12/09/2018
#ছাগল
#ভুমিকাঃ
অল্প মূলধন বিনিয়োগ এবং দ্রুত লাভ। সাদাসিধে ও ছোটো চালাঘরই যথেষ্ট। খোঁয়াড়ে রেখে(মাঠে না চরিয়ে) পালন করা লাভজনক। ছাগলের উচ্চ উর্বরতা হার
সারা বছর ব্যাপী কাজ। মাংস চর্বিহীন এবং কম মেদযুক্ত ও সকলেই পছন্দ করে। যে কোনো সময়ে বিক্রি করা ও টাকা পাওয়া যেতে পারে।
কোন জাতটি আপনার জন্য সঠিক?
#যমুনাপারি
মোটামুটি উঁচু জন্তু
জোরালো বাঁকযুক্ত খাড়া বা রোমান নাক এবং লম্বা ঝোলা কান থাকে যা পূর্ণবয়স্ক যমুনাপারির ক্ষেত্রে প্রায় ১২ ইঞ্চি লম্বা হয়।
পাঁঠার ওজন প্রায় ৬৫-৮৬ কেজি এবং ছাগলীর ওজন প্রায় ৪৫-৬০ কেজি
প্রতি প্রসবে একটি ছানা
ছয় মাস বয়স্ক ছানার ওজন প্রায় ১৫ কেজি
দুধ উৎপাদন দৈনিক প্রায় ২-২.৫ লিটার।
#তেলিচেরি
ছাগলগুলি সাদা, বাদামী ও কালো রঙের হয়
প্রতি প্রসবে ২-৩ টি ছানা হয়
পাঁঠার ওজন প্রায় ৪০-৫০ কেজি এবং ছাগলীর ওজন প্রায় ৩০ কেজি
#বোয়ার
সারা পৃথিবী জুড়ে মাংসের জন্য পালন করা হয়
বৃদ্ধির হার খুব দ্রুত
পাঁঠার ওজন প্রায় ১১০-১৩৫ এবং ছাগলীর ওজন প্রায় ৯০-১০০ কেজি।
৯০ দিন বয়সে ছানার ওজন প্রায় ২০-৩০ কেজি হয়
#প্রজননের জন্য ছাগল নির্বাচন
#ছাগলী
প্রতি প্রসবে ২-৩ টি ছানা হওয়া উচিত
৬-৯ মাসে পূর্ণতা প্রাপ্ত হওয়া উচিত।
#পাঁঠা
উঁচু, চওড়া ছাতি ও ছিপছিপে শরীর
৯-১২ মাস বয়সে পূর্ণতা পায়
৬ মাস বয়সে ভালো ওজন হয়েছে এমন ছানা বাছা উচিত
২-৩ টি ছানা হয় এমন মায়ের বাচ্চা বাছতে হবে।
#খাদ্য
চরানো ও সেই সঙ্গে ঘনখাদ্য খাওয়ালে সবথেকে ভালো বাড় পাওয়া যায়
প্রোটীন সমৃদ্ধ সবুজ পশুখাদ্য খাওয়ানো যেমন অ্যাকেসিয়া, লিউসার্ন ও শিমলা আলু (ক্যাসাভা) যেগুলি খাবারে নাইট্রোজেনেরও গুরুত্বপূর্ণ উৎস ৷
চাষীরা খামারের ধার দিয়ে বকফুল, সুবাবুল ও গ্ল্যারাইসিডিয়া গাছ লাগাতে পারেন যা সবুজ পশুখাদ্য হিসাবে ব্যবহার করা যাবে।
এক একর জমিতে চাষ করা পশুখাদ্য ও গাছ ১৫-৩০ টি ছাগলের খাবার জোগানোর জন্য পর্যাপ্ত
গাঢ় খাদ্য নিম্নলিখিতভাবে তৈরি করা যেতে পারে৷
#ছাগল ছানার বরাদ্দ খাদ্য ঃ
ভুট্টা ৩৭, ডাল ১৫, খইল ২৫, গমেরভূষি ২০, খনিজমিশ্রন ২.৫, লবন ০.৫ =১০০।
#বাড়ন্ত অবস্থার বরাদ্দ খাদ্য ঃ
ভুট্টা ১৫, ডাল ৩৭, খইল ১০, গমেরভূষি ৩৫, খনিজমিশ্রন ২, লবন ১ =১০০।
#দুধ দেওয়া ছাগলীর বরাদ্দ খাদ্য ঃ
ভুট্টা ৫২, খইল ৮, গমেরভূষি ৩৭, খনিজমিশ্রন ২, লবন ১ =১০০।
#গর্ভবতী ছাগলীর বরাদ্দ খাদ্য ঃ
ভুট্টা ৩৫, খইল ২০, গমেরভুষি ৪২, খনিজমিশ্রণ ২,
লবণ ১, মোট ১০০ গ্রাম।
#প্রথম ১০ সপ্তাহে ছানাদের ৫০-১০০ গ্রাম ঘন খাদ্য দিতে হবে ৷
#বাড়ন্ত ছানাদের ৩-১০ মাস পর্যন্ত দৈনিক ১০০ -১৫০ গ্রাম ঘন খাদ্য দিতে হবে ৷
#গর্ভবতী ছাগলদের দৈনিক প্রায় ২০০ গ্রাম পর্যন্ত ঘন খাদ্য দিতে পারা যায়৷
1 কেজি দুধ দেওয়া দুধেল ছাগলদের দৈনিক ৩০০ গ্রাম ঘন খাদ্য দেওয়া হয়৷
ছাগলের খোঁয়াড়ে তামা সমৃদ্ধ (৯৫০-১২৫০ পিপিএম) খনিজের খণ্ড রাখা উচিত৷
#পাঠা
পাঠাকে প্রতিদিন অন্য খাবারের পাশাপাশি ছোলার ভুষি/১০০ গ্রাম অংকুরিত ছোলা খাওয়াতে হবে।
#প্রজনন
লাভদায়ক ছাগল চাষের জন্য ২ বছরে তিনটি প্রসব হওয়া দরকার।
প্রজননের জন্য দ্রুত বর্ধনশীল ও বড় আকারের ছাগল ব্যবহার করতে হবে৷
প্রজননের জন্য এক বছর বয়সের ছাগলী ছাগল ব্যবহার করতে হবে৷
প্রসবের ৩ মাস পরে ছাগলীদের প্রজনন করাতে হবে, কেবলমাত্র তাহলেই ২ বছরে ৩ টি প্রসব পাওয়া যাবে৷
মোটামুটি প্রতি ১৮ থেকে ২১ দিনে ছাগলের কামোত্তেজনা বা ঋতুকাল আসে এবং এই কামোত্তেজনা ২৪-৭২ ঘণ্টা স্থায়ী হয়৷
কামোত্তেজনার সময়ে ছাগলীরা সরব হয়ে ওঠে এবং কেউ কেউ ব্যথায় আর্তনাদ করার মত খুব জোরে জোরে ডাকতে থাকে ৷ অবিরাম এপাশ ওপাশ ল্যাজ নাড়তে থাকাও কামোত্তেজনার আর একটি লক্ষণ৷ এ ছাড়া, যোনিদ্বার সামান্য ফোলা ও লালচে দেখাবে এবং যোনি থেকে স্রাব হওয়ার দরুণ ল্যাজের চারপাশের এলাকাটা ভেজা-ভেজা ও নোংরা দেখাতে পারে৷ ক্ষিদে কমে যায় ও মূত্রত্যাগ বেড়ে আরো ঘন ঘন হয়৷ কামোত্তেজনার সময়ে একটি ছাগলী পুরুষ ছাগলের মত আরেকটি ছাগলীর উপর আরোহণ করতে পারে বা আরেকটি ছাগলীকে নিজের উপর আরোহণ করতে দিতে পারে৷
ঋতুকালের লক্ষণ দেখা দেওয়ার ১২-১৮ ঘণ্টা পরে ছাগলীদের প্রজনন করানো উচিত।
কোনো কোনো ছাগলীর ঋতুকাল ২-৩ দিন স্থায়ী হয়৷ সুতরাং তাদের আবার পরের দিন প্রজনন করানো উচিত ৷
গর্ভধারণ কাল মোটামুটি ১৪৫-১৫০ দিন, তবে এক সপ্তাহ পর্যন্ত আগে পরে হওয়া খুবই স্বাভাবিক৷
আগে থেকে তৈরি থাকাই ভালো৷
#কৃমিনাশ
প্রজনন করানোর আগে ছাগলীর কৃমিনাশ করানো উচিত৷ কৃমি আক্রান্ত ছাগলরা রোগা ও নিস্তেজ হয়
ছানাদের ২ মাস বয়সে কৃমির ওষুধ দিতে হবে৷ কৃমিদের জীবনচক্র তিন সপ্তাহ ব্যাপী, তাই ৩ মাস বয়সে আবার কৃমি নাশ করার পরামর্শ দেওয়া হয়৷
গর্ভবতী ছাগলীদের প্রসবের ২-৩ সপ্তাহ আগে কৃমিনাশ করাতে হবে৷
গর্ভপাত এড়াতে গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে( ২ মাস পর্যন্ত) ছাগলীদের কৃমিনাশ না করাই উচিত৷
#টিকা
ছানাদের এণ্টারোট্যাক্সেমিয়া ও টিটেনাসের প্রথম ডোজ় ৮ সপ্তাহ বয়সে এবং তারপরে আবার ১২ সপ্তাহ বয়সে দিতে হবে।
ছাগলীদের প্রজননকালের ৪-৬ সপ্তাহ আগে এবং প্রসবের ৪-৬ সপ্তাহ আগে এণ্টারোট্যাক্সেমিয়া ও টিটেনাসের টিকা দিতে হবে৷
পাঁঠাদের বছরে একবার এণ্টারোট্যাক্সেমিয়া ও টিটেনাসের টিকা দিতে হবে৷
#বাসস্থান
1. ডীপ লিটার পদ্ধতিঃ
ভালো হাওযা খেলে এমন একটি ছোটো চালাঘর একটি ছোটো দল পালনের জন্য পর্যাপ্ত৷
লিটারের উচ্চতা অন্ততঃ ৬ সেমি হতে হবে.
লিটার কাঠের গুঁড়ো, ধানের তুঁষ ও চিনাবাদামের খোলা দিয়ে তৈরি হতে পারে৷
খোঁয়াড়ের দুর্গন্ধ এড়ানোর জন্য লিটার মাঝেমাঝেই উলটে-পালটে দিতে হবে৷
প্রতি ২ সপ্তাহে একবার করে লিটার পালটে দিতে হবে৷
প্রতিটি ছাগলের প্রায় ১৫ বর্গ ফুট জায়গা দরকার হয়৷
বাইরের থেকে পরজীবীর উপদ্রব কম করার দিকে যত্ন নিতে হবে৷
একটি পূর্ণবয়স্ক ছাগল বছরে প্রায় এক টন সার উৎপন্ন করে৷
2. উঁচু মাচা পদ্ধতি
মাটি থেকে প্রায় 3-4 ফিট উচ্চতায় কাঠের তক্তা বা তারের জাল বসানো হয়
এই পদ্ধতিতে বাইরের থেকে পরজীবীর উপদ্রব সাধারণতঃ কম হয়
#তত্তাবধান
1. আংশিক নিবিড় পদ্ধতি
যে সব এলাকায় চরানোর জায়গা কম আছে সেখানে ছাগলদের চরানোর পরে নিবিড়ভাবে সবুজ পশুখাদ্য ও ঘনখাদ্য খাওয়ানো যায়।
2. নিবিড় পদ্ধতি
ছাগলদের খোঁয়াড়ে সবুজ পশুখাদ্য ও ঘনখাদ্য খাওয়ানো হয়৷
চরানো হয় না
থাকার জায়গা ডিপ লিটার পদ্ধতিতে হতে পারে বা উঁচু মাচা পদ্ধতিতে হতে পারে।