28/12/2024
বোরো ধানের বীজতলার পরিচর্যা কিভাবে করবেন?
✅শৈত্য প্রবাহের সময় অতিরিক্ত ঠান্ডা ও কুয়াশায় বীজতলা স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢেকে দিতে হবে।
👉বীজতলায় ২-৩ সেন্টিমিটার পানি ধরে রাখতে হবে, এক্ষেত্রে অগভীর নলকূপ বা নলকুপের পানি ব্যবহার করা ভালো। এক্ষেত্রে পুকুর বা কুয়ার পানি না দেওয়াই উত্তম।
👉অধিক শীত হলে বীজতলায় সন্ধ্যায় পানি দিয়ে সকালে পানি ছেড়ে দিতে হবে। পুনরায় সেচ দিতে হবে।
👉দীর্ঘ সময় ধরে চলা শৈত্য প্রবাহ চলতে থাকলে সেখানে দিনে এবং রাতে সবসময় পলিথিন দিয়ে চারা ঢেকে রাখতে হবে এবং বীজতলার উভয় পার্শ্বে পলিথিন আংশিক খোলা রাখতে হবে।
👉প্রতিদিন সকালে জমাকৃত শিশির দড়ি/রশি টেনে ঝরিয়ে দিতে হবে।
👉অতিরিক্ত ঠান্ডায় তাপমাত্রা ধরে রাখার জন্য বীজতলায় ছাই ছিটানো যেতে পারে।
➡️বীজতলার চারা যদি হলুদ হয়ে যায় তাহলে বীজ বপনের দুই সপ্তাহ পরে প্রতি শতক বীজতলার জমিতে ৩০০ গ্রাম হারে ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে।
🔷🔷ইউরিয়া প্রয়োগের পরও চারা সবুজ না হলে প্রতি শতক জমিতে ৫০০ গ্রাম হারে জিপসাম সার প্রয়োগ করতে হবে।
অথবা
সালফার জাতীয়
থিয়োভিট ৮০ ডাব্লিউডিজি
মনোভিট ৮০ ডাব্লিউডিজি
গেইভেট ৮০ ডাব্লিউডিজি
কুমুলাস ৮০ ডাব্লিউডিজি
যে কোন একটি
➡️বীজতলার চারার গোড়া পচা বা চারা ঝলসানো রোগ দেখা গেলে করণীয়:
👉এজক্সিস্ট্রবিন+সিপ্রোকোনাজল গ্রুপের ছত্রাকনাশক
যেমন-
কারিশমা ২৮ এসসি/
তারেদ ২৮ এসসি/
নাভারা ২৮ এসসি যে কোন একটি ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে পারেন
অথবা
👉এজক্সিস্ট্রবিন+ডাইফেনোকোনাজল গ্রুপের ছত্রাকনাশক
এমিস্টার টপ ৩২৫ এসসি
অক্সিফেন ৩২.৫ এসসি
এমিস্কোর ৩২.৫ এসসি
যে কোন একটি ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানি ০.৫-১ মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে পারেন অথবা
👉মেনকোজের গ্রুপের ছত্রাকনাশক
এগ্রিজেব ৮০ ডাব্লিউ পি
টাইকোজেব ৮০ ডাব্লিউপি
কাফা ৮০ ডাব্লিউ পি
নেকজেব ৮০ ডাব্লিউ পি
নেমিস্পোর ৮০ ডাব্লিউ পি যে কোন একটি ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে পারেন।
➡️বীজতলা পাতাঝলসানো রোগে আক্রান্ত হলে সকালে রশি টেনে কুয়াশার পানি ফেলে দিয়ে তারপর প্রতি শতাংশ বীজতলার জন্য ৫০ গ্রাম হারে পটাশ সার দিতে হবে।
👉মনে রাখতে হবে,
এই সময় ইউরিয়া সারের উপরি প্রয়োগ বন্ধ রেখে সেচের পানি বের করে দিতে হবে। পুনরায় এক সপ্তাহ পর সেচ দিতে হবে।
➡️জমিতে রোপণের জন্য কমপক্ষে ৩৫-৪৫ দিনের চারা ব্যবহার করতে হবে। এ বয়সের চারা রোপণ করলে শীতে চারার মৃত্যুর হার কমে।
➡️চারা রোপণকালে শৈত্য প্রবাহ শুরু হলে কয়েকদিন দেরি করে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হলে চারা রোপণ করতে হবে। তাছাড়া জমিতে ৫-৭ সেন্টিমিটার পানি ধরে রাখতে হবে।
➡️বীজতলা থেকে চারা উত্তোলনের এক সপ্তাহ আগে ক্লোরোপাইরিফস গ্রুপের কীটনাশক সাথে কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক বা মেনকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক স্প্রে করা যেতে পারে এতে করে বীজতলার রোগবালাই মুক্ত চারা মুল জমিতে রোপন করা যায়।
👉মনে রাখবেন নিজে নিজেই বিশ তারা ভালোভাবে পরিদর্শন করুন এর সমস্যাগুলো খুঁজে বের করুন।
👉কৃষি বিষয়ে প্রয়োজন তথ্য পেতে নিকটস্থ উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করুন অথবা আমাদের সাথেই থাকুন।