Dreams Line Architects

Dreams Line Architects Architecture, Interior Design, Landscape, Construction

02/10/2023
আপনার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয়ার জন্য আমরাই হতে পারি আপনার জন্য আদর্শ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। বাড়ির ডিজাইন ও ইন্টেরিয়র ডেক...
25/01/2021

আপনার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয়ার জন্য আমরাই হতে পারি আপনার জন্য আদর্শ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। বাড়ির ডিজাইন ও ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন সেক্টরে আমাদের রয়েছে দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা ৷ আলো-বাতাসে ভরপুর বাড়ির ডিজাইন ও রুচিসম্মত ইন্টেরিয়র কাজ করার লক্ষ্যেই আমাদের রয়েছে অভিজ্ঞ আর্কিটেক্ট ৷ আপনার সম্পদের সঠিক ও নিরাপদ ব্যবহারই আমাদের লক্ষ্য ।

বিস্তারিত জানতে আমাদের সাথে
যোগাযোগ করুন: 01711576044
Rasel House at College Bazar, Karnaphuli, Chattogram

আপনাদের সারাজীবনের স্বপ্নের বাড়ির বাস্তবায়নের কাজ যাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ তত্ত্বাবধানে হয়ে থাকে এবং যাদের সুযোগ্য জ্ঞান...
13/01/2021

আপনাদের সারাজীবনের স্বপ্নের বাড়ির বাস্তবায়নের কাজ যাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ তত্ত্বাবধানে হয়ে থাকে এবং যাদের সুযোগ্য জ্ঞানে একটি সাধারণ বাসা হয়ে ওঠে স্বপ্নের আবাস তারা হলেন স্থপতি ও প্রকৌশলী। আপনার বাসা যাতে আলো-বাতাসে ভরপুর হয়ে খোলামেলা সুন্দর ও মনের মত হয়ে উঠে সেজন্য আমরা স্থপতিরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে থাকি।
একটি সুন্দর দালান শুধুই খোলস,একজন স্থপতি তার জ্ঞান কাজে লাগিয়ে বাড়িকে করে তুলে বসবাসযোগ্য ও কার্যকর। আমাদের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে আমরা বানাতে পারি আপনাদের স্বপ্নের বাড়ি, যাতে আপনারা জীবনযাপন করতে পারেন স্বচ্ছন্দে।

Dr. Sarwar House at Bahar Chara, Cox's Bazar

31/07/2020
 #তাপমাত্রা  #নিয়ন্ত্রণ  #করুন  #বাড়ি  #নির্মাণ  #করার  #আগে...চলছে গ্রীষ্মকাল। বাড়তে শুরু করেছে জনবহুল নগরী ঢাকাসহ সার...
30/07/2020

#তাপমাত্রা #নিয়ন্ত্রণ #করুন #বাড়ি #নির্মাণ #করার #আগে...

চলছে গ্রীষ্মকাল। বাড়তে শুরু করেছে জনবহুল নগরী ঢাকাসহ সারা দেশের তাপমাত্রা। আপাতত সহনশীল পর্যায়ে থাকলেও আর কিছুদিনের মধ্যেই তাপমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে আমাদের আরামদায়ক মাত্রার সীমা। ঘর তৈরি করে ফেললে তো কথা নেই, কিন্তু ভবন নির্মাণের আগেই কীভাবে পরিকল্পনা করতে হবে আরামদায়ক তাপমাত্রায় গ্রীষ্মকালীন ঘর পেতে?

একটি ভবন নির্মাণের আগেই বসবাসকারী মানুষের জীবন কেমন হবে তা চিন্তা করা উচিৎ। বাংলাদেশের মতো মৌসুমী ও আর্দ্র জলবায়ুর দেশে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ অনেক বেশি কঠিন, কারণ এখানে তাপমাত্রা আসলে যা থাকে, আর্দ্রতার কারণে তার চেয়ে তিন থেকে চার ডিগ্রি বেশি অনুভূত হয়। তাই তাপমাত্রাজনিত আরাম (Thermal Comfort) নিশ্চিত করতে হয় ভবনের নকশা করার সময়েই।

"ভবন নির্মাণে জলবায়ুর প্রভাব"

বাংলাদেশে এক সময় মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা অনুধাবন করা যেত ঘরের চাল দেখে। একদম নিম্ন আয়ের মানুষেরা ছনের চালের ঘর তৈরি করতেন। আরেকটু অবস্থাসম্পন্ন মানুষেরা করতেন টিনের চাল। সে টিনের চালও আবার অবস্থার উন্নতির সাথে সাথে একচালা, দোচালা থেক চৌচালা ঘর পর্যন্ত পৌছে যেত চালের সমাহার। তবে এদের মধ্যে একটি সাধারণ মিল হচ্ছে চালগুলো সমতল হত না। যখন পাকা ভবন বানানো শুরু হলো, এটিকে বাহুল্য হিসাবে ধরে নেয়া হলো আর এর জায়গা দখল করে নিল সমতল ছাদ। ছাদে যাওয়ার সুবিধার সাথে বৃষ্টির জন্য সামান্য ঢালু করে দিলেই বৃষ্টির পানি নেমে যেতে পারল। অথচ ইউরোপের দিকে তাকান। বেশিরভাগ ঘরের চাল এখনো টালির তৈরি এবং চুড়ার মতো উঠে যাওয়া চাল দেখা যায় সারা ইউরোপেই।

এর কারণ মূলত জলবায়ুর বিভিন্নতা। বাংলাদেশে অসমতল চাল প্রয়োজন হয় মূলত বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ার সুবিধা করে দিতে। সমতল ছাদে সামান্য কিন্তু সুষম অসমতল তৈরি করে সে চাহিদা মেটানো সম্ভবপর হয়েছে। কিন্তু ইউরোপের তুষারপাত সুলভ শীতের কারণে চালে জমে থাকা বরফ পরিষ্কার করা ও গলে যাওয়ার সুবিধার্থে প্রয়োজন হয় হেলানো ও টালি দ্বারা তৈরি চাল। এরকম আরও অনেক ক্ষেত্রেই আপনার ভবন দেখতে ও ব্যবহারের দিক থেকে কেমন হবে তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে জলবায়ু। তাই ভবন নির্মাণ করতে গেলে অবশ্যই জলবায়ুর বিষয়টি মাথায় রাখতেই হবে। এক্ষেত্রে আসুন এক নজরে দেখে নিই কী কী ধাপ মেনে ভবন নকশা করা দরকারি।

১। জায়গা বা ‘সাইট’ বিশ্লেষণ

ভবন নির্মাণের আগে স্থপতিকে ওই এলাকার আবহাওয়ার প্রকৃতি, মাটির ধরন, বাতাসের গতি প্রকৃতি, আশেপাশের ভবনের বসবাসের ধরন এবং ভুগোল সম্পর্কে ধারণা রেখে কাজ করতে হবে ও নকশায় তার প্রতিফলন ঘটতে হবে। সফল ও দীর্ঘস্থায়ী ভবনের মালিক হতে স্থপতিকে এইসকল ব্যাপার নিয়ে প্রশ্ন করুন ও উৎসাহিত করুন যেন এর প্রতিটি বিষয় মাথায় রাখা হয়।

২। ভবনের ‘লে আউট’ তৈরিতে জলবায়ু
জলবায়ু ও পরিবেশগত উপাদানই ভবনের প্রাথমিক লে-আউট তৈরির মূল চালিকাশক্তি। যেমন- বাংলাদেশের মৌসুমী জলবায়ুতে গ্রীষ্মকাল লম্বা হবার পথে আর গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ পূর্ব দিক থেকে বাতাস আসে। শীতকালে বাতাস আসে উত্তর থেকে এবং পশ্চিম দিক থেকে সবচেয়ে বেশি তাপ আসে। তাই যেকোনো লে-আউটে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ঘরগুলোকে দক্ষিণ দিকে স্থাপন করা এখানে আবশ্যক।

৩। সূর্যের গতি প্রকৃতিঃ
জলবায়ু অনুসারে সূর্যের কৌনিক পথ সব সময় আলাদা হয়। তাই ভবন নির্মানের আগে এই ব্যাপারে বৈজ্ঞানিকভাবে জেনে নেয়া ও গবেষনা করে নেয়া দরকারী। সরাসরি সুর্যালোক ঘরে প্রবেশ কমিয়ে ও সূর্যালোকের উজ্জ্বলতা কমিয়ে ভবনের বসবাসকে আরামদায়ক করা যায়। ভবনে ব্যবহৃত সানশেড-লিনটেল, পোর্চ এবং সোলার প্যানেল (PV প্যানেল) এর অবস্থান ঠিক করতে হবে সূর্যের গতি প্রকৃতির উপরেই।

৪। দরজা জানালায় জলবায়ুর প্রভাবঃ

বাংলাদেশে সহজ নির্মাণ, দাম ও বাজারে সুলভ প্রাপ্তির কারনে Thai গ্লাস জনপ্রিয় হলেও এ ধরনের জানালা আমাদের দক্ষিণ পূর্বের বাতাস এর আগমনপথ যেমন অর্ধেক করে দেয়, তেমনি সূর্যালোক সরাসরি ঢুকতেও তেমন কোন বাধা প্রদান করতে পারে না। বাংলাদেশের জলবায়ুগত কারনে এই ধরনের কাচের জানালা বা কমার্শিয়াল ভবনে কাচ এর তৈরি দিক গুলি তাপ ধরে রাখে ও এসির উপর আমাদের নির্ভরতা বাড়ায়। জলবায়ুগত কারনে দরজা ও জানালা সুইং ও কাঠের তৈরি হলে ঘর বসবাস এর জন্য আরামদায়ক হয়।

৬। ভৌগলিক প্রকৃতি ও ভবনঃ

মাটির প্রকৃতির উপরে ভবনের ফাউন্ডেশান বা পাইলিং ই শুধু নয় নকশাও নির্ভর করবে। ঢাকার সমতল ভূমিতে ভবন যেমন হবে, চট্টগ্রাম এর পাহাড়ি প্রকৃতিতে একই বিবেচনায় ভবন নির্মান হতে পারে দীর্ঘমেয়াদী একটি ভুল সিদ্ধান্ত। এছাড়া আদ্রতা ও তাপমাত্রার পার্থক্য মাথায় নিয়ে কাজ না করলেও ভৌগলিক কারনে ভবনের ক্ষতি হতে পারে। পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ি ঢাল ও পাহাড়ের কারনে ঝড়ের গতিপ্রকৃতি পরিবর্তন মাথায় রাখা যেমন দরকারী, তেমনি সমতলে ভবন নির্মাণের সময় জলাধার ও পানি প্রবাহের অঞ্চল পরিহার করাও অত্যাবশ্যক।

৭। ভবন ও জলবায়ু এবং আপনার ভূমিকাঃ

একটি দেশের স্বাভাবিক জলবায়ুকে ভবন নির্মানের সময় আপনাকে সম্মান করতে হবে আপনার নিরাপদ ও দীর্ঘমেয়াদে আরামদায়ক বসবাসের স্বার্থেই। কিন্তু এই জলবায়ু বিশ্বজুড়েই এখন হুমকির সম্মুখীন। অসংবেদনশীল ভবন নির্মাণ ও ব্যবহারের কারনে জলবায়ুর উপরে পড়তে পারে খারাপ ভুমিকা। এ কারণে আমাদের দায়িত্বশীল হতে হবে। ভবনের ফুটপ্রিন্ট ব্যবহারে সচেতন হোন। দরকারের চেয়ে বেশি জায়গা ধরে ভবন তৈরি করবেন না। ভবনের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারে ইট বা কংক্রিট এর মত উপাদান ব্যবহার পরিবেশ এর কিছুটা হলেও ক্ষতি করবে। তাই স্মার্ট নকশা করান ও স্থপতির সাহায্য নিন। এছাড়া ভবনের ছাদে ও MGC বা FAR এর অনুমোদিত অংশের বাইরে গাছ লাগান। সারা ভবনের প্লট জুড়ে বেজমেন্ট তৈরি না করে সরকারের নিয়ম মত ২৫% জায়গা পুরোপুরি বৃষ্টির পানি শোষন এর জন্য ছেড়ে দিন।

মনে রাখবেন আপনার ভবনে আপনি কতটা আরামদায়কভাবে থাকবেন তা বেশি স্কয়ার ফিট এর চেয়েও বেশি নির্ভর করে আপনি এলাকার জলবায়ুর সাথে ভবনকে কতটা মানানসই হিসাবে তৈরি করতে পারছেন। তাই সংবেদনশীল হোন। নিজে নিরাপদ ও আরামদায়ক ভবন পান। সাহায্য করুন আপনার শহর, দেশ ও বিশ্বের মানুষকে একটি আরামদায়ক জীবন পেতে।

© HBC

28/07/2020

*** বাড়ির নকশায় স্থপতি ও প্রকৌশলীর ভূমিকা ***

আমাদের সারাজীবনের স্বপ্নের বাড়ির বাস্তবায়নের কাজ যাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ তত্ত্বাবধানে হয়ে থাকে এবং যাদের সুযোগ্য জ্ঞানে একটি সাধারণ বাসা হয়ে ওঠে স্বপ্নের আবাস তারা হলেন স্থপতি ও প্রকৌশলী। আপনার বাসা যাতে আলো-বাতাসে ভরপুর হয়ে খোলামেলা সুন্দর ও মনের মত হয়ে উঠে সেজন্য তারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে থাকেন।
সাধারণত বাড়ির নকশা করার সময় থেকে নির্মাণের পুরোটা সময় এবং ক্ষেত্রবিশেষে মেইন্টেনেন্স ও এই সংক্রান্ত বিশেষ পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে তারা আমাদের জীবনকে করে তুলেন স্বচ্ছন্দ ও সাবলীল। আসুন আমরা জেনে নিই কী তাদের ভূমিকা এবং কেন একজন বিশেষজ্ঞ স্থপতি ও প্রকৌশলী আমাদের বাসা নির্মাণের সময় নিয়োগ করতে হবে।

** স্থপতির প্রয়োজনীয়তা **

দালান নির্মাণের নকশা পর্যায়ে প্রথমেই একজন স্থপতি নিয়োগ করা আবশ্যক। একজন স্থপতির অবশ্যই দালান নির্মাণ এবং নির্মাণ বিধিমালান সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান এবং দালান নির্মাণ সংক্রান্ত কাজে ক্লায়েন্ট ও অন্যান্য এক্সপার্টদের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকা উচিৎ। একজন স্থপতিই আপনার সাধ ও সাধ্যের সম্পূর্ণ সমন্বয় ঘটিয়ে আপনার বাড়িকে করে তোলে কাব্যিক। স্থপতিরা এমন নকশা তৈরি করেন যা হয় নান্দনিক, সৃজনশীল এবং বাসায় বসবাসকারীদের দৈনন্দিন কাজগুলো হয়ে উঠে স্বচ্ছল, নির্ভেজাল।
কাজ শুরুর আগে স্থপতির কাজ ক্লায়েন্টের প্রয়োজনীয়তা বোঝা, তার উদ্দেশ্য এবং প্রত্যাশা সম্পর্কে একটি যত্নশীল নোট নেওয়া, প্রকল্পটির আকার নির্ধারণ ও এর অনুপাতে প্রত্যাশিত বাজেট, সাইটের বৈশিষ্ট্য এবং সাইটের আশেপাশের পরিবেশ সম্পর্কে আলোচনা।
বাড়ির ডিজাইন শুরু করার আগে একজন স্থপতি যা করেন তা হচ্ছে –

– সাইটের সীমাবদ্ধতা এবং সম্ভাব্যতা বোঝা
– আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আলোচনা করা
– যদি কাজটি সংস্কার বা পুনর্বাসন বা কোনও নতুন নির্মাণ হয় তবে সম্ভাব্য সকল সমাধানের পরামর্শ ও অধ্যয়ন
– সম্ভাব্যতা সমীক্ষা আনা এবং উপস্থাপন করা
– প্রয়োজনের ভিত্তিতে সাইট বা বিল্ডিংয়ের বিভিন্ন পছন্দ
– বিভিন্ন প্রশাসনিক পদ্ধতিগুলি কাটিয়ে উঠতে বিভিন্ন বিকল্পের বিধান
– প্রক্রিয়া পরিকল্পনা

* ড্রয়িং সংক্রান্ত দায়িত্ব *

একটি প্রজেক্ট শুরু করার আগে প্রচুর ড্রয়িংয়ের প্রয়োজন হয়। সাধারণ জায়গাগুলোর অবস্থান থেকে শুরু করে সূক্ষ্মতম ডিটেইল ড্রইং সবকিছুই একজন স্থপতির করতে হয়। ড্রইং এর ভুলগুলি কাজ শুরু করার আগেই যাচাই করে নিতে হয়, কেননা ড্রইংয়ে সামান্য ভুলের জন্য ক্লায়েন্টের যেমন খরচ বেড়ে যায়, তেমনি বাড়ে সেই বাড়িতে বসবাসের সময়ের অস্বস্তিও। প্রাথমিক এই ড্রয়িং সঠিক সময়ে প্রজেক্টের কাজ নিশ্চিত করে।

ড্রয়িংগুলোর ভিত্তিতে বিশদ অনুমান, উপাদান সংগ্রহ এবং সাইটে কাজ করা হয়। প্রাথমিকভাবে, স্কেচ ডিজাইনগুলি প্রস্তুত করা হয় যা বিল্ডিংয়ের অবস্থানটি দেখায়। এটি অভ্যন্তরের ও আশেপাশের বিভিন্ন জায়গার বিন্যাসের পাশাপাশি, পাশাপাশি বসার বিভিন্ন কানেকশন সম্পর্কে ধারণা দেয়। স্কেচ ডিজাইনের ভিত্তিতে ক্লায়েন্ট নির্দিষ্ট নীতি এবং চুক্তিতে সম্মত হন।

বিল্ডিং বা কাঠামো নির্মাণের কাজটি এখন স্থপতি এবং একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার উভয়েরই দ্বারা সম্পাদিত হয় যদি তাদের পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা থাকে। একজন আর্কিটেক্টের যে বিভিন্ন ড্রয়িং করতে হয় তার মধ্যে ফ্লোর প্ল্যান, সাইট প্ল্যান, উচ্চতা এবং আইসোমেট্রিক ভিউ, অন্যান্য বিস্তারিত স্ট্রাকচারাল অঙ্কন, থ্রিডি মডেল এবং থ্রিডি ভিউ অন্তর্ভুক্ত।

মূলত এই কাজগুলো বা স্থপতি দ্বারা প্রদত্ত বিবরণগুলো তাকে দেয়া ক্লায়েন্টের চাহিদা ও কাজের ওপর নির্ভর করবে। কখনও কখনও এমন পরিস্থিতি আসে যেখানে আমাদের পরিকল্পনা এবং কাঠামোগত বিল্ডিংয়ের নকশা করার জন্য একজন স্ট্রাকচারাল ডিজাইনার থাকেন।

প্রদত্ত প্ল্যানিঙের জন্য আমাদের একটি ভাল এলিভেশন থাকা দরকার। আমরা সামনের উচ্চতা এবং ল্যান্ডস্কেপিংয়ের টেকনিক্যাল সমস্যা মোকাবেলায় যখন স্থপতির কাছে যাব তখন তা প্রকৌশলী এবং স্থপতি এর মধ্যে সহযোগিতা এবং আলোচনার জন্য ক্ষেত্র তৈরি করবে।

এসব ছাড়াও একজন স্থপতি কস্ট এস্টিমেশন প্রদান করেন এবং তিনি যদি কোন কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হন তাহলে তাদের মার্কেটিংয়ের স্বার্থে পরামর্শ প্রদান করতে পারেন।
এছাড়াও দালান কনস্ট্রাকশনের সময়কালে প্রকৌশলীর সাথে সমন্বয় করে সুষ্ঠুভাবে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হচ্ছে কিনা এবং সাইটে সময়ে সময়ে তদারকি করতে চুক্তিবদ্ধ করা যেতে পারে। এত সব গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য বাসা নির্মাণের আগে আমাদেরকে অবশ্যই একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত সুযোগ্য স্থপতিকে দালানের নকশার কাজে নিয়োগ করতে হবে।

** প্রকৌশলীর ভূমিকা কী? **

একটি দালান বা বাড়ি ঠিকমত নির্মাণ করতে সবচেয়ে বেশি যাকে প্রতিটি পদক্ষেপে দরকার হয়, তিনি হলেন প্রকৌশলী। একটি দালানের নির্মাণ কাজে বিভিন্ন এক্সপার্ট প্রকৌশলীর সাহায্য প্রয়োজন হয়ে থাকে, যেমন- সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার কিংবা ইলেক্ট্রিক ইঞ্জিনিয়ার। এদের সকলের সহায়তায় একটি বাড়ি হয়ে উঠে বসবাসযোগ্য, আরামদায়ক এবং আমাদের স্বপ্নের রঙ-এ রঙিন। তারা স্থপতির সাথে কোলাবোরেশন করে দালানের নকশা কাজ থেকে শুরু করে নির্মাণের শেষ পর্যায় এবং পরে প্রয়োজনমত মেইন্টেনেন্সের কাজের জন্য সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আসুন আমরা জেনে নেই তারা কী কী ভূমিকা পালন করে থাকেন।

** স্ট্রাকচারাল সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের ভূমিকা **

স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রের অধীনে একটি বিস্তৃত ক্ষেত্র। এটি সীমাহীন তত্ত্ব এবং অনুশীলন সহ একটি বিস্তৃত বিষয়। এটি এমন একটি ক্ষেত্র যা এখনও বিশাল উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং কন্সেপ্ট নিয়ে বিকাশ করছে। কাঠামোগত প্রকৌশল (স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং) কাঠামোর নকশা এবং দালানের কাঠামোগত অখণ্ডতার সাথে বেশি জড়িত। এই কাঠামোগুলি বিল্ডিং, বাঁধ, টানেল, ব্রিজ ইত্যাদি হতে পারে। স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারের প্রধান দায়িত্ব হল এমন কাঠামো নির্মাণ করা, যা দালানের দীর্ঘদিন সুরক্ষা এবং স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে।

স্থপতিরা কেবলমাত্র বিল্ডিংয়ের আকার, আকার এবং ব্যবহারের ভিত্তিতে বিল্ডিং নকশা করেন। তবে এগুলির নির্মাণের সময় এবং পরে কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যা রয়েছে যা কেবল কাঠামোগত প্রকৌশলীরা খুঁজে পেতে এবং সমাধান করতে পারেন। কাঠামোগত প্রকৌশলীরা স্থপতিদের পরিকল্পনার জন্য তার দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনে সহায়তা করে।

পদার্থবিদ্যার গভীর জ্ঞান, সৃজনশীল সমস্যা সমাধানের ইচ্ছা এবং সফটওয়্যারে ত্রিমাত্রিক ধারণাগত দক্ষতা অবশ্যই কাঠামোগত প্রকৌশলী দ্বারা অর্জন করতে হবে। এগুলি ব্যতীত স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারের ভূমিকা এবং দায়িত্বগুলির মধ্যে রয়েছে-

* কাঠামোর নকশাগত দায়িত্ব *

কাঠামোগত প্রকৌশলীরা কাঠামোগত ডিটেইলস এবং তাদের বিশ্লেষণের জন্য পড়াশুনা করেন। সুতরাং, তারা কাঠামোগত ডিজাইনের ক্ষেত্রে অনেক বেশি জ্ঞানী ও দক্ষ। কাঠামোগত প্রকৌশলীরা সম্পূর্ণ স্ট্রাকচারাল ডিজাইনিং পদ্ধতির জন্য ভার এবং বিল্ডিংয়ের উপর এক্টিং স্ট্রেসগুলি গণনা করা, ভর বিশ্লেষণ, কাঠামোর অংশগুলির নকশা ভার বজায় রাখার জন্য অন্তর্ভুক্ত; যাতে নকশা করা কাঠামো নিরাপদে পূর্বাভাস দেয়া ভারগুলি সহ্য করতে পারে।
কাঠামোগত প্রকৌশলীরা কাঠামোর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত উপকরণ নির্বাচনের সাথেও জড়িত। বিভিন্ন বিল্ডিং উপকরণের গুণমানের কারণগুলি স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার দ্বারা বিম, কলাম বা ভিত্তিগুলির নকশায় তাদের উপযুক্ততা চূড়ান্ত করতে বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। এইসব হিসাব নিকাশ তারা সফটওয়্যার ব্যবহার করে সিমুলেট করে নকশা করে থাকেন।

* সাইট সংক্রান্ত কাজ *

সাইট তদন্তের সাথে কাজ করার সময়, কাঠামোগত প্রকৌশলীরা প্রকল্পটি নির্মাণের জন্য মাটির অবস্থা যাচাইয়ের সাথে জড়িত। ডিজাইনার দ্বারা গণনা করা লোডগুলোর ওপর ভিত্তি করে, এটি গণনা করে ভার বহন করার জন্য মাটি উপযুক্ত কিনা তা অবশ্যই পরীক্ষা করা উচিত। এই তদন্তটি কাঠামোর জন্য অবশ্যই ব্যবহার করা যায় এমন ফাউন্ডেশন সিস্টেমের ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নেবেন এই প্রকৌশলীরা। মাটির জন্য যেকোনো ধরনের পরামর্শ, প্রয়োজনীয় তদন্তের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই তদন্তটি মাটি, যা ভূ-প্রযুক্তিগত প্রকৌশলীর অংশ, তা পরীক্ষা করে পরিচালিত হয়।

এভাবে দালানের ভার বহন করা ছাড়াও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজের জন্য অন্য এক্সপার্টিজের প্রকৌশলীর সহায়তা নিতে হবে। যেমন – দালানের তড়িৎ সংযোগ ও বৈদ্যুতিক লোড বহনের জন্য সঠিক মাপের তার ও কন্ডুইট ডিজাইনের জন্য তড়িৎ প্রকৌশলীর দরকার হয়। এরকম খুঁটিনাটি নানাবিধ কাজে নানা এক্সপার্টিজের ইঞ্জিনিয়ারের সহায়তা লাগে। একটি সুন্দর দালান শুধুই খোলস, প্রকৌশলীর সহায়তা ছাড়া। তারা তাদের জ্ঞান কাজে লাগিয়ে বাড়িকে করে তুলেন বসবাসযোগ্য ও কার্যকর। স্থপতিদের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে তাদের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে আমরা বানাতে পারি আমাদের স্বপ্নের বাড়ি, যাতে আমরা জীবনযাপন করতে পারি স্বচ্ছন্দে।

© Home Builders Club

28/07/2020

ভবনের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ : অন্দরসজ্জার সময় যা খেয়াল রাখতে হবে""

বাসায় অবস্থানকালীন সকলের জন্যই চাই একটু আরামদায়ক আবাসন। চাই নিজের ঘরে নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রার ব্যবস্থা। ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিতে ঢাকা শহরের অনেকেই যেনতেনভাবে ভবন তৈরি করে তাতে এয়ার কন্ডিশনারের আধিক্য তৈরি করে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে চেষ্টা করেন। এতে স্বল্প সময়ের জন্য তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে আসে ঠিকই, কিন্তু সময়ের সাথে বাড়তে থাকে গোটা শহরের তাপমাত্রা। এর সাথে বিশাল অংকের বিদ্যুৎ বিলের বোঝা তো আছেই।

অন্দরসজ্জা বা ইন্টেরিয়র আজকাল নগরজীবনে বসবাসের অন্যতন অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে প্রায় প্রতিটি ঘরেই। তবে শংকার বিষয় হচ্ছে অন্দরসজ্জার নামে প্রয়োজন বা অপ্রয়োজনে কাঠ বা বোর্ডের আধিক্য দিয়ে ঘর ভরে ফেলেন অনেকে। এতে আসবাবের আধিক্যে দরজা জানালা তো বন্ধ হয়ে যায়ই, সাথে ঘরে তাপ ধারণকারী তলের সংখ্যা বাড়তে থাকে। অপ্রয়োজনে কখনোই ঘরের দেয়াল কাঠ দিয়ে বা বোর্ড দিয়ে ঢেকে ফেলবেন না। এর মাধ্যমে আপনি ঘরের ভিতরে এবং বাইরে তাপ পরিবহনের স্বাভাবিক হারকে বাধাগ্রস্ত করে ফেলছেন, যা নিঃসন্দেহে ক্ষতিকর। এছাড়াও অন্দরসজ্জায় কিছু জিনিস খেয়াল রাখা উচিৎ।

১। বাংলাদেশের পরিবেশে ঘরের দেয়ালে ফোম, কাঠ ও মেঝেতে কার্পেট ব্যবহার করা উচিৎ নয়। শীতপ্রধান দেশে এগুলো দরকার হয় তাপ ধরে রাখতে। আমাদের পরিবেশে এটি অস্বাস্থ্যকর তাপমাত্রা তৈরি করে।

২। ঘরে যে সকল ইলেকট্রিকাল ডিভাইস ব্যবহার করছেন তা তাপ উৎপন্ন করে কিনা খেয়াল রাখুন। যদি করে, তাহলে সেগুলোর জন্য বাতাস প্রবাহের ব্যবস্থা রাখুন। অন্দরসজ্জার সময় ফ্রিজ ও ডিপফ্রিজ অনেকে ছোট চেম্বার বার প্রকোষ্ঠে ঢুকিয়ে ফেলেন তিনদিকে বন্ধ করে। এটি ঘরে প্রচণ্ড পরিমাণে তাপ আটকে ফেলে। এছাড়া অন্দরসজ্জায় ছাদে অতিরিক্ত কারুকার্য করে ফ্যানের কার্যকারিতা কমিয়ে ফেলাও ঘরে অযাচিত তাপমাত্রার কারণ।

৩। আপনার বসার ঘরের বা লিভিং রুমের সোফার ও শয়নকক্ষের আরামদায়ক বিছানার বা ম্যাট্রেসের ফোম কী পরিমাণ তাপ ধারণ করে সেটিও সতর্কতার সাথে খেয়াল করুন। এমন সোফা বা শয়ন উপকরণ কিনবেন না, যা আপনার আরামদায়ক ঘরকেও তাপমাত্রাজনিত কারণে অস্বস্তিকর করে তুলতে পারে।

৪। হালকা কাঠ, বাঁশ বা বেতের আসবাব, মেঝেতে ভারি কার্পেটের বদলে শীতল পাটি, নকশী কাঁথা, প্লাস্টিকের বদলে টবে আসল ছায়াতে বাঁচে এমন গাছ- এই ধরনের ছোট ছোট পরিবর্তন একদিকে যেমন আপনার ইন্টেরিয়রে নান্দনিকতার ছোঁয়া এনে দেবে, এর পাশাপাশি আপনার ঘরকে করবে ছিমছাম। এই ধরনের সাজসজ্জার উপকরণ আপনার ঘরের তাপমাত্রা কম রাখতেও বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে হোন সচেতন। আপনার স্বস্তির জন্য ২৭-২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা যথেষ্ট। চেষ্টা করুন কোনোভাবেই ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে এসি ব্যবহার না করতে। ঘরের তাপমাত্রা আরামদায়ক পর্যায়ে চলে আসলে এয়ার কন্ডিশনার বন্ধ করে দিন। এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবেশের উপরেও চাপ কমবে। এছাড়া অন্দরসজ্জার সময় নিজে নিজে এমন পরিকল্পনা করবেন না, যা আপনার বসবাসকেই হুমকির মুখে ফেলবে। নিজের স্বপ্নের বাড়ি আপনার সারাজীবনের শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ। পরিকল্পনায় স্মার্ট হলেই শুধুমাত্র দীর্ঘকালীন সময়ের আরামদায়ক বসবাস নিশ্চিত করা সম্ভব।

© HBC

26/07/2020

"ভবন নির্মাণে জলবায়ুর প্রভাব"

বাংলাদেশে এক সময় মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা অনুধাবন করা যেত ঘরের চাল দেখে। একদম নিম্ন আয়ের মানুষেরা ছনের চালের ঘর তৈরি করতেন। আরেকটু অবস্থাসম্পন্ন মানুষেরা করতেন টিনের চাল। সে টিনের চালও আবার অবস্থার উন্নতির সাথে সাথে একচালা, দোচালা থেক চৌচালা ঘর পর্যন্ত পৌছে যেত চালের সমাহার। তবে এদের মধ্যে একটি সাধারণ মিল হচ্ছে চালগুলো সমতল হত না। যখন পাকা ভবন বানানো শুরু হলো, এটিকে বাহুল্য হিসাবে ধরে নেয়া হলো আর এর জায়গা দখল করে নিল সমতল ছাদ। ছাদে যাওয়ার সুবিধার সাথে বৃষ্টির জন্য সামান্য ঢালু করে দিলেই বৃষ্টির পানি নেমে যেতে পারল। অথচ ইউরোপের দিকে তাকান। বেশিরভাগ ঘরের চাল এখনো টালির তৈরি এবং চুড়ার মতো উঠে যাওয়া চাল দেখা যায় সারা ইউরোপেই।

এর কারণ মূলত জলবায়ুর বিভিন্নতা। বাংলাদেশে অসমতল চাল প্রয়োজন হয় মূলত বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ার সুবিধা করে দিতে। সমতল ছাদে সামান্য কিন্তু সুষম অসমতল তৈরি করে সে চাহিদা মেটানো সম্ভবপর হয়েছে। কিন্তু ইউরোপের তুষারপাত সুলভ শীতের কারণে চালে জমে থাকা বরফ পরিষ্কার করা ও গলে যাওয়ার সুবিধার্থে প্রয়োজন হয় হেলানো ও টালি দ্বারা তৈরি চাল। এরকম আরও অনেক ক্ষেত্রেই আপনার ভবন দেখতে ও ব্যবহারের দিক থেকে কেমন হবে তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে জলবায়ু। তাই ভবন নির্মাণ করতে গেলে অবশ্যই জলবায়ুর বিষয়টি মাথায় রাখতেই হবে। এক্ষেত্রে আসুন এক নজরে দেখে নিই কী কী ধাপ মেনে ভবন নকশা করা দরকারি।

১। জায়গা বা ‘সাইট’ বিশ্লেষণ

ভবন নির্মাণের আগে স্থপতিকে ওই এলাকার আবহাওয়ার প্রকৃতি, মাটির ধরন, বাতাসের গতি প্রকৃতি, আশেপাশের ভবনের বসবাসের ধরন এবং ভুগোল সম্পর্কে ধারণা রেখে কাজ করতে হবে ও নকশায় তার প্রতিফলন ঘটতে হবে। সফল ও দীর্ঘস্থায়ী ভবনের মালিক হতে স্থপতিকে এইসকল ব্যাপার নিয়ে প্রশ্ন করুন ও উৎসাহিত করুন যেন এর প্রতিটি বিষয় মাথায় রাখা হয়।

২। ভবনের ‘লে আউট’ তৈরিতে জলবায়ু
জলবায়ু ও পরিবেশগত উপাদানই ভবনের প্রাথমিক লে-আউট তৈরির মূল চালিকাশক্তি। যেমন- বাংলাদেশের মৌসুমী জলবায়ুতে গ্রীষ্মকাল লম্বা হবার পথে আর গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ পূর্ব দিক থেকে বাতাস আসে। শীতকালে বাতাস আসে উত্তর থেকে এবং পশ্চিম দিক থেকে সবচেয়ে বেশি তাপ আসে। তাই যেকোনো লে-আউটে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ঘরগুলোকে দক্ষিণ দিকে স্থাপন করা এখানে আবশ্যক।

৩। সূর্যের গতি প্রকৃতিঃ
জলবায়ু অনুসারে সূর্যের কৌনিক পথ সব সময় আলাদা হয়। তাই ভবন নির্মানের আগে এই ব্যাপারে বৈজ্ঞানিকভাবে জেনে নেয়া ও গবেষনা করে নেয়া দরকারী। সরাসরি সুর্যালোক ঘরে প্রবেশ কমিয়ে ও সূর্যালোকের উজ্জ্বলতা কমিয়ে ভবনের বসবাসকে আরামদায়ক করা যায়। ভবনে ব্যবহৃত সানশেড-লিনটেল, পোর্চ এবং সোলার প্যানেল (PV প্যানেল) এর অবস্থান ঠিক করতে হবে সূর্যের গতি প্রকৃতির উপরেই।

৪। দরজা জানালায় জলবায়ুর প্রভাবঃ

বাংলাদেশে সহজ নির্মাণ, দাম ও বাজারে সুলভ প্রাপ্তির কারনে Thai গ্লাস জনপ্রিয় হলেও এ ধরনের জানালা আমাদের দক্ষিণ পূর্বের বাতাস এর আগমনপথ যেমন অর্ধেক করে দেয়, তেমনি সূর্যালোক সরাসরি ঢুকতেও তেমন কোন বাধা প্রদান করতে পারে না। বাংলাদেশের জলবায়ুগত কারনে এই ধরনের কাচের জানালা বা কমার্শিয়াল ভবনে কাচ এর তৈরি দিক গুলি তাপ ধরে রাখে ও এসির উপর আমাদের নির্ভরতা বাড়ায়। জলবায়ুগত কারনে দরজা ও জানালা সুইং ও কাঠের তৈরি হলে ঘর বসবাস এর জন্য আরামদায়ক হয়।

৬। ভৌগলিক প্রকৃতি ও ভবনঃ

মাটির প্রকৃতির উপরে ভবনের ফাউন্ডেশান বা পাইলিং ই শুধু নয় নকশাও নির্ভর করবে। ঢাকার সমতল ভূমিতে ভবন যেমন হবে, চট্টগ্রাম এর পাহাড়ি প্রকৃতিতে একই বিবেচনায় ভবন নির্মান হতে পারে দীর্ঘমেয়াদী একটি ভুল সিদ্ধান্ত। এছাড়া আদ্রতা ও তাপমাত্রার পার্থক্য মাথায় নিয়ে কাজ না করলেও ভৌগলিক কারনে ভবনের ক্ষতি হতে পারে। পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ি ঢাল ও পাহাড়ের কারনে ঝড়ের গতিপ্রকৃতি পরিবর্তন মাথায় রাখা যেমন দরকারী, তেমনি সমতলে ভবন নির্মাণের সময় জলাধার ও পানি প্রবাহের অঞ্চল পরিহার করাও অত্যাবশ্যক।

৭। ভবন ও জলবায়ু এবং আপনার ভূমিকাঃ

একটি দেশের স্বাভাবিক জলবায়ুকে ভবন নির্মানের সময় আপনাকে সম্মান করতে হবে আপনার নিরাপদ ও দীর্ঘমেয়াদে আরামদায়ক বসবাসের স্বার্থেই। কিন্তু এই জলবায়ু বিশ্বজুড়েই এখন হুমকির সম্মুখীন। অসংবেদনশীল ভবন নির্মাণ ও ব্যবহারের কারনে জলবায়ুর উপরে পড়তে পারে খারাপ ভুমিকা। এ কারণে আমাদের দায়িত্বশীল হতে হবে। ভবনের ফুটপ্রিন্ট ব্যবহারে সচেতন হোন। দরকারের চেয়ে বেশি জায়গা ধরে ভবন তৈরি করবেন না। ভবনের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারে ইট বা কংক্রিট এর মত উপাদান ব্যবহার পরিবেশ এর কিছুটা হলেও ক্ষতি করবে। তাই স্মার্ট নকশা করান ও স্থপতির সাহায্য নিন। এছাড়া ভবনের ছাদে ও MGC বা FAR এর অনুমোদিত অংশের বাইরে গাছ লাগান। সারা ভবনের প্লট জুড়ে বেজমেন্ট তৈরি না করে সরকারের নিয়ম মত ২৫% জায়গা পুরোপুরি বৃষ্টির পানি শোষন এর জন্য ছেড়ে দিন।

মনে রাখবেন আপনার ভবনে আপনি কতটা আরামদায়কভাবে থাকবেন তা বেশি স্কয়ার ফিট এর চেয়েও বেশি নির্ভর করে আপনি এলাকার জলবায়ুর সাথে ভবনকে কতটা মানানসই হিসাবে তৈরি করতে পারছেন। তাই সংবেদনশীল হোন। নিজে নিরাপদ ও আরামদায়ক ভবন পান। সাহায্য করুন আপনার শহর, দেশ ও বিশ্বের মানুষকে একটি আরামদায়ক জীবন পেতে।

© HBC

25/07/2020

বাড়ির কাজে হাত দিচ্ছেন: কী পরিকল্পনা দরকার?

আমরা মানুষ হিসাবে কেউ যেমন এক নই, বাড়ি নিয়ে আমাদের স্বপ্নগুলোও আলাদা। কিন্তু একই সাথে মনে রাখতে হবে বাড়ির নকশা শুধু স্বপ্নের বাস্তবায়নই নয়, এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়। কী কী মাথায় রাখতে হবে একটি বাড়ির নকশা করার সময়? আসুন দেখে নিই একনজরে।

১. আলো-বাতাস
বাংলাদেশের যেকোন এলাকায় আমরা ধরে নিই যে দক্ষিণমুখী বাড়ি হলে বাতাস আসবেই। আর সূর্য তো এমনিতেই পূর্বদিকে উঠে তাই সকালের মিষ্টি রোদ চাইলে দক্ষিণ-পূর্বমূখী ফ্ল্যাটের সন্ধানে আমরা সবাই প্রায় যুদ্ধে নেমে পড়ি। অথচ ঢাকার মত ঘনবসতিপূর্ণ শহরে যেখানে ৩ কাঠার একটি জায়গাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে তিনটি আলাদা বহুতল ভবন এমনকি ভবনের সামনে ১০ ফিট রাস্তার মত সুবিধা আপনি নাও পেতে পারেন সেখানে এই প্রাগৈতিহাসিক ধারণা নিয়ে বাড়ি করা নির্ঘাত বোকামি। এজন্য চাই সিমুলেশন, কনটেক্সট এবং আলো ও বাতাসের স্বাস্থ্যকর মাপ সম্পর্কে ধারণা। জানা উচিত জানালা কেমন হলে আলো বাতাস বেশি আসবে, বুঝতে হবে ভেন্টিলেশনের নিয়মগুলিও। তবেই স্বাস্থ্যকর আলো বাতাসে আপনার ভবিষ্যত প্রজন্ম গড়ে উঠবে নিরাপদে!

২. আসবাব–বান্ধবতা
অনেকেই ঘরের নকশা আর ঘর সাজানোকে আলাদা দুটি বিষয় মনে করেন এবং ঘর সাজানোর ব্যাপারটি বলতে বোঝেন কিছু আসবাবপত্র কেনাকে। আপনার ঘরের নকশা যদি কোন আসবাব এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে সেই ঘরে ওই আসবাব রেখে আপনি ঘরের সকল সুযোগ সুবিধা কোনভাবেই পাবেন না। আপনার খাট কোনদিকে মুখ করে থাকবে, কত বড় হবে আপনার ঘরের ক্লজেট? জানালার মাপের সাথে টেবিলের মাপ কীভাবে মিলবে? এসব প্রশ্নের উত্তর থাকতে হবে আপনার ঘরের নকশাতেই। মনে রাখবেন, একটি ঘর মানে শুধু চার দেয়ালের একটি বাক্স নয়, এটি আপনার প্রতিদিনের জীবনের শুরু এবং শেষ। তাই যত্নবান হতে হবে ঘরের আসবাববান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভবনের নকশা করবার সময়েই।

৩. ঘরের মনস্তত্ত্ব
অনেকক্ষেত্রেই গ্রাহক চান তার কিনে নেয়া জমির সম্পূর্ণ স্কয়ারফিট জুড়েই তৈরি হোক বাড়ি। নষ্ট না হোক এক স্কয়ারফিট জায়গাও। সারাজীবনের সঞ্চিত অর্থে করা বাড়িতে এই চাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু মনে রাখতে হবে, মানুষের ঘর মানুষের মানসিক শান্তির জায়গা। পুরো জায়গা জুড়ে ঘর করলে আইনভঙ্গের পাশাপাশি মানসিক অশান্তির আখড়া হয়ে উঠতে পারে আপনার স্বপ্নের বাড়িও। তাই প্ল্যান করতে বসে ভাবতে হবে বসবাসকারী মানুষের ছোটবড় সকল চাহিদার কথা। তাতে শুধু বসবাসই সুন্দর হবে না, বাঁচবে খরচও। যেমন, ছোট ফ্ল্যাটে অনেকেই এখন সার্ভেন্ট টয়লেটকে ব্যাবহার করেন স্টোর রুম হিসাবে। নকশার সময়ই স্থপতিকে এ ব্যাপারে অবগত করলে অতিরিক্ত ওয়াটার ক্লজেট বা পানির লাইনে অতিরিক্ত সামগ্রী ব্যাবহারের খরচ বেঁচে যেতে পারত। এছাড়া কোন ঘরের পাশে কোন ঘর হবে কার সাথে কার যোগাযোগ কতটা জরুরী এ ব্যাপারে দরকার পেশাদারী নকশাবিদের সাহায্য।

৪. সাধ ও সাধ্যের সামঞ্জস্যতা
একটি বাড়ি তৈরির পিছনে সবারই একটি গল্প থাকে। অনেক পরিশ্রম করে মানুষ ঘরের টাকা জমান। অথচ যথেষ্ট পূর্বপরিকল্পনার অভাবে বা বাজার সম্পর্কে সম্যক ধারনা না থাকার ফলে অনেক সময়েই পছন্দমত ঘরের হিসাব মিলে না। রডের দাম আপনার ধারণার চেয়ে বেশি হলে কি আপনি আপনার পছন্দমত টাইলস দেবেন না? অথবা, বাজেট শেষ হয়ে গেলে কি থাকতে শুরু করবেন অস্বাস্থ্যকর রঙবিহীন বাসাতেই? কিংবা বন্ধ হয়ে বহুদিন ঝুলে থাকবে আপনার সাধের বাড়ি? এসব ব্যাপারে চাই পরিকল্পনা ও সমতা।

এজন্য আপনাকে নিতে হবে পেশাদার স্থপতি, প্রকৌশলী এবং দক্ষ ঠিকাদারের সাহায্য।আর যদি ডেভেলপারের শরণাপন্ন হন, তিনি আপনার হয়ে এই পেশাদার সাহায্য গ্রহন করবেন। তাই অভিজ্ঞ, বন্ধুসুলভ ও সফল ডেভেলপারের শরণাপন্নহোন। এই পেশাদার সাহায্যের পিছনে বিনিয়োগ আপনার খরচতো বাড়াবেইনা বরং উপরে উল্লিখিত প্রতিটি বিষয়ে সাহায্য করবে প্রতিনিয়ত।

30/06/2020

*** ভারতের মথুরায় জিএলএ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য কলেজ হাউজিং ডিজাইন
নকশা নির্ভর করে প্রাকৃতিক ভেন্টিলেশন এবং পরিবেশ প্রক্রিয়ার উপর তাপমাত্রা কমাতে, এবং সমস্ত কক্ষ উত্তর দিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেখানে সবুজ এলাকা এবং স্টেডিয়াম..
সঞ্জয় পুরি স্থপতি দ্বারা ডিজাইন করা হয়েছে...***

The Street / Sanjay Puri Architects

HOUSING

MATHURA, INDIA
• Architects: Sanjay Puri Architects
• Area: 211000 ft²
• Year: 2017
• Photographs: Dinesh Mehta
• Manufacturers: Kohler, Somany, Texture and Paint

Text description provided by the architects. Taking a cue from the old city streets of Mathura city in India where this project is located, this 800 room students’ hostel creates organic spaces.

Designed in 4 level high, 5 linear blocks, the built spaces snake across a wedge shaped site twisting and turning along their length. Sitting adjacent to repetitive hostel blocks on the east and west these new hostels within a large university campus create individual spaces within a discernible identity in each part of the layout.

The orientation of all the buildings are done with a view of generating large north facing garden areas overlooking a vast playground towards the north. In addition, each hostel room is punctuated with a wedge shaped bay window oriented towards the north and the playground.

Each hostel room has ventilation openings in the internal corridor facilitating cross ventilation. The linear buildings create small break out spaces at each bending point allowing natural light into the internal circulation spaces.

These factors create an energy efficient building minimizing heat gain in response to the climate which has average temperature in excess of 300 c for 8 months of the year when the sun is in the Southern Hemisphere. During the winter months when the sun is in the Northern Hemisphere, direct sunlight is facilitated to prevent the rooms from becoming cold.
Two focal areas are created at the ends of the linear buildings to house cafeterias, games rooms and gymnasium opening into the north facing gardens and terraces. Each of the public spaces are large volumes with 20’ high ceilings.

The organic layout of the buildings characterizes each space within the site. Color accentuates different blocks and facilitates within. Each block is differently colored along with the internal face of the bay windows of the hostel in bright colors to create an identity.

Rain water harvesting and water recycling and usage of solar panels additionally make the project more energy efficient along with the orientation and facilitation of natural ventilation.

The Street is contextual to the climate and the orientation of the site thus creating varied experiences and changing perceptions of space in each part of the 6acre site.

The Mango House / Studio PKA•  Architects: Studio PKA•  Area: 6000 ft²•  Year: 2015•  Photographs: Amit Pasricha•  Manuf...
12/06/2020

The Mango House / Studio PKA
• Architects: Studio PKA
• Area: 6000 ft²
• Year: 2015
• Photographs: Amit Pasricha
• Manufacturers: BTicino

Text description provided by the architects. The Mango House is the physical manifestation of a quest to connect with the natural environment. The essence of design here is simplicity in thought and expression through the form, material and décor of the structure. The organic nature of construction successfully connects the outside with the inside and thus manages to convey an earthy feel through its free-flowing plan. The house is a blend of various elements & building materials that are ‘azonic’, lending simplicity to the design.

Since mango trees dominated the plot, the house clearly gets its definition from them to ensure that the basic value of being organic or adopting green culture was exercised. These 70-80 year old inhabitants of the plot became the deciding and guiding factors for the design and concept for the house.
The mango trees in the north, south and east directions demarcated the boundary of the house.
The aim was to be able to view the surrounding landscape from any point within the abode – along the north-south as well as the east-west axes. This led to an entrance on all four sides for an uninterrupted view of the verdant softscape outside.

There were some certainties that were a given – the entrance to the north; as there was space for a driveway, and the kitchen to the east; to catch the early morning sun.

There was a need for a balance between the open and covered spaces. With the restrictions imposed by the trees on the construction, the only solution was to go a level up but stay true to the village like feel.

The house reflects a free flowing and uninterrupted connect with its surroundings without losing the proportion in design.

Creating volume was an important aspect of the structure and with the sloping roof one gets about 35 feet at the highest point. This is emphatically accentuated at the suspended staircase as it sweeps up to the first floor. A skylight here and another over the dining area allow light to filter in and underscore the feeling of vastness.

This vastness of space and its uninterrupted connect with the surroundings is the highlight of the house.

Alluding to the vernacular, a rich sense of culture and tradition is ever present - The Mango House helps the city-dwelling family to connect with nature by being organic in both spirit and content.

Address

H# 5, R# 1, Shahjalal Housing, Mohammadpur
Dhaka
1207

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00
Tuesday 09:00 - 17:00
Wednesday 09:00 - 17:00
Thursday 09:00 - 17:00
Saturday 09:00 - 18:00
Sunday 09:00 - 17:00

Telephone

+8801711576044

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dreams Line Architects posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Dreams Line Architects:

Share