10/05/2022
ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর (রা.) (Hazrat Umar R.A.)। ৫৮৩ খিস্টাব্দে তিনি কুরাইশ বংশের বিখ্যাত আদ্দি গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের পর মা-বাবা তাঁকে ‘হাফস’ বলে ডাক্তেন। হাফসের প্রকৃত নাম উমর। ‘ফারুক’ তাঁর গুণবাচক নাম। উমর (রা.) এর পিতা খাত্তাব কুরাইশ বংশের একজন বিখ্যাত লোক ছিলেন। উমর (রা.) এর মাতার নাম হানতামা। তিনি ছিলেন হিসাম ইবনে মুগিরার কন্যা। মুগিরা একজন নামকরা সেনাপিতি ছিলেন।
হযরত উমর (রা.) শিক্ষা-দীক্ষায় বেশ অগ্রসর ছিলেন। তিনি কবিতা লেখায় পারদর্শী ছিলেন। কুস্তিবিদ্যায় তিনি ছিলেন অদ্বিতীয়। কুরআন ও হাদিসের জ্ঞানে হযরত উমর (রা.) এর ছিল অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল। ফেকাহ জ্ঞানেও তাঁর সমকক্ষ কেউ ছিল না।
👉👉👉হযরত ওমর (রাঃ) সম্পর্কে আরো কিছু অজানা তথ্য👈👈👈
এক. হযরত ওমর (রা.) ছিলেন তৎকালীন আরবের গুটিকয়েক শিক্ষিত লোকদের মধ্যে অন্যতম। সমগ্র আরবে স্বল্প যে কয়জন লোক অক্ষরজ্ঞানের অধিকারী ছিল, হযরত ওমর (রা.) ছিলেন তাদের মধ্যে একজন।
দুই. যৌবনে হযরত ওমর (রা.) কুস্তিগীর, মল্লযোদ্ধা এবং বক্তা হিসেবে খ্যাত ছিলেন।
তিন. হযরত ওমর (রা.) এর উৎসাহেই রাসূল (সা.) কাবার চত্ত্বরে মুসলমানদের নিয়ে জাময়াতে নামায আদায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং এর মাধ্যমে মুসলমানরা প্রথমবারের মত মক্কায় প্রকাশ্যে নামায আদায় করে।
চার. উমরের হিজরাত এ অন্যান্যদের হিজরাতের মধ্যে একটা বিশেষ পার্থক্য ছিল। অন্যদের হিজরাত ছিল চুপে চুপে। সকলের অগোচরে। আর উমরের হিজরাত ছিল প্রকাশ্য। তার মধ্যে ছিল কুরাইশদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ও বিদ্রোহের সুর। মক্কা থেকে মদিনায় যাত্রার পুর্বে তিনি প্রথমে কা’বা তাওয়াফ করলেন। তারপর কুরাইশদের আড্ডায় গিয়ে তিনি ঘোষনা করলেন, আমি মদিনা চলছি। কেউঋ যদি তার মাকে পুত্র শোক দিতে চায় সে যেন এ উপত্যকার অপর প্রান্তে আমার মুখোমুখি হয়। এমন একটি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি মদীনার পথ ধরলেন।কিন্ত কেউ এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণের দুঃসাহস করল না।
পাঁচ. নামাযের জন্য আযান দেওয়ার ব্যবস্থা হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ (রা.) এবং হযরত ওমর (রা.) এর স্বপ্নের ভিত্তিতেই গ্রহণ করা হয়।
ছয়. হযরত আবু বকর (রা.) হযরত ওমর (রা.) এর পরামর্শেই প্রথম কুরআন সংকলনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং এই লক্ষ্যে হযরত যায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) এর নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেন।
সাত. মুসলিম খিলাফতের সচিবালয়, বাইতুল মাল (কোষাগার), সেনানিবাস, প্রাদেশিক শাসন ও বিচারব্যবস্থা ওমর (রা.) প্রথম প্রবর্তন করেন। এছাড়া মুসলিম মুদ্রা ব্যবস্থা এবং হিজরী ক্যালেন্ডারের প্রবর্তন তার হাত ধরেই সম্পন্ন হয়।
আট. তাবুক অভিযানের সময় রাসুল (সা) এর আবেদনে সাড়া দিয়ে হযরত উমর (রা) তাঁর মোট সম্পদের অর্ধেক রাসুল (সা) এর হাতে তুলে দেন।
নয়. রাসুল (সা) এর ইন্তিকালের খবর শুনে হযরত উমর কিছুক্ষন স্তম্ভিত হয়ে বসে থাকেন। তারপর মসজিদে নববীর সামনে গিয়ে তরবারী কষমুক্ত করে ঘোষনা দেন, যে বলবে আল্লাহর রাসুল ইন্তেকাল করেছেন, আমি তার মাথা দ্বিখন্ডিত করে ফেলবো। এ ঘটনা থেকে রাসুল (সা) এর এর প্রতি উমরের ভক্তি ও ভালবাসার পরিমাণ সহজেই অনুমান করা যায়।
দশ. হুদাইবিয়ার সন্ধির শর্তগুলো বাহ্য দৃষ্টিতে মুসলমানদের জন্য অপমানজনক মনে হলো। উমর উত্তেজিত হয়ে উঠলেন। প্রথমে আবু বকর পরে রাসুল (সা) এর নিকট এ সন্ধির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালেন। রাসুল (সা) বললেনঃ আমি আল্লাহর রাসুল । আল্লাহর নির্দেশ ব্যতিত কোন কাজ আমি করিনে। উমর শান্ত ও অনুতপ্ত হলেন। নফল রোযা রেখে, নামাজ পড়ে, গোলাম আযাদ করে এবং দান খয়রাত করে এ গোস্তাখীর কাফ্ফারা আদায় করলেন।