Civil Engineering Knowledge

Civil Engineering Knowledge Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Civil Engineering Knowledge, Construction Company, Dhaka.

ইরান মনে হচ্ছে যুদ্ধ চলার সাথে সাথে আরও বেশি চিত্তাকর্ষক সামরিক সক্ষমতা প্রকাশ করার কৌশল অনুসরণ করছে।তারা সম্প্রতি দীর্ঘ...
21/03/2026

ইরান মনে হচ্ছে যুদ্ধ চলার সাথে সাথে আরও বেশি চিত্তাকর্ষক সামরিক সক্ষমতা প্রকাশ করার কৌশল অনুসরণ করছে।

তারা সম্প্রতি দীর্ঘ-পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল দিয়ে ডিয়েগো গার্সিয়ায় আঘাত করেছে, যা বিশ্বের সবচেয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলির একটি (যেখানে B-52 বোমারু বিমান, পারমাণবিক সাবমেরিন ইত্যাদি রয়েছে), যা তাদের থেকে প্রায় ৫,০০০ কিলোমিটার দূরে ভারত মহাসাগরের মাঝখানে অবস্থিত 👇।

ডিয়েগো গার্সিয়া তার ৫ দশকের অস্তিত্বে কখনো কোনো যুদ্ধে আঘাতপ্রাপ্ত হয়নি, এবং কেউ জানত না যে ইরানের এ ধরনের সক্ষমতা রয়েছে (ইরান নিজেরাই বলেছিল যে তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইলের পাল্লা ২,০০০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ)।

দুই দিন আগে, তারা একটি "অবিনাশী" F-35 পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানকে ধ্বংস করেছে, যা এর আগে কখনো ঘটেনি।

তারা বিশ্বের সবচেয়ে কৌশলগত তেলের চোকপয়েন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং প্রমাণ করেছে যে তারা মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত অঞ্চলে যেকোনো কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে, এমনকি সবচেয়ে সুরক্ষিতগুলোতেও (যেমন ইসরায়েলের হাইফা তেল শোধনাগার)।

সব মিলিয়ে, এটা প্রায় অবিশ্বাস্য মনে হলেও ইরান মনে হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর উপর একটি সত্যিকারের এসকেলেশন ডমিন্যান্স (escalation dominance) অর্জন করেছে, যার ট্রিলিয়ন ডলারের বাজেট রয়েছে।

একটি খুব বাস্তব অর্থে, এটা ভিয়েতনাম বা আফগানিস্তানের চেয়েও বেশি চিত্তাকর্ষক: সেই দেশগুলো একটি সুপারপাওয়ারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করেছিল, ইরান মনে হচ্ছে একটির সাথে প্রতিযোগিতা করছে।

এটা আপনাকে ভাবিয়ে তোলে: পরবর্তীতে কী হবে? আর এটাই ঠিক এসকেলেশন ডমিন্যান্সের বিষয়: অন্য পক্ষকে চোখের পলকে ঝলসে দেওয়া পর্যন্ত দাঁড়ানোর হার বাড়াতে থাকা। এটা ট্রাম্পকে ভাবতে বাধ্য করা যে "আরে, আমি ভেবেছিলাম আমি একটা রোগা ছেলের সাথে লড়াই করছি, কিন্তু দেখা যাচ্ছে সে ব্রুস লি!"

~ আরনো বার্ট্রান্ড

https://www.facebook.com/share/p/1CU1hu5H2y/
15/03/2026

https://www.facebook.com/share/p/1CU1hu5H2y/

কর্কট-উপাখ্যান


২৩ বছর বয়সে হঠাৎ বিনা নোটিশে ক্যান্সার ধরা পড়লে আসলে কেমন রিএকশন হওয়া উচিত?

ঘটনা আমার বুয়েটের ৩-১ সেমিস্টার চলাকালীন। আগস্টের শুরুতে আমার শরীরে কিছু সমস্যা দেখা দিল। তেমন বড় কিছু না। বদহজম, পেটব্যথা, অল্প খেয়েই পেট ভরে যাওয়া। স্বাভাবিকভাবেই আমি গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাওয়া শুরু করলাম। তখন পরীক্ষা প্রস্তুতির ছুটি চলছিল। আগস্টের ২৪ তারিখ থেকে টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। যাদের ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটিগুলোর পড়াশুনার সিস্টেম সম্পর্কে কিছুটা ধারণা আছে তাদের জানার কথা যে পরীক্ষা প্রস্তুতির ছুটি পড়াশুনার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়। পুরো টার্মের সিলেবাস ২-৩ সপ্তাহের ছুটিতে কমপ্লিট করা লাগে, বিশেষত আমার মত ফাঁকিবাজ ছাত্রদের যারা পুরো টার্মজুড়ে খুব কমই পড়াশুনা করেছে। আমি পরীক্ষার আগে এক উটকো ঝামেলায় পড়ে গেলাম।

প্রায় ২ সপ্তাহ গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেয়ে কোনো কাজ হলো না। ভাগ্যক্রমে আমার বড় বোন ও দুলাভাই দুজনই ডাক্তার। আমি সে দুজন বিশেষজ্ঞদের শরণাপন্ন হলাম। তারা আমাকে বলল এইচ পাইলোরি এন্টিবডি, বিলিরুবিন আর আল্ট্রাসনোগ্রাম টেস্ট করাতে। মেডিকেল সায়েন্স সম্পর্কে অজ্ঞ আমি ভাবতাম আল্ট্রাসনোগ্রাম কেবল গর্ভবতী মহিলারাই করায়। আমাকে আল্ট্রাসনোগ্রাম কেন করতে দিল বুঝলাম না। BSMMU তে কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে টেস্টগুলো করাতে পারলাম। বিলিরুবিনের রিপোর্ট ঠিকঠাক আসলো। এইচ পাইলোরি এন্টিবডি পজিটিভ আসলো। যার অর্থ আমার শরীরে হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি নামক এক জীবাণু আছে। এই জীবাণু পাকস্থলীর মিউকাস লেয়ারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। একারণে পেটে জ্বালা, বদহজম ইত্যাদি হয় যাকে গ্যাস্ট্রাইটিস বলে। এর ফলে পাকস্থলীতে আলসার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আপুর কাছে থেকে জানতে পারলাম এটা বড় কোনো সমস্যা না। দু সপ্তাহ কিছু এন্টিবায়োটিক ও PPI খেলেই ঠিক হয়ে যাবে।

আল্ট্রাসনোগ্রামের সময় ডাক্তারের ভাবসাব ভালো ঠেকলো না। তিনি যেন বেশ কনফিউজড। টেস্ট শেষে ডাক্তার কনফিউশনের সাথেই জানালেন আমার প্লিউরাল ইফিউশন আর অ্যাসাইটিস আছে।

দুইটার কোনোটা সম্পর্কেই আমার বিন্দুমাত্র কোনো ধারণা ছিল না। তবে দ্রুত নাম দুটো মুখস্থ করে নিলাম। আপুকে জানাতে হবে। আপুকে ফোনে জানালে সে যারপরনাই অবাক হলো। আমাকে জানালো প্রস্তুত থাকতে। আরো অনেক টেস্ট করা লাগবে।

মহা মসিবত! কয়েকদিন পর আমার পরীক্ষা। এখন এসব করার সময় আছে! এই টেস্টগুলোই আমি অনেক অনিচ্ছা নিয়ে করাতে এসেছি। তবে আপুর কণ্ঠ বেশ সিরিয়াস মনে হলো। অজ্ঞের বন্ধু চ্যাটজিপিটি। আমি চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞেস করলাম এই রোগদুটো আসলে কি। জানতে পারলাম, দুটো রোগই আসলে পানি জমার অপর নাম। একটা ফুসফুসে পানি জমা। আরেকটা অ্যাবডোমিনাল ক্যাভিটিতে পানি জমা। আমার দু'জাগাতেই পানি জমেছে। চ্যাটজিপিটি আরো জানালো এই বয়সে এগুলো হওয়া টিউবারকিউলোসিস বা যক্ষ্মা হওয়ার লক্ষ্মণ।

আমার যতদূর জানা ছিল যক্ষ্মা হচ্ছে ফুসফুসের রোগ। তো যক্ষ্মা হলে ফুসফুসে পানি জমতে পারে, অ্যাবডোমিনাল ক্যাভিটিতে কেন পানি জমবে?
পরে জানতে পারলাম যক্ষ্মা ফুসফুস থেকে অন্যান্য অঙ্গেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। বছরের শুরুতে আমার রুমমেটের যক্ষ্মা হয়েছিল। যেহেতু যক্ষ্মা ইনফেকশাস ও যক্ষ্মার জীবাণু শরীরে বহুদিন সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে, আমার যক্ষ্মা হওয়া অস্বাভাবিক না।

আমি ইউটিউবে যক্ষ্মা নিয়ে ভিডিও দেখা শুরু করলাম। জানতে পারলাম যক্ষ্মা হচ্ছে 'the deadliest infectious disease of all time'. এমনকি ২০২২ সালে ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড, কলেরা, হত্যাকাণ্ড ও যুদ্ধে বিশ্বে মোট যতজন মারা গেছে, কেবল যক্ষ্মায় তার চেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে। তবে সেটা অধিকাংশই দরিদ্র এলাকায় প্রোপার ট্রিটমেন্ট না পাওয়া, ঠিকমতো ডায়াগনোসিস না হওয়া বা ডায়াগনোসিস হলেও ডাক্তারের কথামতো ওষুধ না খাওয়ার কারণে।

ছোটবেলা থেকেই সুরযুক্ত কণ্ঠে 'যক্ষ্মা ভালো হয়' ক্যাম্পেইন শুনে আসা আমি জানতাম যক্ষ্মা কিউরেবল। চিন্তার তেমন কোনো কারণ নেই। কিন্তু আদৌ আমার যক্ষ্মা হয়েছে কিনা সেটা আগে জানতে হবে।

আমি ঢাকার এক কর্পোরেট হাসপাতালে এক gastroenterologist কে দেখালাম। নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে তার নাম ধরে নিন 'রহিম'। রহিম সাহেব আমাকে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাওয়া বাদ দিতে বললেন। তার ধারণা ছিল অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাওয়ার কারণে বদহজম বেশি হচ্ছে। পাকস্থলীতে খাবার জীর্ণ করার জন্য যথেষ্ট এসিড থাকছে না। তিনি আমাকে বললেন এক সপ্তাহ পর সিটি স্ক্যান করতে। এক সপ্তাহ ডিলে করার ফজিলত আমার বোধগম্য হলো না। তবে আমি ডাক্তার না। তাই কিছু বললাম না।

গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ বন্ধ করে আমার রোগের উপসর্গ আরো প্রকট হয়ে দেখা দিল। আমি এক সপ্তাহ পেরোনোর আগেই আবার রহিম সাহেবের শরণাপন্ন হলাম। রহিম সাহেব অবস্থা বেগতিক দেখে দ্রুত সিটি স্ক্যান করাতে বললেন।

সিটি স্ক্যানের রিপোর্টে দেখা গেল আমার পেরিটোনিয়ামে (পেটের ভিতরের পর্দায়) ছোট ছোট গুটি দেখা যাচ্ছে। পাকস্থলির অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে গ্যাস্ট্রাইটিস আছে। যেটা আগের এন্টিবডি টেস্টেই বোঝা গেছিল। সিটি স্ক্যানের ডাক্তার বললেন গ্যাস্ট্রাইটিস কনফার্ম হওয়ার জন্য এন্ডোস্কপি করতে।

তবে রহিম সাহেব এন্ডোস্কপি করতে রাজি হলেন না। তিনি বেশি চিন্তিত ছিলেন পেরিটোনিয়ামের গুটি নিয়ে। তিনিও চ্যাটজিপিটির মত সন্দেহ করলেন আমার যক্ষ্মা হয়েছে। পাকস্থলীর এই অবস্থা যক্ষ্মার কারণেও হওয়া সম্ভব। তিনি সরাসরি বায়োপসি করাতে বললেন যাতে যক্ষ্মা কনফার্ম করা যায়।

আমার অবস্থা দিন দিন খারাপ হতে লাগলো। একসময় অবস্থা এমন দাঁড়ালো যে কিছুই খেতে পারি না। যা খাই কিছু সময় পর বমি হয়ে যায়। আমাকে তরল খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করা হলো। তাতেও একই ফলাফল হলো। পানিও খেতে পারতাম না।

বায়োপসি যে ডাক্তার করলেন তিনি বেশ অভিজ্ঞ লোক। বায়োপসির পরে তিনি বললেন, দেখে মনে হচ্ছে যক্ষ্মাই হয়েছে।

৫ সেপ্টেম্বর সকালে আমাকে জানানো হলো আমার আসলে যক্ষ্মা না, ক্যান্সার হয়েছে। বায়োপসি রিপোর্ট গতকাল রাতেই এসেছিল। আমাকে জানানো হয়েছে পরে।

ডায়াগনোসিস শুনে প্রথম যে চিন্তাটা আমার মাথায় আসলো, "আয়হায়! ক্যান্সার হলে পরীক্ষা কিভাবে দেব?"

ফ্রাঞ্জ কাফকার মেটামরফোসিস গল্পের মূল চরিত্র গ্রেগর সামসা এক সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে সে একটা পোকায় পরিণত হয়ে গেছে। পোকায় পরিণত হওয়ার পর তার রিএকশন হচ্ছে,
"আয়হায়! কি হলো আমার? আমার তো সকালের ট্রেন ধরতে হবে।" চাকরি বাঁচানোর চিন্তা তার কাছে পোকা হয়ে যাওয়ার চিন্তার চেয়ে বড় হয়ে গেল।

পড়াশুনা ও চাকরির দুশ্চিন্তা আমাদেরকে মাঝে মাঝে এমনভাবে ডিহিউম্যানাইজ করে ফেলে যে পোকায় পরিণত হওয়া বা ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়া যেন ছোট এক উটকো সমস্যা মনে হয়।

যাই হোক, ক্যান্সার কোন স্টেজে আছে এটা আমাকে জানানো হলো না। আমি ভাবলাম হয়ত আরো টেস্ট করার পর জানা যাবে। বলদের মত অন্যদেরকেও বললাম, কোন স্টেজের ক্যান্সার এটা এখনো জানা যায়নি।

আমি এতটুকু জানতাম যে বায়োপসিতে আমার স্যাম্পল নেওয়া হয়েছে পেরিটোনিয়াম থেকে। ক্যান্সার সেখানেই ধরা পড়েছে। ইন্টারনেট ঘেটে যতটুকু জানলাম, পেরিটোনিয়ামে সাধারণত ক্যান্সার হয় না। পেরিটোনিয়ামে ক্যান্সার কোষ পাওয়ার অর্থ হলো ক্যান্সার মূল উৎস থেকে ছড়িয়ে গেছে। আর মূল উৎস থেকে ছড়িয়ে গেলেই সে ক্যান্সারকে স্টেইজ ফোর ক্যান্সার ধরা হয়। এই স্টেজের ক্যান্সার নিরাময়যোগ্য নয়।

আমার রোগ সম্পর্কে কিছু স্ট্যাটিস্টিক্সও দেখলাম। কেমো নিলে সাধারণত পেশেন্টরা সর্বোচ্চ এক থেকে দেড় বছর সার্ভাইভ করে। না নিলে করে কয়েক মাসের মত। কেমো নিয়ে ১ বছর সার্ভাইভ করার সম্ভাবনা ১৫-২৫%।

কিছু ক্ষেত্রে কেমো নিয়ে টিউমারগুলোকে ছোট করে ফেলা যায়। এরপর সার্জারির মাধ্যমে টিউমার ছড়িয়ে যাওয়া অংশকে কেটে ফেললে পেশেন্টরা কোনো কোনো সময় ৫ বছর বা তার বেশিও বাঁচে।

সোজা কথায় আমার হাতে খুব বেশি সময় নেই।

লেখক হুমায়ূন আহমেদেরও ক্যান্সার হয়েছিল। কোলন ক্যান্সার। স্টেইজ ফোর। তিনি প্রথমে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে কিছুদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর নিউইয়র্কের মেমোরিয়াল স্লোয়ান হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। মেমোরিয়াল স্লোয়ানকে ধরা হয় ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য বিশ্বের সেরা হাসপাতাল।

তার নিজের বক্তব্যে একটা ঘটনা উল্লেখ করলাম। ঘটনাটি তিনি যখন মেমোরিয়াল স্লোয়ানে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন, তখনকার।

"আমার ডাক্তারের নাম স্টিফান আর ভেচ। দীর্ঘদেহী সুস্বাস্থ্যের বয়স্ক একজন মানুষ। খানিকটা গম্ভীর। ভুরু কুঁচকানো। তিনি সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের সব কাগজপত্র পরীক্ষা করলেন। ওই হাসপাতাল থেকে মূল স্লাইড তলব করলেন।

আমি একসময় বললাম, আমার ক্যানসার কোন পর্যায়ের?
ডাক্তার বলেন, চতুর্থ পর্যায়ের। ক্যানসার যখন মূল কেন্দ্র থেকে ছড়িয়ে পড়ে, তখন আমরা তাকে বলি চতুর্থ পর্যায়ের ক্যানসার।

আমি ভীত গলায় বললাম, ডাক্তার, আমি কি মারা যাচ্ছি?

ডাক্তার ভেচ নির্বিকার গলায় বললেন, হ্যাঁ।

শাওনের দিকে তাকিয়ে দেখি, সে মাথা ঘুরে পড়ে যাচ্ছে। আমি ছোট্ট নিঃশ্বাস ফেলে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করলাম।

মারা গেলে করার তো কিছু নেই। que sera sera.

ডাক্তার ভেচ হঠাৎই আমার দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে বললেন, তুমি একা তো মারা যাচ্ছ না। আমরা সবাই মারা যাচ্ছি।"

আসলেই আমরা সবাই মারা যাচ্ছি। দ্য কাউন্টডাউন ইজ অন।

আমার হাতে যে বেশি সময় নেই - এতে আমার তেমন আফসোস নেই। ক্ষুদ্র ২৩ বছরের এই জীবনে আমার জীবন সম্পর্কে অভিজ্ঞতা তেমন ভালো না। এই কারণে আমি কখনো আল্লাহর কাছে দীর্ঘ জীবনের দুয়া করিনি।

অধিকাংশ মানুষ জন্মায়, পড়াশুনা করে, জীবিকা নির্বাহ করে, বিয়েশাদি করে, বাচ্চা পয়দা করে, একসময় বুড়ো হয়ে রিটায়ার করে। এরপর বিভিন্ন রোগ শোকে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। লাইফের এই টেমপ্লেটটা আমার বেশ অপছন্দ। জীবনের কোনো উদ্দেশ্য নেই, কোনো বড় কিছু করার তাড়না নেই। স্রেফ নিজে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকা। পশুর জীবনের সাথে তেমন কোনো তফাত নেই।

এই টেমপ্লেটকে গুল্লি মেরে অনেকেই জীবনে বড় কিছু করতে পারেন। তাদের কাজের প্রভাব থেকে যায় পৃথিবীতে। অর্থপূর্ণ জীবন। স্রেফ নিজে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকা না। পৃথিবীতে এক ইতিবাচক পরিবর্তন আনা।

তবে দিন যত যাচ্ছিল, ততই আমার মনে হচ্ছিল যে পশুসম জীবনকে আমি অপছন্দ করি, আমাকে যেন সে জীবনই আষ্টেপৃষ্টে ধরছে। ক্যারিয়ারের ইঁদুর দৌড়ে আমি এক ক্লান্ত ইঁদুর হয়ে পড়েছি।

এছাড়া আমার বার্ধক্যভীতি আছে। দুর্বল শরীরে অথর্ব হয়ে পড়ে থেকে কষ্ট পাওয়া লাগে।

সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে, যৌবনে কোনো মারণব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়া হয়ত তেমন খারাপ কিছু না। তবে এই চিন্তাধারায় কিছুটা স্বার্থপরতা আছে। অযোগ্য হয়েও আমি দুনিয়াতে অসংখ্য মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছি। আমি মারা গেলে তারা কষ্ট পাবেন। আমার তেমন কষ্ট হবে না। আমি তো মরেই যাব। হা হা। কবরে মনে হয় না মৃত ব্যক্তিরা দুনিয়ার মানুষদেরকে মিস করে।

তবে আমার একমাত্র ভাগ্নেটার কথা ভেবে মাঝেমধ্যে খারাপ লাগে। বেচারার খালা-ফুপু-চাচা কিছুই নেই। একটা মাত্র মামা আছে। সেটাও বোধ হয় বেশিদিন থাকবে না। চার বছর বয়সের বাচ্চাটা জানে না তার মামার কী হয়েছে। তাও সে প্রতিদিন তার মামার জন্য দুয়া করে "আল্লাহ! আমার মামাকে সুস্থ করে দাও।" কঠোর হৃদয়ের মানুষ হওয়া সত্ত্বেও আমার চোখে পানি চলে আসে। সে অশ্রু লুকাতে বেগ পেতে হয়।

ক্যান্সার ডায়াগনোসিস হওয়ার দিন সন্ধ্যায় আমার আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, বড় ভাইরা দেখা করতে আসলো। বাসার পরিবেশে এক উৎসবমুখর ভাব চলে আসলো। দেখে মনেই হয় না সবাই এক ক্যান্সার পেশেন্টকে দেখতে এসেছে।

পরেরদিন আমাকে নিয়ে যাওয়া হলো অনকোলজিস্টের কাছে। নাম ধরে নিন করিম। করিম সাহেব বললেন, আমরা যা করতে পারি করব। তবে আমাদের হাতে সবকিছু নেই। বাকিটা আল্লাহর হাতে।

মনে মনে বললাম, আপনার হাতে কিছুই নেই। সবই আল্লাহর হাতে।

করিম সাহেব বললেন, ক্যান্সারের মূল উৎস বের করতে হবে। এজন্য এন্ডোস্কপি করা লাগবে।

এন্ডোস্কপি করার জন্য আমরা আবার গেলাম রহিম সাহেবের কাছে। রহিম সাহেব কিছুটা বিব্রত। উনার প্রাইমারি ডায়াগনোসিস ভুল হয়েছে। প্রথমে তাকে যখন এন্ডোস্কপি করতে বলা হয়, তখন তিনি রাজি হননি। তবে এবার করতে হবে।

এন্ডোস্কপির আগে আমাকে বেডে শুইয়ে দেওয়া হলো। রহিম সাহেবের অপেক্ষা করছি, ভদ্রলোক আসার নামগন্ধ নেই। অন্য একজন ডাক্তার আসলেন। জিজ্ঞেস করলেন, হাঁপানি, এলার্জি, ডায়াবেটিস এসবের কিছু আছে?
আমি বললাম, না।
তিনি মজার ছলে বললেন, এসব না থাকলে আছেটা কি?
আমি বললাম, ক্যান্সার।

ভদ্রলোক আমার উত্তরে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে গেলেন। আমাকে ঘুমের দোয়া পড়তে বলে তিনি ঘুমের ওষুধ আর কেটামিন ইঞ্জেকশন দিলেন। বিভিন্ন বইপত্র পড়ে হাইস্কুলে আমার মনে সাইকাডেলিক ড্রাগ নেওয়ার ইচ্ছা জন্মায়। সে ইচ্ছা অবশেষে পূরণ হলো। ঘুমের মধ্যেই কেটামিনের প্রভাবে প্রবল হ্যালুসিনেশন হতে লাগলো। ঘুমের ঘোরে দেখলাম রঙিন দুনিয়ায় আমি উড়ে বেড়াচ্ছি।

ঘুম ভাঙলে জানতে পারলাম এন্ডোস্কপি শেষ। এন্ডোস্কপির রিপোর্টে জানা গেল আমার ক্যান্সারের মূল উৎস পাকস্থলীতে।

কলেজ লাইফে একটা গল্প লেখার আইডিয়া এসেছিল। মূল চরিত্র পাকস্থলীর ক্যান্সারে আক্রান্ত এক যুবক। অবশেষে আমিই আমার গল্পের মূল চরিত্র হয়ে গেলাম। আমার প্রতিটা পদক্ষেপ এখন সেই উপন্যাসের একেকটা লাইন।

আমার অনকোলজিস্ট করিম সাহেব কেমোথেরাপি শুরু করতে বললেন। কেমোর সবচেয়ে টক্সিক
অথচ সবচেয়ে কার্যকরী রেজিমেন আমাকে দেওয়া হলো। কেমো নিয়ে আমার অবস্থা দুর্বিষহ হয়ে উঠলো।
কিচ্ছু খেতে পারি না। বমি হয়ে যায়। মুখে হলো ভয়াবহ ঘা। কথাও বলতে পারি না ঠিকমতো। আরো ভয়াবহ ব্যাপার ধরা পড়লো ব্লাড টেস্টে। কেমোর সুবাদে আমার দেহের শ্বেত রক্তকণিকা ভয়াবহভাবে কমে গেছে। অবস্থা এমন যে এতেই আমার মৃত্যু হতে পারে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আমাকে ভর্তি করা হলো হাসপাতালে। দেখা গেলো কেমোর চেয়ে কেমোর সাইড এফেক্ট সারানো বেশি ব্যয়বহুল।

ডাক্তার ভেবেছিলেন আমার যুবক দেহ হয়ত এই টক্সিক রেজিমেন সহ্য করে নিতে পারবে। He was sorely mistaken. অগত্যা রেজিমেন সুইচ করে আমার দ্বিতীয় কেমো তুলনামূলক দুর্বল রেজিমেনে দেওয়া হলো। কেমোতে বেশ উপকার হলো। দ্বিতীয় কেমো নেওয়ার পর দেখা গেল বমি বমি ভাব কম। খেতে পারি মোটামুটি। কেবল শরীরটা একটু দুর্বল থাকে।

আমার মা-বাবা কিছুতেই মানতে রাজি হলেন না যে তাদের পুত্র এই মারণব্যাধিতে আক্রান্ত। তারা সন্দেহ করলেন নিশ্চয়ই দেশের ডাক্তারদের ডায়াগনোসিসে ভুল আছে। আত্মীয়স্বজনরা সায় দিল। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর কিছুতেই ভরসা করা যায় না। সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলেন আমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চেন্নাইয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

ক্যান্সারের ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ চালানোর সামর্থ্য আমার পরিবারের নেই। তার ওপর বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করানো তো অসম্ভব। তবে সে বিষয়ে বেশি চিন্তা করা লাগলো না। আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবরা মিলে ফান্ড রেইজ করে দুই দিনের মধ্যে যথেষ্ট অর্থ যোগাড় করে ফেললো। আমার এত শুভাকাঙ্ক্ষী দুনিয়াতে আছে আমার জানা ছিল না। তাদের সকলের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা।

যাইহোক, ক্যান্সার একদিক দিয়ে শাপে বর হলো। কেমো দেওয়ার পর শরীর একটু স্টেবল হলে জীবনে কখনো দেশের বাইরে পা না দেওয়া আমি উড়াল দিলাম চেন্নাইয়ে৷ সফরসঙ্গী আমার বৃদ্ধ বাবা-মা। চিকিৎসার ব্যাপারে আমার আগ্রহ কম ছিল। আমি আগ্রহী ছিলাম বিদেশ ভ্রমণে।

চেন্নাইয়ে গিয়ে হোটেলে থাকা শুরু করলাম। সমস্যা বাঁধলো খাবার নিয়ে। চেন্নাইয়ের রন্ধনপ্রণালী আমার মনঃপূত হলো না। সব খাবারেই একটা কটু গন্ধ। অগত্যা বাইরে খাওয়ার চিন্তা বাদ দিতে হলো। হোটেল ছেড়ে বাসা ভাড়া করা হলো। রান্নার সরঞ্জামের ব্যবস্থা করা হলো। আম্মুর ওপর পড়লো রান্নার গুরুদায়িত্ব।

চেন্নাইয়ের Apollo Proton Cancer Center এ গেলাম চিকিৎসার জন্য। আমার অনকোলজিস্টের নাম সুজিত কুমার মুলাপালি। অমায়িক ব্যক্তি। প্রথম সাক্ষাতেই আমাদের ২০ মিনিট আলাপ হলো। বলা বাহুল্য, ভদ্রলোক ইংলিশে ফ্লুয়েন্ট। অ্যাকসেন্টও বোঝা যায়। তার সাথে আলাপ করতে আমার তেমন সমস্যা হলো না। ডাক্তার আমাকে বললেন FAPI PET CT Scan নামক টেস্ট করাতে (এই টেস্ট বাংলাদেশে হয় না)। রিপোর্ট থেকে জানা গেল পাকস্থলী ও পেরিটোনিয়াম ছাড়াও লিম্ফ নোডেও ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছে।

তবে ডাক্তার ট্রিটমেন্টের ধারা তেমন পরিবর্তন করলেন না। একই ট্রিটমেন্ট চালিয়ে যেতে বললেন। আরো ৩ সাইকেল কেমো নেওয়ার পর আরেকবার স্ক্যান করতে বললেন। দেশে ফিরে আমি তাই করলাম।

লাস্ট কেমো নেওয়ার পর আবার শরীর খারাপ হতে শুরু করল। ক্ষুধা কমতে কমতে অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে এখন যে কিছুই খেতে পারি না। বমি আবার নিত্যদিনের রুটিনে পরিণত হয়েছে।

ডাক্তারের কথামতো আবার PET Scan করা হলো। (FAPI PET Scan করতে পারলে ভালো হত কিন্তু তা দেশে হয় না) স্ক্যানের রিপোর্টে দেখা গেল ক্যান্সার আর স্প্রেড করেনি। তবে আবার অ্যাবডোমিনাল ক্যাভিটিতে পানি জমেছে। যার কারণেই সাম্প্রতিক বমি হওয়া আর ক্ষুধা না থাকা।

এর অর্থ কি কেমো কাজ করছে না? আমি জানি না। ডাক্তার দেখাতে হবে।

আমি এখন এমন পর্যায়ে আছি যে আমার কি আশা করা উচিত আমি জানি না। কেউ ক্যান্সার নিয়েই বছরের পর বছর বাঁচে। কেউ বেশিদিন সার্ভাইভ করে না। তবে আরোগ্য লাভের আশা করার মত অপ্টিমিস্টিক হতে পারছি না। এখন আপাতত অপেক্ষা ছাড়া কিছু করার নেই। শেষ পর্যন্ত কি হবে? উই ইউল ফাইন্ড আউট টুগেদার।

লিখেছেন: Asif Asmat Nibir

Address

Dhaka

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00
Tuesday 09:00 - 17:00
Wednesday 09:00 - 17:00
Thursday 09:00 - 17:00
Friday 09:00 - 17:00
Saturday 09:00 - 17:00
Sunday 09:00 - 17:00

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Civil Engineering Knowledge posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share