13/08/2026
নিম্নোক্ত কারণগুলির সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত দিনাজপুর পৌরসভায় কোনো পাবলিক প্রতিনিধি ইলেকশন হওয়ার প্রয়োজন নাই। প্রশাসকই পৌরসভা পরিচালনা করুক।
পৌরসভার মূল উন্নয়ন হয় আর্থিক উন্নয়নের উপর। আর্থিক উন্নয়ন নির্ভর করে পৌরসভার সম্পত্তি ও ভালো কাজের উপর। এই সম্পত্তি ও ভালো কাজের জন্য প্রযুক্তির প্রয়োজন। আর এই প্রযুক্তি আমার কাছে ছাড়া আর কারো কাছে নাই। প্রযুক্তি দিয়ে কখনো খারাপ কাজ করা সম্ভব না। কিন্তু পৌরসভার চেয়ারে অজ্ঞ মেয়র ও কিছু দূর্নীতিগ্রস্থ স্টাফ বসে থাকলে তাহলে প্রযুক্তি কোন চেয়ারে বসে পৌরসভার উন্নয়ন করবে? এই ব্যাপারে প্রযুক্তির জন্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ থাকলেও পৌরসভায় সেটা এভয়েড করা হয়।
পৌরসম্পত্তি রক্ষার জন্য চাকরির শুরু থেকেই আমি সকল CS ম্যাপ, ল্যান্ড রেজিস্ট্রার সবকিছু কম্পিউটারাইজড করে ফেলি এবং জমির অবস্থান, পরিমাপ সঠিকভাবে করার জন্য সফটওয়ার তৈরি করি। পরবর্তীতে BS ম্যাপও কম্পিউটারাইজড করে ফেলি। এইসব কাজ আমি মহসীন ও লাবু চেয়ারম্যানের আমলে প্রায় ৭ বছর ধরে সুসম্পন্ন করি। ২০০৪ সালে ছুটু চেয়ারম্যান ৩০ মে ক্ষমতায় আসার পর পৌরসভায় আমার কম্পিউটারে রক্ষিত উপরোক্ত সকল প্রোগ্রাম ক্রাশ করে ফেলে এবং আমার অফিস রুমে তালা দিয়ে আমাকে ৪ মাস ১০ দিন অফিস করতে দেয়নি। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয় বিষয়টি অবগত হওয়ার পর আমাকে ডোমার পৌরসভায় এসিস্টেন্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে বদলি করে দেয়। তৎকালীন ছুটু চেয়ারম্যান দিনাজপুর পৌরসভা থেকে আমার সার্ভিস বুক, প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্রাচুইটি কিছুই দিনাজপুর পৌরসভা থেকে ডোমার পৌরসভায় প্রেরণ করে নাই। এই অবস্থায় আমাকে পীরগঞ্জ, পার্বতীপুর, হাকিমপুর পৌরসভায় চাকরি করে সর্বশেষে ২০১৬ সালে দিনাজপুর পৌরসভায় চাকরি করি এবং পরবর্তীতে দিনাজপুর পৌরসভা থেকে রিটায়ার্ড করি। উপরোক্ত ডকুমেন্টস না পাঠানোর কারণে আমার অন্যান্য পৌরসভার চাকরিকালীন প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্রাচুইটির টাকাগুলি দিনাজপুর পৌরসভায় দেয়নি। ফলে আমার প্রায় ১৮ লাখ টাকা ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। পৌরসভার ভালো করতে যায় আমার এই ক্ষতির দায়ভার কে নিবে?
এই দীর্ঘ সময় আমার অনুপস্থিতিতে দিনাজপুর পৌরসভার ম্যাক্সিমাম সম্পতি ছুটু চেয়ারম্যান ও জাহাঙ্গীর মেয়রের আমলে কতিপয় স্টাফ যেমন - সহকারী প্রকৌশলী হুদা, মতি, উপসহকারী প্রকৌশলী সজল, ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট মোস্তাফিজুর রহমান সহ অনেক স্টাফ পৌরসভার সম্পত্তিগুলিতে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে পাবলিককে প্লান পাস করে দেওয়া, পৌরসভার সম্পত্তি মানুষকে লিখে দেওয়া, বিভিন্ন ভাবে জমিগুলি লুটপাট করে আর্থিকভাবে বিশাল লাভবান হয়েছে। যেমন SAE সজল কুমার মন্ডল দিনাজপুর পৌরসভার সম্পত্তি বালা পুকুরের জমিতে প্রশান্ত নামের এক ব্যক্তিতে প্লান পাস করে দিয়েছে যাহাতে বর্তমানে প্রশান্ত বহুতল বাড়ি করে আছে।
ছুটু চেয়ারম্যান মাতাসাগরের জমিটি যার মূল্য বর্তমানে ৩০০ কোটি টাকার উপর, ভুয়া মালিকানা তৈরি করে আত্মসাৎ করতে গিয়েছিলো, পরবর্তীতে জমিটি পৌরসভার অনুকূলে রাখা হইয়াছে। মহসীন চেয়ারম্যানের আমলে 9 district project এর ১০ কোটি টাকার মধ্যে ২ কোটি টাকার পাইপলাইন বেঁচে গেয়েছিলো। ডিজাইন সংশোধনের আমি এটা করেছিলাম এবং শহরের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় এলাকার রাস্তায় পাইপগুলি স্থাপন করেছিলাম। তাতে পৌরসভার পানি ডিপার্টমেন্ট থেকে আয়ের উৎস বেড়ে গিয়েছিলো। আমার অনুপস্থিতিতে ছুটু চেয়ারম্যান ও মতি ঢাকা থেকে আসা পানির লাইনের প্রজেক্টের কাজ না করে আমার উক্ত ২ কোটি টাকার পানির লাইন তাদের প্রজেক্টের কাজ দেখায় সবটাকা লুটপাট করেছে।
কার্য সহকারী মোস্তাফিজুর রহমান জাহাঙ্গীর মেয়রের আমলে দিনাজপুর পৌরসভার বাহাদুর বাজার আবুল পাটোয়ারীর দোকানের পশ্চিমে পাহাড়পুর মৌজার CS ২২৮ দাগে ২৩.৭৫ শতক জমির মধ্যে ৬ শতক জমি জাহাঙ্গীর মেয়রের সাক্ষরে ২০১৫ সালে মির্জা পাটোয়ারীর মালিকানায় লিখে দেয় এবং উপরোক্ত সজল ও মতি ইঞ্জিনিয়ার সেই জমির উপর প্লানও পাস করে দেয় এবং এই প্লানের উপর জনতা ব্যাংকের ম্যানেজার ফকরুলের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে প্রায় ২০ কোটি টাকা লোন নিয়ে বিভিন্ন প্রকল্প তৈরী করিয়াছে। মোস্তাফিজুর রহমান নিজেও ভাগের টাকা দিয়ে ৫ তলা বাড়ির ৩ তলা তৈরি করিয়াছে। উপরোক্ত খতিয়ানের জমিটি এখন পৌরসভায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তারমানে এই জমির টাকার ভাগের সাথে সবাই জড়িত।
নিচে প্রত্যয়ন পত্র ও প্রকল্পের ছবি দেওয়া হলো:
এইভাবে অনেক লুটপাটের ডকুমেন্ট ছবিসহ আমার কাছে সংরক্ষিত আছে কিন্তু ফেসবুকে এতগুলি দেওয়া সম্ভব না বলে এইটুকু দিয়ে আপনাদেরকে বিষয়গুলি নিশ্চিত করলাম। পৌরসভায় যতগুলি চেয়ারম্যান এসেছে সকলেই ব্যক্তি স্বার্থের জন্য এসেছে, পৌরসভা বা পৌরবাসীর কোনো উপকারের জন্য আসেনি। যতটুকু উপকার হয়েছে তা প্রসাশকগণের মাধ্যমে। পৌরসভার কোনো স্টাফ প্রসাশককে কোনো সাহায্যও করেনি। মাস্টাররোল সার্ভেয়ার রিয়াজুল তার ব্যক্তিগত ইনকামের সাপেক্ষে পৌরসভার হয়ে পাব্লিক কাজ করে অন্যথায় পাব্লিককে ঘুরিয়ে দেয়। তাতে পৌরসভার সার্ভের মাধ্যমে ইনকাম একেবারে তলায় চলে গিয়েছে।
পৌরবাসীর ন্যায্য হক, সেবা ও পৌরসভাকে রক্ষার জন্য আমি সরকারের, লোকাল প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করতেছি। অনুগ্রহ করে পোস্টটি বেশি বেশি করে শেয়ার করে দেশ ও জাতির প্রতিটি মানুষকে জানিয়ে দিন। বিশদ জানার জন্য আমার মোবাইল / WhatsApp নম্বর - 01719204757 এ যোগাযোগ করুন।