15/04/2025
গল্প: #পিচ্ছি_বর_VSপিচ্ছি_বউ❤️ [Love❤️Story]
Post By: #গল্প卝Storyツ&
পর্ব: ০১ (এক)⏬⏬⏬⏬
পাশাপাশি আমি আর দিশা এক বিছানায় শুয়ে আছি।।।
ভাবতেই অবাক লাগছে আজ আমার ব্যাচেলার লাইফের ইতি ঘটে গেল।।।
আমি এখন একটা বিবাহিত পুরুষ, সরি বিবাহিত পিচ্চি ছেলে।।।
ইসসস আম্মু আব্বু কেন যে এতো তাড়াতাড়ি আমার বিয়ে দিয়ে দিল কে জানে।মাত্র তো ১০ম শ্রেণি তে উঠলাম।।।।
আর আমার বউ তো আমার থেকেও পিচ্চি মানে বাচ্চা হি হি হি সবে মাত্র জিএসসি পাশ করে ৯ম শ্রেণীতে উঠলো।যাক বিয়েটা হয়েছে ভালোই হয়েছে এই শীতের সয়ম তো কাউকে জরিয়ে ধরে আরামে ঘুমতে পারবো।।।
আরে মনে মনে কথা বলতে গিয়ে তো আমি আপনাদের পরিচয় দিতে ভুলে গেছি।
আমি হলাম বাবা মায়ের একমাত্র আদরের বাদুরে ছেলে আবির মাহমুদ। আর আমার পাশে যে শুয়ে আছে মানে আমার বউ দিশা সেও তার মা বাবার মানে আমার চাচা,চাচির একমাত্র মেয়ে।।।সত্যি বলতে সে আমার চাচাতো বোন।আমরা এক বাসাতেই থাকি।
আজকে আমাদের বিয়ে হয়েছে। ।।।।।
কিহ এতো কম বয়েসে আমার বিয়ে কেন দিলো সেটায় ভাবছেনতো।।।।
তাহলে চলুন একটু ফ্ল্যাস ব্যাকে যায়...........
- আম্মু আমি ছাঁদে যাচ্ছি কবুতর গুলো দেখে আসি।।
- যাচ্ছিস ভালো কথা😏কিন্তু যে কবুতর দেখতে যাচ্ছিস ওই কবুতর মামার বাড়ি গেছে।।
- মানে কিহ কিহ বলতে চাইছো তুমি হ্যা( অন্য দিকে তাকিয়ে)
- আহারে ছোট খোকা কিছুই বুঝেনা।।
- বুঝার মতো কিছু বললে তো বুঝতো। আমি বললাম ছাঁদে যাচ্ছি কবুতর দেখতে আর তুমি বলছে আমার কবুতর নাকি মামার বাড়ি গেছে।( নাদান হয়ে)
- আমি তো ঠিকি বললাম দিশা মামার বাড়ি গেছে।।।।
আমি তো মায়ের কথা শুনে একটা দীর্ঘশ্বাস নিলাম।।।
যাক বাবা আম্মু কিছু বুঝতে পারিনি।আমি যে পাশের বাড়ির ছকিনা কে লাইন মারছি আম্মু সেটা টের পাইনি
ভেবেছে ঐ জল্লাদনি দিশাকে দেখতে ছাদে যাচ্ছি হিহিহি।ওয়েট ওয়েট আম্মু দিশার কথা বললো কেন?এর মানে আম্মু কি আমাকে আর দিশাকে নিয়ে।।
না না এ আমি কি ভাবছি দিশা তো আমার চাচাতো বোন।আগে ঢিল টা ছুরে দেখি নিশানায় লাগে কি না।
- আম্মু তুমি দিশার কথা কেন বললে?(রহস্য জানার জন্য)
- আমি কি কিছু বুঝিনা নাকি।তুই যে সব সময় দিশার পিছনে আঠার মতো লেগে থাকিস সেটা কি আমাদের চোখে পড়ে না।( আম্মু)
তার মানে আমি ঠিক যেটা ভেবেছি সেটায় আম্মু আমাকে আর দিশাকে নিয়ে সন্দেহ করে। আমি তো ভাবি আম্মু আমাকে আর দিশাকে দেখে এতো হাসে কেন?
আম্মু ভাবে আমি দিশাকে পছন্দ করি ধুর আমি 5g পোলা হয়ে এটা বুঝতে এতো লেট করলাম।
আআহহ এই সুযোগটা তো হাতছারা করা যাবে না এবার আমার বদলা নেওয়ার পালা।।।এবার বুঝবে মামুনি থুক্কু ছুটকি আবির কি জিনিস।।।।( মুখে আঙ্গুল দিয়ে ফ্যানের দিকে তাকিয়ে ভাবছি)
-কিরে এতো কি ভাবছিস ছাঁদে যাবিনা।।।
- নাহ আম্মু কিছু না।
আমার কবুতরি যখন নেই তখন ছাদে গিয়ে কি করবো বলো।।।(মন খারাপের অভিনয় করে)
- দেখ এবার আবির কি কি করে( মনে মনে একটা ডংকার হাসি দিয়ে)
[বি দ্র: ডংকারকে চিনেন তো ঐ যে কিরন মালা নাটকের ডংকারের কথা বলছি ]
- তার মানে আমি যেটা ভেবেছিলাম সেটায়!
তুই দিশাকে ভালোবাসিস??? ( আম্মু হাসি মুখে মনে হয় অসকার পাইছে)
- জি আম্মু আমি দিশাকে অনেক লাভ করি শুধু আমি না সেও আমাকে অনেক লাভ করে (তীর তো ছুরলাম নিশানায় লাগলেই কেল্লাফতে)
- আলহামদুলিল্লাহ।। এতো দিনে আমার মনের আশা পূরন হলো।।।। ( আম্মু)
যাহ বাবা আম্মু তো দেখছি খুশিতে পাগল হয়ে গেছে।কিন্তু কেন আমি তো খুশি হওয়ার মতো কোনো সত্য কথা বলিনি।
বিকালে আমি মনের সুখে টিকটক ভিডিও বানালাম।।।রাতে দেখি বাসায় আমার রিলেটিভরা বসে আড্ডা দিচ্ছে তারা আমাকে দেখে হাসাহাসি শুরু করলো মনে হয় আমি কোনো জোকার।।
- আবির তুই কবে এতো বড় হলি রে ( মামাতো ভাই )
- যবে থেকে তুমি ছকিনার বড় বোন ঝরিনার সাথে প্রেম করতা তখন থেকে ( ঠেলা সামলাও আর আসবা আমার বয়স নিয়া কথা বলতে)
আমার কথা শুনে তো সবাই চুপ আর ভাইয়ের বউ মিলি ভাবিতো সেই ডাইনি চোখে ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে আছে।।
আমি গুন গুন করতে করতে আমার রুমে চলে এলাম।।
রুমে এসে তো সেই মাপের একটা শক খাইলাম।ভালো ভাবে একটু রুমের চারেদিকে তাকিয়ে নিলাম। না এটা তো আমার রুমি। কিন্তু এতো সুন্দর ভাবে গোছানো কেন।মনে হয় আজ বাসায় পার্টি হবে তাই আম্মু রুমটা গুছিয়ে রেখে গেছে।।।
আমি ফ্রেস হয়ে ফোনটা বের করে যেই টিকটক ভিডিও গুলো বানাছি বিকেলে সেই গুলো দেখছিলাম।।
-বাহ বেশ ভালোই তো হয়েছে এই বার এই গুলা দিয়া ছকিনাকে প্রোপজ করবো। এর আগে ২৫ বার এই টিকটক ভিডিও দেখিয়ে প্রোপজ করেছি আরো ২৫ বার করবো মানলে মানবে না হলে বলে দিবো আমি ওতো ছ্যাচরা না।।
- আবির এই নে এই গুলা পড়ে নে।।(হিটলার মানে মোর বাপ)
- কি এইগুলা??
- শেরওয়ানি আছে।।( ভারি গলায়)
- আমি এইগুলা পড়ে কি করবো?
এগুলো তো বিয়ের সময় বরেরা পরে।।।।
- আমি কি জানিনা।।।।
আর তোর বিয়ে তাই তো তোকে এসব পড়তে বলছি।।।।
- বিয়ে তাও আবার আমার মতো পিচ্চি ছেলের।হাউ ফানি......( অবাক হয়ে)
-তুই পিচ্চি? এখন বিয়া দিলে কাল বাদ পরশু তুই দুই ছেলের বাপ হবি আর বলিস কি না পিচ্চি।
ধর নে তাড়াতাড়ি পরে বাহিরে আয় তোর জন্য কাজি সাহেব অপেক্ষা করছে।।
- বাবা তোমার মাথা ঠিক আছে তো। কি সব পাগলের মতো কথা বলছো।
- যা বলছি তাই কর এই গুলো পরে নে।আজ তোর আর দিশার বিয়ে!!(আব্বু)
- আমার আর দিশার বিয়ে মানে.........( মুখ টা হা করে)
- কেন অন্য কাউকে আশা করেছিলি নাকি.....( রাগি গলায়)
- আমি এই বিয়ে করতে পারবো না( শেরওয়ানি বিছানায় ছুরে)
- ওকে আমি তোর ২৫০০০ হাজার ফলোয়ারের ফেবু আইডি হ্যাক করার ব্যবস্তা করছি।।
- এইনা নাহ আমি রাজি। আমি বিয়ে করতে রাজি🎷
অতঃপর আমার আর দিশার বিয়েটা হয়ে গেলো।ভাবছিলাম কি আর হলো কি।ভাবছিলাম দিশাকে সবার কাছে ঝারি শুনাবো কিন্তু তা আর হলো কই।যাই হোক বউটা আমার হেব্বি সুন্দর আছে।স্কুলে অনেক ছেলে তাকে লাইন মারার চেষ্টা করে কিন্তু মোর পিচ্ছি বউ কাউকে পাত্তা দাই না।
শুনলেন তো আমার সিঙ্গেল লাইফের বলিদানের কথা এখন বাস্তবে আসুন!
আমার পিচ্ছি বউটাকে মায়েরি পরির লাহান লাগতেছে। নীল বেনারসি তে একদম নীল পরি লাগছে।যদিও পরি কখনো দেখা হয়নি কিন্তু লোকের মুখে অনেক শুনেছি পরি দেখতে অনেক সুন্দর হয় ।ড্রিম লাইটের আলোই তার সাদা মুখ খানি দেখে আমার মনের ভিতর কেমন যানি করছে।
না এবার বাচ্চা বউটার সাথে একটু কথা বলতে হবে।আজকে যে শীত পরেছে মনে হয়না শুধু কম্বল দিয়ে ঠান্ডা মিটবে।
- বউ.......( দিশার একটু কাছে এসে)
-................( কোনো কথা নাই)
- দিশাআআআ( একটু জোরে বললাম)
- কি হলো কি এতো চিল্লানি দিচ্ছিস কেন?আমি কি কানে শুনতে পাইনা।( বিরক্তির সুরে)
- একি তুই আমাকে তুই করে বলছিস কেন।নিজের স্বামীকে কেউ তুই করে কথা বলে ?( বড় মানুষি ভাব নিয়ে)
- দেখ আবির এমনিতেই তোর ওপর আমার মেজাজ খারাপ হয়ে আছে তারওপর তুই এখন উল্টাপাল্টা কথা বলছিস। আমি কিন্তু তোকে কখন কি করে ফেলবো নিজেও জানি না।সো বকর বকর না করে ঘুমিয়ে পর( এক দমে বলে ফেললো দিশা)
- এভাবে কেন বলছিস। আর ভুলে যাস না আজ আমাদের বাসর রাত🙈
- বাসর রাত মা,মানে....কি বলতে চাইছিস তুই(আমার থেকে একটু সরে)
- মানে টা নিশ্চয় তোকে বুঝাতে হবে না ( দিশার পাশে ঘেষে চলে এলাম)
- এই তুই এতো কাছা কাছি এলি কেন।সর বলছি নইলে কিন্তু ভালো হবে না!!( ভয় পেয়ে)
-তুই এই শীতের রাতে এতো ঘামছিস কেন পাগলি।আরে আমি তো এমনিই একটু মজা করলাম ( হাসতো হাসতে)
- শয়তাম,বিলাই,সঝারু,তেলাপোকা, বাদর, হলুমান,
এসব বলেই দিশা আমার বুকে কিল,ঘুষি মারতে লাগলো।
-আরে আরে এভাবে মারলে তো আমি মরে যাবো। আর আমি এতো তাড়াতাড়ি মরলে তো তুই বিধবা হয়ে যাবি!!!
আমার কথা শুনে দিশা মারা বন্ধ করে দিলো।
আমি তাকে একটা হেচকা টান দিয়ে নিজের বুকে নিয়ে এলাম।আমার গরম নিশ্বাস তার ঠান্ডা কপালে গিয়ে পরছে।দিশা কোনো কথা বলছে না শুধু আমার চোখের দিকে তাকিয়ে আছে। আমি তার সাথে তাল মিলিয়ে তার চোখের দিকে তাকাতে লাগলাম।
কাজল কালো দুটো চোখ।অনেক সুন্দর যা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।তার চোখের দিকে তাকিয়ে আমার কেমন একটা অনুভূতি হলো বুঝতে পারলাম না।
- আবির আমায় ছাড়, আমার ঘুম আসছে ( আমার থেকে ছারানোর চেষ্টা করছে)
- থাকনা এমন ভাবে, ভালোই তো লাগছে ( আনমনে)
- দেখ আমরা এখনো ছোট।এসবের এখনো অনেক সময় পরে আছে প্লিজ ছাড়( দিশা)
- প্রমিস তোর অনুমতি ছারা কখনো তোর সাথে কোনো কিছু করবো না।কিন্তু আমি তোকে ঠিক এমন ভাবে জরিয়ে ধরে ঘুম যাব।
- কেন আমাকে জরিয়ে না ধরলে তোর ঘুম আসবে না।(দিশা)
- আমি কি সেটা বলেছি( এখনো জরিয়ে ধরে আছি)
- তাহলে আমাকে জরিয়ে ধরে ঘুম যাবি কেন( দিশা)
- জানিনা না বাট তোকে জরিয়ে ধরেই ঘুম যাবো।।
দিশা যানে আবিরের সাথে বেশি পেচ্যাল পেরে লাভ নেই!!!
- ওকে। বাট একটা কথা মাথায় রাখবি ভুলেও মাথায় উল্টা পাল্টা চিন্তা ভাবনা আনবি না।
- ঠিক আছে।।
যাক বাবা ডাইনিটা অবশেষে রাজি হয়ে গেলো।হাহাহা এবার আরামে ঘুমানো যাবে।এই বিয়েটা করে তাহলে লাভই হলো শীতের সময় গরম থাকার ফ্রি ব্যবস্তা হয়ে গেলো।
( বি দ্র: কেউ খারাপ মাইনডে নিয়েন না। আর এখন কিন্তু শীত নেই শুধু গল্পের রোমান্স বাড়ানোর জন্য শীত এর কথা দেওয়া হয়েছে)।
কিন্ত ডাইনিটাকে জরিয়ে ধরে আছি তো আমার ভিতরে এমন কেন হচ্ছে। কেমন যেন লাগছে খারাপও না আবার ভালো লাগছে এমনটাও বলতে পারবো না।
- ঐ কুত্তা এতো শক্ত করে জরিয়ে ধরে আছিস কেন।আমাকে তোর কোলবালিশ মনে হয় ( রাগি গলায়)
- হুমমমমমমম কোলবালিশই তো।।।
- ঐ কি বললি?(আরো রাগি গলায়)
- আরে আমি বলছি তোর শরীরটা না খুবই নরম, একেবারে তুলোর মতো।
- লুইচ্চা ( আসতে আসতে)
- কিছু বললি🤔
- কই না তো....
- কটকটি ( আসতে আসতে)
- ঐ তুই আমাকে কি বললি রে ( দিশা)
- কই আমি আবার তোকে কি বললাম ( নাদান সেজে)
- আচ্ছা এবার ঘুমা ( দিশা)
-হুমমম ঘুমাবোই তো।আজ কতো দিনের সপ্ন পূরন হলো।কতো রাত সপ্ন দেখছি বউকে জরিয়ে শীতের রাতে ঘুমাবো। (হেসে হেসে)
- আর কিছু দেখিস নি?? ( দিশা)
- হুমমমম দেখেছি।কিন্তু তোকে সেগুলা বলা যাবে না।
- কেন বলা যাবে না? ( দিশা)
- কারন তুই এখনো বাচ্চা( হেসে হেসে বললাম)
-আর তুই কি হু?তুই তো একটা পিচ্চি ছেলে ( দিশা)
- দেখবি এই পিচ্চি ছেলে কি কি করতে পারে???( দিশাকে আরো শক্ত করে জরিয়ে ধরে)
- তুই একটু আগে আমাকে কি প্রমিস করলি মনে নেই। এতো তাড়াতাড়ি ভুলে গেলি..........
🎬🎬🎬চলবে🎬🎬🎬
প্রিয় বন্ধুগণ,
আবারও ফিরে আসলাম আরেকটি রোমাঞ্চকর গল্প নিয়ে😍 আশা করছি এই গল্পটি আপনাদের অনেক ভালো লাগবে। তবে প্রথম পর্বটি কেমন হয়েছে কমেন্ট বক্সে অবশ্য সবাই জানাবেন।
(বানানে ভুল হলে একটু ধরিয়ে দিবেন)