10/04/2019
মিউটেশান বা নামজারি কি?
সম্পত্তি হস্তান্তরের কোন পদ্ধতিতে, উত্তরাধিকারী সূত্রে ও অন্যান্য সূত্রে জমির মালিকানা পরিবর্তন হলে পূর্বতন মালিকের পরির্বতে নতুন মালিকের নাম অন্তর্ভুক্ত করে খতিয়ান সংশোধন করে নতুন মালিকের নাম অন্তর্ভুক্ত করাকে মিউটেশান বা নামজারি বলা হয়। সাধারণত এস এ এ্যান্ড টি আক্টের ১৪৩, ১১৬, ১১৭ ধারার ক্ষমতাবলে কালেক্টর অথবা তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিউটেশান করেন।
সাধারণত একবার জরিপ সমাপ্ত হওয়ার পর আর একবার জরিপ সমাপ্ত না হওয়ার পর্যন্ত মিউটেশাান কার্যক্রম চলমান থাকে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে মিউটেশান বা নামজারি আবেদন করতে হয়। সরকার মিউটেশান বা নামজারি প্রক্রিয়াকে সহজ করার জন্য ২০১০ সালে একটি পরিপত্র জারি করেছেন।
জমি ক্রয় করে দলিল করার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো নামজারি করা। জমাখারিজ, জমা একত্রীকরণ, জমা বিভক্তকরণ ও পর্চা সংক্রান্ত নানা ঝক্কি ঝামেলা। বিষয়টি সম্পর্কে জানানোর লক্ষ্যে আমাদের এবারের আয়োজন নামজারি, জমাখারিক, জমা একত্রীকরণ, জমা বিভক্তিকরণ ও পর্চা।
রেকর্ড সংশোধন:
আমরা জানি কোন এলাকার জরিপকালে ভূমির অবিকল প্রতিরূপ তৈরি করে নকশা অংকন করা হয়। নকশা প্রস্তুতির পর মৌজার সকল জমি বিভিন্ন খতিয়ানে অর্ন্তভূক্ত করে। খতিয়ানে বিভিন্ন মালিকের নাম, দাগ নং, জমির পরিমাণ অর্ন্তভূক্ত থাকে। আমাদের দেশে বৃটিশ আমলে ১৮৮৮ সাল থেকে শুরু হয়ে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত সরাসরি ভূমি জরিপ করে নকশা ও খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়। এই জরিপের মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত খতিয়ানকে সি, এস খতিয়ান বলা হয়। ১৯৫০ সালে জমিদারী অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন জারির পর জমিদারদের পরিবর্তে এ দেশের কৃষকেরা জমির মালিক হয়। তাই সি, এস রেকর্ডেও খতিয়ান সংশোধনপূর্বক কৃষকদের নামে জমির মালিকানা প্রদান ও ভূমির খাজনা নির্ধারণ করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে একটি জরিপ পরিচালনা করা হয়। উক্ত জরিপে নকশা প্রস্তুত না করে সি, এস রেকর্ডের নকশাকে ঠিক রেখে শুধুমাত্র খতিয়ানে মালিকানা পরিবর্তন করা হয়। যদিও কিছু ক্ষেত্রে এ সময়ও সরাসরি মাঠ জরিপ করে খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়েছিল। জমিদারী অধিগ্রহণের জরুরি প্রয়োজনে প্রস্তুতকৃত এ রেকর্ডকে বলা হয় এস, এ রেকর্ড। এস, এ রেকর্ড প্রস্তুতের জন্য জমিদারী অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০-এর অধীনে প্রণীত ১৯৫৪ সালের প্রজাস্বত্ব বিধিমালার আলোকে এস, এ রেকর্ড প্রস্তুত করা হয়। এ রেকর্ড হাতে লেখা।
প্রতিনিয়ত সম্পত্তি হস্তান্তরে বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তন হচ্ছে। তাই পুরাতন মালিকদের পরিবর্তে নতুন মালিকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে রেকর্ড সংশোধন করার প্রয়োজন দেখা দেয়। জমিদারী অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০-এর ১৪৩ ধারার আওতায় তাৎক্ষণিকভাবে রেকর্ড সংশোধন করার ক্ষমতা কালেক্টর তথা জেলা প্রশাসক ও তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার (ভূমি) গণকে প্রদান করা হয়েছে। আবার ভূমির প্রতিরুপ ও আইলের ব্যাপক পরিবর্তন হলে সম্পূর্ণ নতুনভাবে রেকর্ড করার ক্ষমতা জমিদারী অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ এর ১৪৪ ধারায় প্রদান করা হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর এ ধরনের জরিপ পরিচালনা করে। এ বিষয়ে জরিপ অধ্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। এক্ষণে জমিদারী অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০-এর ১৪৩ ধারা আওতায় তাৎক্ষণিকভাবে রেকর্ড সংশোধন করার বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করা হবে।
সম্পত্তি হস্তান্তরের কোন পদ্ধতিতে, উত্তরাধিকারী সূত্রে ও অন্যান্য সূত্রে জমির মালিকানা পরিবর্তন হলে পূর্বতন মালিকের পরিবর্তে নতুন মালিকের নাম অন্তর্ভুক্ত করে খতিয়ান সংশোধন করাকে রেকর্ড সংশোধন বলা হয়। সাধারণত এস এ এ্যান্ড টি অ্যাক্টের ১৪৩, ১১৬, ১১৭ ধারা ক্ষমতাবলে কালেক্টর অথবা তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেকর্ড সংশোধন করে। সাধারণত একবার জরিপ সমাপ্ত হওয়ার পর আর একবার জরিপ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত রেকর্ড সংশোধন কার্যক্রম চলমান থাকে। এস এ অ্যান্ড টি অ্যাক্টের ১৪৩ ধারায় বিধান অনুসারে কালেক্টর নির্ধারিত পদ্ধতিতে করণিক ভুলত্রুটি সংশোধনসহ নিম্নোক্ত কারণে রেকর্ড সংশোধন করবেন:
(ক) হস্তান্তর বা উত্তরাধিকারের ফলে নাম খারিজ
(খ) জোতের উপ-বিভাগ, সংযুক্তকরণ বা একত্রীকরণ
(গ) সরকার কর্র্তৃক ক্রয়কৃত জমি বা জোতের নতুন বন্দোবস্ত
(ঘ) জমি পরিত্যাগ বা বিলুপ্তি বা অর্জনের কালে খাজনা মওকুফ
রেকর্ড সংশোধনের ক্ষেত্রসমূহ:
এস এ অ্যান্ড টি অ্যাক্টের ১৪৩ ধারা বিধানসহ নিম্নোক্ত কারণে রেকর্ড সংশোধন করার প্রয়োজন হয়। রেকর্ড সংশোধনের আওতায় নিনিম্নোক্ত কারণে নামজারি ক্ষেত্রের উদ্ভব হয়:
১. ভূমি মালিকের মৃত্যুতে নামজারি বা উত্তরাধিকারণের নামে নামজারি।
২. রেজিস্ট্রি দলিল মূলে জমি হস্তান্তর ও নামজারি।
৩. খাজান অনাদায়ে জমি বিক্রি ও তৎসংশ্লিষ্ট নামজারি।
৪. স্বত্ব মামলার রায়/ডিক্রী মূলে নামজারি।
৫. এল, এ কেসের আওতায় নামজারি।
৬. খাস খতিয়ানভুক্তকরণের ফলে নামজারি।
৭. সরকার কর্তৃক ক্রয়কৃত বা অন্য কোন খাসজমি বন্দোবস্তির কারণে নামজারি।
৮. পরিত্যক্ত বা পয়স্তিজনিত কারণে রেকর্ড সংশোধন।
৯. সমবায় সমিতির জমির ক্ষেত্রে নামজারি।
১০. কবলা, গিফট ও উইল এর ক্ষেত্রে নামজারি।
১১. বিনিময় মামলার সম্পত্তি ক্ষেত্রে নামজারি।