরেশান বা সম্পৃক্তি মূলত নির্দেশ করে রক্তের মোট হিমোগ্লোবিনের কতভাগ অক্সিজেন বহন করে। একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ রক্তে যত হিমোগ্লোবিন আছে, তার সবগুলোতে যদি অক্সিজেন থাকে—তাহলে বলা যায় অক্সিজেন সম্পৃক্ততার পরিমাণ শতকরা ১০০ ভাগ। আর যদি মাত্র ৭০ ভাগ অক্সিজেনেটেড হিমোগ্লোবিন, আর ৩০ ভাগ ডি-অক্সিজেনেটেড হিমোগ্লোবিন থাকে, তাহলে অক্সিজেন সম্পৃক্ততা হবে ৭০%।

পালস অক্সিমিটার খুব সহজেই এই সম্পৃক্ততার পরিমাণ হিসেব করতে পারে। কীভাবে? পালস অক্সিমিটার একটি ছোট্ট ক্লিপের মতো আঙ্গুলের উপর আটকে দেয়া যায়। এর একদিকে থাকে পাশাপাশি দুটো লাইট এমিটিং ডায়োড বা এলইডি লাইট সোর্স। এদের একটি লাল আলো দেয়—যার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৬০ ন্যানোমিটার। এই আলো আমরা খালি চোখেও দেখতে পাই। অন্য এলইডি থেকে ইনফ্রা-রেড বা অবলোহিত আলো নির্গত হয়—যার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৪০ ন্যানোমিটার। অবলোহিত আলো আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না। এই আলো ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভ বা বিদ্যুৎচুম্বক তরঙ্গের অংশ। ক্লিপের অন্যপ্রান্তে থাকে আলোক-সংবেদী ডিটেক্টর যা বিদ্যুৎচুম্বক তরঙ্গের সাথে মিথস্ক্রিয়ায় (ইন্টারঅ্যাকশান) তড়িৎচুম্বক তরঙ্গের সমানুপাতিক হারে ইলেকট্রনিক সিগনাল উৎপন্ন করে।

বিদ্যুৎচুম্বক তরঙ্গ প্রয়োগ করলে তার কিছুটা শরীরে শোষিত হয়, আবার কিছুটা শরীর ভেদ করে অন্যদিক থেকে বের হয়ে আসে। কতটুকু শোষিত হবে, কতটুকু নির্গত হবে তা নির্ভর করে বিদ্যুৎচুম্বক তরঙ্গের কম্পাঙ্ক এবং শক্তির উপর। দৃশ্যমান আলোর শক্তির চেয়ে এক্স-রের শক্তি বেশি। তাই এক্স-রের বেশিরভাগ শরীর ভেদ করে বের হয়ে আসে। কিন্তু দৃশ্যমান আলোর বেশিরভাগ শোষিত হয়। আবার একই শক্তি ও কম্পাঙ্কের তরঙ্গও শরীরের কোন কোষ কতটুকু শোষণ করবে তা নির্ভর করে কী পরিমাণ পদার্থ এবং কোন ধরনের পদার্থের ভেতর দিয়ে তা আসছে তার ওপর। অক্সিজেনযুক্ত হিমোগ্লোবিনে পদার্থের পরিমাণ অক্সিজেনমুক্ত হিমোগ্লোবিনের চেয়ে বেশি। তাই অক্সিজেনযুক্ত হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনমুক্ত হিমোগ্লোবিনের চেয়ে অনেক বেশি আলো শোষণ করে। অক্সিজেনযুক্ত হিমোগ্লোবিন লাল আলো যতটুকু শোষণ করে তার চেয়ে অনেক বেশি শোষণ করে অবলোহিত আলো। অক্সিজেনমুক্ত হিমোগ্লোবিনের শোষণ হয় উভয়ক্ষেত্রেই আনুপাতিকহারে কম।

অক্সিমিটারের ক্লিপ আঙুল চেপে ধরে। আঙ্গুলের মধ্যে শিরা এবং ধমনী দুটোই আছে। ধমনীর রক্তে অক্সিজেন থাকে। কিন্তু শিরার রক্তে যে কার্বন-ডাই-অক্সাইড থাকে, সেই কার্বন-ডাই-অক্সাইডেও অক্সিজেন থাকে। তাহলে সেই অক্সিজেনও হিসেবে চলে আসার কথা। তাহলে শিরার রক্ত এবং ধমনীর রক্ত কীভাবে বুঝতে পারে অক্সিমিটার? শুধুমাত্র ধমনীর রক্তের অক্সিজেনই তো আমরা মাপতে চাই। এখানে ভূমিকা রাখে আমাদের হৃদপিণ্ডের সংকোচন এবং প্রসারণ বা সিস্টোল এবং ডায়াস্টোল। হৃদপিণ্ডের সংকোচনের সময় ধমনীর রক্তের পরিমাণ বেড়ে যায়, আবার প্রসারণের সময় ধমনীর রক্তের পরিমাণ কমে যায়। ফলে ধমনীতে রক্তের পরিমাণের উঠানামার তরঙ্গ তৈরি হয়। এই তরঙ্গের কম্পাঙ্ক ধমনীর পালস বা স্পন্দনের কম্পাঙ্কের সমান। এক মিনিটে কয়টা স্পন্দন হয় সেটাও হিসেব করা যায় ধমনীর রক্তের তরঙ্গের হিসাব থেকে। শিরার মধ্য দিয়ে রক্তপ্রবাহের পরিমাণের কোন তারতম্য ঘটে না। ফলে কোন তরঙ্গ সৃষ্টি হয় না। ধমনী ও শিরার রক্তপ্রবাহের মধ্যে যে তরঙ্গগত পরিবর্তন ঘটে তাকে প্লেথিস্মোগ্রাফিক ট্রেস বা সংক্ষেপে প্লেথ বলা হয়। পালস অক্সিমিটারের ফলাফল সঠিকভাবে নির্ণয়ের জন্য এই প্লেথ খুব ভালো হতে হয়।

ধমনীর রক্তে অক্সিজেন সম্পৃক্ততার পরিমাপ করা হয় অক্সিজেনযুক্ত ও অক্সিজেনমুক্ত হিমোগ্লোবিনের অনুপাতের হিসেব করে। রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ বেশি হলে লাল আলোর শোষণ বেশি হবে, নির্গমন কম হবে। ফলে ডিটেক্টর কম আলো শনাক্ত করবে। অবলোহিত আলোর শোষণ ঘটবে আরও বেশি। ডিটেক্টর অবলোহিত আলো শনাক্ত করবে আরও কম। তখন লাল আলো ও অবলোহিত আলোর অনুপাত হবে বেশ কম। একইভাবে রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ কম হলে শোষণ কম হবে, নির্গমন বেশি হবে। ফলে ডিটেক্টরে শনাক্তকৃত লাল আলো ও অবলোহিত আলোর অনুপাত হবে বেশ বড়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে ডিটেক্টরে শনাক্তকৃত লাল ও অবলোহিত আলোর অনুপাত অক্সিজেন সম্পৃক্ততার বিপরীত অনুপাতিক।

অক্সিমিটারের ক্লিপে লাল ও অবলোহিত আলোর এলইডি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ব্যবহারের সময় রুমে অন্য যেসব আলো থাকে—সেই আলোও আঙুলে প্রবেশ করে। এখন সেই আলো কি অক্সিমিটারের রিডিংয়ে সমস্যা করে? আসলে করে না। কীভাবে? অক্সিমিটারের ক্লিপে আঙুল রাখার পর প্রথম ধাপে লাল আলো জ্বলে। তখন রুমের আলো ও লাল আলো ডিটেক্ট করে ডিটেক্টর। তারপর দ্বিতীয় ধাপে অবলোহিত আলো জ্বলে। তখন ডিটেক্টর অবলোহিত আলো ও রুমের আলো ডিটেক্ট করে। তৃতীয় ধাপে লাল ও অবলোহিত আলো দুটোই বন্ধ থাকে। তখন শুধু রুমের আলো ডিটেক্ট করে ডিটেক্টর। অক্সিমিটারের ইলেকট্রনিক সার্কিট এই রুমের আলোর সিগনাল আনুপাতিক হিসাব থেকে বাদ দেয়। তাই রুমে কী আলো জ্বললো তাতে অক্সিমিটারের রিডিং-এ কোন সমস্যা হয় না। তবে আঙুলের নখে যদি গাঢ় রঙের নখপালিশ থাকে—অক্সিমিটারের রিডিং-এ সামান্য তারতম্য ঘটতে পারে। এই করোনাকালে অনেকেই শরীরে অক্সিজেন সম্পৃক্তির পরিমাণের দিকে নজর রাখছেন পালস অক্সিমিটারের সাহায্যে। সাধারণত সুস্থ শরীরে রক্তের অক্সিজেন সম্পৃক্ততা ৯৫%-এর বেশি থাকে।

Address

Kha-29, Nodda, Sarkarbari, Gulshan
Dhaka
1212

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00
Tuesday 09:00 - 20:00
Wednesday 09:00 - 20:00
Thursday 09:00 - 20:00
Saturday 09:00 - 20:00
Sunday 09:00 - 20:00

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Electric Force BD posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category